মনে পড়লে হাসি পায়

ওয়াশরুমের দুঃখ ভুলে আমরা সেটে ফিরলাম

-সিয়াম আহমেদ, অভিনেতা

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুরে পোড়ামন-২ সিনেমার শুটিং। অনেক ভেতরের একটি এলাকা। আশপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। আমাদের শুটিং সেটের একজন জানাল ওয়াশরুমে যাবে। আউটডোর শুটিংয়ে তেমন ঠিকঠাকমতো সবকিছু পাওয়া যায় না। আশপাশে কোথাও ওয়াশরুম নেই। শুটিংয়ের এক জুনিয়র জানালেন, তিনি একটা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করেছেন। সবাই তো হুররে বলে চিৎকার দিলাম, ‘কোথায় ভাই?’ তিনি বললেন, ‘এই পাশেই। এক কিলোমিটার দূরে।’

‘মাত্র এক কিলোমিটার।’

‘হ্যাঁ, মাত্র এক কিলোমিটার। হেঁটে যেতে বেশি সময় লাগবে না। আমি বাড়িওয়ালাকে বলে ম্যানেজ করে এসেছি।’ আমারও ওয়াশরুমে যাওয়াটা জরুরি ছিল। মেয়েরা ভেবেছে তারা ড্রেস পরিবর্তন করতে পারবে ওয়াশরুমে। একটু আরাম আয়েশে ফ্রেশ হতে পারবে। মুখে পানি ঝাঁপটা নিতে পারবে। আমি তাকে বললাম, ‘ভাই, সব ঠিক তো। ওয়াশরুম আছে তো?’

সে এবার খানিকটা বিরক্ত হল, ‘কী সব আবোল-তাবোল বকছেন। আমি নিজে গিয়ে ওয়াশরুম ঠিক করে এসেছি। মিথ্যা বলে আমার কোনো লাভ আছে।’ তার কথা বিশ্বাস হল। সে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল, বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না। আমরা ইউনিটের সবাই ভাবলাম যেহেতু আশপাশে কোনো ওয়াশরুম নেই, যা করার এখনি করে আসি। আমরা সবাই হেঁটে রওনা দিলাম ওয়াশরুমের দিকে।

অনেকটা পথ হেঁটে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওয়াশরুমের কাছে পৌঁছলাম। কিন্তু ওয়াশরুম দেখে তো আমরা হতবাক। চটের বস্তা দিয়ে ঘেরা সে ওয়াশরুম। তার ওপর একপাশে চাটাই অন্যপাশে ফাঁকা! যে পাশে চটের বস্তা দেয়া সেটা আবার বাতাসে উড়ছে দারুণ ছন্দে। আমি বললাম, ‘এইটা ওয়াশরুম! আগে বর্ণনা দিবে না! এক কিলোমিটার হেঁটে এটার জন্য এসেছি! আসলে সেটা ওয়াশরুমও নয়। ছোট একটা টং ঘর। নড়বড়ে বাঁশ। দেখেই হাসি পেয়েছিল। কি আর করা, ওয়াশরুমের দুঃখ ভুলে আমরা সেটে ফিরলাম।

বৈশাখে অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা

ঢাবিতে পড়ার সময় বেশ আনন্দ করতাম। বৈশাখ এলে মেতে উঠতাম হৈ-হুল্লোড়ে। আগে থেকেই পরিকল্পনা করতাম বৈশাখে কী করব। নানা রকম বুদ্ধি করে রাখতাম। বর্ষবরণ প্রোগ্রাম হতো আমাদের ক্যাম্পাসে। অনেক ভিড়। এই ভিড়ের মধ্যে আমরাও মিশে যেতাম। তো বর্ষবরণের প্রোগ্রাম দেখার জন্য আমরা উন্মাদ থাকতাম সেসময়। স্টেজে গান হতো। খুব চেষ্টা করতাম কাছে গিয়ে শুনতে। এত ভিড় যে যাওয়া সম্ভব হতো না। দূরে থেকেই গান শুনতাম। আর উপভোগ করতাম। একবার এক প্রিয় সিঙ্গার আসার কথা। আমি ভিড়ের মধ্যে নিজেকে ঠেলেঠুলে সামনে এলাম। গরমে অবস্থা কাহিল। তারপরও মনে আনন্দ- প্রিয় শিল্পীর গান শুনব খুব কাছ থেকে। হাত ছুঁয়ে দিব তার। তার জন্য অপেক্ষা করছি। কখন সে আসবে। স্টেজ মাতাবে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর সেই প্রিয় শিল্পী আর এলেন না। এদিকে ঘেমে শরীর কাহিল। জানতে পারলাম শিল্পী যানজটে আটকা পড়েছেন। পরে আবারও পেছনে ফিরে আসি। আর ঠিক তখনি সাউন্ডবক্সে ঘোষণা এল সেই শিল্পী এসেছেন। আনন্দে চিৎকার দিলাম। কিন্তু সামনে যাওয়ার আর উপায় ছিল না। তার হাত ছোঁয়ার শখও আর পূরণ হল না। মনে মনে ভাবলাম, কেন যে চলে এলাম। সে কথা মনে পড়লে হাসি পায়। এখন তাদের অনেকের সঙ্গে প্রায়ই স্টেজ শো করি।

যা কখনও বলা হয়নি :

* আমার হাসি অনেকটাই রহস্যঘেরা। আমি বেশি হাসলে বুঝতে হবে হয় বেশি রেগে আছি, না হয় বেশি মজা পেয়েছি।

* লন্ডনে এক ক্লোজ বন্ধুর সঙ্গে শপিং করছি। মনের আনন্দে দুজনের সব টাকা খরচ করে ফেলি। কারণ বন্ধুটির সেদিন বেতন হওয়ার কথা ছিল। ক্যাবে করে বাসায় ফিরে দেখি আমাদের কাছে ভাড়া দেয়ার টাকা নেই। কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি সেলারির টাকা জমা হয়নি বন্ধুটির। জানতে পারি সেদিন ব্যাংক বন্ধ। তাই সেলারি অ্যাকাউন্টে যোগ হয়নি। কথাটি মনে পড়লে হাসি পায়। কয়েকশ’ পাউন্ড মার্কেট করলাম আর মাত্র ৭ পাউন্ড ভাড়া দিতে পারিনি।

* ‘বখাটে’ স্বল্পদৈর্ঘ্যতে অভিনয় করেছি। একবার সিলেটে শুটিং শেষে গাড়িতে তেল নিতে গিয়েছি। পাশ থেকে একজন আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘এই দেখ বখাটে সিয়াম!’

অনুলিখন : ফরিদুল ইসলাম নির্জন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×