সাবধানের মার নাই

  মেহেদী হাসান গালিব ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শপিং একটি জটিল প্রক্রিয়া। একটু চালাক না হলে শপিং করতে গিয়ে বিপদে পড়তে পারেন। তাই শপিংয়ের কায়দা-কানুন জানাচ্ছেন মেহেদী হাসান গালিব

১. আপনি যদি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য হয়ে থাকেন, তবে শপিংয়ের জন্য বেছে নিন এমন একটি সময় যখন আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের শপিং শেষ। নয়তো আপনি প্যান্ট কিনতে গিয়ে দেখবেন আপনার প্যান্ট পছন্দ করা, ট্রায়াল দেয়া, দামাদামি সব শেষ। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে দেখবেন কেউ-ই আপনার সঙ্গে নেই। আপনার মা পাশের দোকানে গিয়ে ছোটবোনের জন্য একটি লেহেঙ্গা নিয়ে দামাদামি করছে, আর আপনার বাবা তার পাশের দোকানে আপনার জন্য একটি গোলাপি রঙের ফুলহাতা শার্ট পছন্দ করছে।

২. সেইম কালারের অন্য ডিজাইন এমনকি সেইম ডিজাইনের অন্য কালারের মতো জটিলতা পার করেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবেন না। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার আগে পছন্দের জামাটি গায়ে দিয়ে দেখুন। দেখুন মাপ ঠিক আছে কিনা। নাকি ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার আগে যে বস্তা আকারের জামায় বাবা-মা আপনার ছোট্ট দেহটি ঢুকিয়ে দিতো, তার মতো লাগছে। যদি মাপ বড় হয়ে থাকে, তবে চটজলদি গিয়ে লাইনে দাঁড়ান টেইলার্সের সামনে। এক্ষেত্রে দর্জিকে মাপ বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। মাপ দেয়ার সময় কম তথ্য দিলে যেমন দর্জি আপনার কাপড়টিকে ঠিকমতো আকারে আনতে পারবে না, তেমনি বেশি তথ্য দিয়ে দর্জিকে ঘাবড়ে দিলে ঘটে যেতে পারে হিতে বিপরীত ঘটনা।

৩. শপিং করার চেয়ে তা অন্যের কুনজর থেকে রক্ষা করা কঠিন একটি কাজ। শপিংয়ের পর আপনার বন্ধু-বান্ধবী, প্রতিবেশী কিংবা পাশের বাসার ভাবি আপনার নতুন কেনা জামা দেখতে চাইতে পারেন। সাবধান! ভুলেও তাদের সামনে নতুন জামা বের করতে যাবেন না। ইতিহাস সাক্ষী, যারাই এই ফাঁদে পা দিয়েছে, তাদের জামাই পুরনো হয়ে গিয়েছে।

৪. এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিয়ের পর ছেলেদের শপিংয়ে যাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তবে আনুপাতিক হারে বেড়ে যায় মেয়েদের শপিংয়ে যাওয়ার প্রবণতা। গবেষকরা এর সমাধান খোঁজার জন্য আদাজল খেয়ে নেমে পড়লেও পরবর্তী সময়ে তারা হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান গবেষণাগার থেকে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যেককে ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় দু’হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছে।

সে যাক গে, মূল কথায় আসি। শপিং থেকে বাঁচতে ছেলেরা নানারকম কৌশল অবলম্বন করে থাকেন। এক্ষেত্রে সাবধান! এসব কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে যাতে বউয়ের হাতে ধরা পড়তে না হয়। তখন দেখা যাবে অভিমান আর রাগ ভাঙাতে বউ এমন শপিং করিয়ে ছাড়বে, পরের দিন আপনার নাম স্থান পাবে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

৬. তবে কৌশল অবলম্বন করেও যদি বউকে শপিংয়ে যাওয়া থেকে বিরত করতে না পারেন, তবে বউয়ের সঙ্গে শপিংয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই নিকটস্থ ক্লিনিক কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের নাম্বার সংগ্রহ করে রাখবেন।

৫. শপিংয়ের সচেতনতা মন দিয়ে পড়ছেন, ভালো কথা। কিন্তু একবারও কি খেয়াল করেছেন আপনি ৪ নাম্বার পয়েন্টটির পর ৫ নাম্বার পয়েন্ট না পড়েই ৬ নাম্বার পয়েন্ট পড়ে ফেলেছেন? যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে আপনার জন্য এই বিশেষ সতর্কতা- শপিং করার সময় একটু আশপাশেও খেয়াল রাখবেন।

মাঝে মাঝেই ব্যাগগুলো গুনে দেখবেন- কোনো ব্যাগ কম নেই তো? এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছোটাছুটির সময় মাঝে মাঝে একটু পেছনেও তাকাবেন- দেখে নেবেন আপনার শপিং ব্যাগ বয়ে বেড়াতে বেড়াতে স্বামী বেচারা আবার কোথাও মাথা ঘুরে পড়ে যায়নি তো? তখন স্বামীও যাবে, শপিংয়ের জামা-কাপড়ও যাবে। অতএব খুব সাবধান!

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×