একজন দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী

  ক্যামেলিয়া রওনক ২৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুল-কলেজ সব বাসার কাছাকাছিই ছিল। কখনও রিকশায় কখনও বা হেঁটেই ক্লাসে চলে যেতাম। প্রয়োজনীয় জিনিস কিছু লাগলে বাসার বড়রা এনে দিত। আমি কখনও দূরে যেতাম না। বাসে তো চড়াই হয়নি কখনও। তাই বন্ধুরা ফার্মের মুরগি বলে ক্ষেপাতো।

স্কুল-কলেজ বাসার কাছাকাছি পার করলেও ভার্সিটি হল অনেক দূরে। এবার পরিস্থিতি যা দাঁড়াল তাতে আমাকে বাসে করেই যাতায়াত করতে হবে। এটাই যেহেতু পরিস্থিতি, আমিও তাই মেনে নিলাম।

প্রথম দিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ঠেলেঠুলে কোনোমতে বাসে উঠলাম। আসলে আমাকে উঠতে হয়নি। পেছন থেকে অস্থির যাত্রীর দল আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে রীতিমতো বাসে উঠিয়ে দিয়েছে। তো কোনোমতে বাসের মাঝখানটায় একটা সিট ধরে দাঁড়ালাম। বাস চলতে চলতে হুট করে ব্রেক করল। আমিও তাল সামলাতে না পেরে শক্ত করে সিট ধরতে গিয়ে সামনে বসা একজন ভাইয়ার চুল শক্ত করে খামচে ধরে টান দিলাম। আর সেই ভাইয়া দিলেন গগনবিদারী চিৎকার। সরি বলে তাড়াতাড়ি সামনে গেলাম দরজার কাছে। কারণ একটু পরই নেমে যাব। বাসের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ বাস থেমে যাওয়ায় তাল সামলাতে না পেরে আমার পেছনে বসা এক ভদ্র লোকের কোলে টুপ করে প্রায় বসে পড়লাম। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সরি ভাই বলে নেমে পড়লাম।

আরেক দিনও বাসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলাম। পায়ে ছিল ২ ইঞ্চি সাইজের হিলের জুতা। হঠাৎ তাল সামলাতে না পেরে পাশে বসা এক আঙ্কেলের শার্ট পেছন থেকে এত শক্ত করে টেনে ধরেছিলাম যে শার্টই ছিঁড়ে গেল! ভেবেছিলাম এই বুঝি দিবে এক রাম ঝাড়ি। কিন্তু করুণ মুখে তিনি বললেন, ‘আমার শার্টটাকে সিট ভেবে ছিঁড়ে ফেললে!’

অন্য একদিন বৃষ্টি থাকায় ছাতা বন্ধ করতে করতে বাসে উঠে কোনোমতে মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালাম। ছাতাটা হাতেই ছিল। হঠাৎ আমার পেছন থেকে একজন ‘ও মা গো’ বলে চিৎকার করে উঠল। ভাবলাম কোনো আপু হয়তো এই ভাইয়াটাকে ভিড়ের মাঝে ইভটিজিং করেছে। সবাই যখন ভাইয়াটাকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, কী হয়েছে? ভাইয়াটা জানাল, কার যেন ছাতা এসে তার পেটে খুব জোরে গুঁতো মেরেছে। শুনে আমি আস্তে করে আমার ছাতাটা সিটের মাঝে লুকিয়ে ফেললাম।

আরেক দিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাসে উঠলাম। সেদিন ছিল প্রচণ্ড ভিড়। আমাকে আর পা দিয়ে হেঁটে হেঁটে উঠতে হয়নি। ঠেলতে ঠেলতেই বাসের ভেতরে নিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর দেখি সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছে।

কন্ডাক্টর ভাড়া নিতে এসে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসেই দিল। প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হলেও কিছু বললাম না। ভার্সিটি এসে ওয়াশরুমে ঢুকে আয়নায় মুখ দেখতে গিয়ে দেখি ভিড়ের মাঝে ঘষা লেগে লিপস্টিক আমার ঠোঁট থেকে গালে চলে এসেছে! আর আমি এই অবস্থায় সবটুকু রাস্তা পাড়ি দিয়ে এসেছি!

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×