ভেজালের ছড়াছড়ি

  কাজী মাহমুদুর রহমান ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি দেশের গল্প বলি। দেশটির নাম নাইবা বললাম। চাইলে উগান্ডার নাম বলা যায়। কিন্তু এক উগান্ডার ওপর আর কিছু চাপাতে মন চাইছে না। তো সেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকদের পিএইচডি থিসিসে ব্যাপকভিত্তিক নকলের অভিযোগ। গরু চুরি করলে তাকে যদি গরু চোর বলা যায় তবে থিসিস চুরি করলে তো তাকে থিসিস চোর বলাই যায়! শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষককে চোর বললে মহাপাপ। ওই দেশের সিনেমার গল্প থেকে শুরু করে অনেক কিছুই অন্য দেশের নিুমানের সিনেমার নিুমানের নকল। এমনকি সরকারি অনুদান নিয়ে নির্মিত কিংবা পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমাও ভেজাল থেকে মুক্ত নয়। ওইদেশের সুপারহিট গানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে আরেকজনের কথা ও সুর নকল করে (আসলে চুরি করে) মেরে দেয়ার!

শিক্ষা, সংস্কৃতির এহেন ভেজাল সে দেশের উন্নয়নবান্ধব সরকারকে চিন্তায় ফেলে দেয়। জাতির মেরুদণ্ড ও মনন রক্ষায় এগিয়ে আসেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কমিটিতে দেশীয় লোক থাকলে ভেজাল হতে পারে, এ আশঙ্কায় গঠিত হয় এক সদস্যবিশিষ্ট বিদেশি কমিটি। এই তদন্ত কমিটির পরিণতি নিয়েই আমাদের আজকের কাহিনী।

তদন্তকারী বিদেশির নাম ধরা যাক মিজ স্টেলা। তিনি দেশটিতে এসেই সবচেয়ে নামকরা হোটেলে ওঠেন। সেখানে তাকে ব্যাপক আপ্যায়ন করা হয়। খাবারের মেন্যুতে রাখা হয় দেশি-বিদেশি সব নামকরা আইটেম। খাবারের এমন আভিজাত্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান মিজ। তিনি মনের সুখে পেট ভরে খেয়ে নেন ইচ্ছামতো। এমন স্বাদের খাবার আর কোথাও পাওয়া যায় না। আর অতিথিপরায়ন একটি দেশে তদন্ত করতে এসে তিনি মানুষের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে যান।

কিন্তু খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিশ্রাম নিতে গিয়েই একটা বিড়ম্বনা শুরু হয়ে যায়। হঠাৎই পেটটা মোচড় দিয়ে ওঠে মিজ স্টেলার। তিনি দ্রুত পায়ে টয়লেটে প্রবেশ করেন। যা আশঙ্কা হয়েছিল তাই, পাতলা পায়খানা। একবার নয় দু’বার নয়, পরপর পাঁচবার টয়লেটে যেতে হয় তাকে। অতঃপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মিস স্টেলা এখন তদন্ত কাজ থেকে অনেক দূরে। হাসপাতালের একাকী বিছানায় তার সঙ্গী একটি ইংরেজি সংবাদপত্র। মিজ স্টেলা সংবাদের দিকে মন দেন। পত্রিকার পরতে পরতে ভেজালের নানারকম সংবাদ। এত ভেজালের সংবাদ যে পত্রিকার, তার নাম কী? এর নাম দৈনিক ভেজাল দিলে বরং ঠিক হতো।

পত্রিকার মূল প্রতিবেদনে একটি আদালতের নির্দেশনার খবর। সেখানে লেখা দেশটির সবচেয়ে নামকরা ও বাজারের সেরা প্রায় সবগুলো ব্রান্ডের পণ্যই ভেজাল! আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশটির বাজারে ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি। এমনকি অশিক্ষিত ভেজাল ডাক্তার চিকিৎসা থেকে শুরু করে অপারেশন পর্যন্ত করে চলেছেন বছরের পর বছর। আরেক খবরের শিরোনাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতি। ছোট করে একটা সংবাদ, ভেজাল জিনের বাদশাহ সেজে মোবাইলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একদল লোক। জিনের বাদশাহ ব্যাপারটি ঠিক বুঝতে পারেন না মিজ স্টেলা। তবে তার খুব ভয় হয় এসব খবর পড়ে। তিনি খবরের কাগজটি ভাঁজ করে রেখে দেন।

মনটাকে একটু চাঙ্গা করার আশায় টেলিভিশন অন করেন তিনি। টেলিভিশনেও খবর। সেখানে দেখানো হচ্ছে- মাছ, মাংস, ফল- প্রায় সবকিছুতে ফরমালিন। সবজির খেতে হরমোন, কীটনাশক। গরু মোটাতাজা করার ওষুধ। কারবাইড দিয়ে অকালে পাকানো হচ্ছে ফল। মশলায় কাপড়ের রঙ, ইট ও কাঠের গুঁড়া। রেস্টুরেন্টে পচা মাংস, গরুর নামে মহিষ, খাসির নামে কুকুর! মুড়িতে ইউরিয়া, দুধের প্রায় সবটাই বিষ! টেলিভিশনের খবর দেখে মাথাটা ভনভন করতে শুরু করে মিজ স্টেলার। তার মাথায় এখন তদন্ত ফদন্ত বলে কিছু নেই। কেমন করে ফিরে যাবেন আপন দেশে সেই চিন্তায় অকুল পাথারে তিনি। সবশেষ নিউজ আপডেট, এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত দলের প্রধান এখন মানসিক হাসপাতালে!

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×