লেখালেখির বিপদ-আপদ

  জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যারা গল্প লেখেন তারা এই জিনিসটা ভালো করে জানেন। আজ আমি একটা গল্প লিখছি কিন্তু কাল লিখতে পারব কি না জানি না। পুরোটা নির্ভর করে গল্পের কনসেপ্ট পাবো কি না তার ওপর। আর কনসেপ্ট মাথায় এলে সঙ্গে সঙ্গেই লিখে ফেলা প্রয়োজন। কারণ পরে গল্পটা সেভাবে মাথায় আসে না। এই কনসেপ্টের কারণে লেখককে কিভাবে হেনস্তা হতে হয়, আসুন জেনে নিই-

* আপনি ছাদে বসে আছেন। রোমান্টিক আবহাওয়া, ঠাণ্ডা বাতাস, বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে আছেন- এরকম পরিস্থিতিতে আপনার মাথায় ঝড়-বৃষ্টি সম্পর্কিত একটা লেখা চলে এলো। আপনি ছুটে ঘরে চলে এলেন গল্পটা লিখে ফেলতে। রোমান্টিক আবহাওয়াটা উপভোগ করার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল।

* আপনি আপনার জীবনসঙ্গীর পাশে বসে আছেন। দু’জন দু’জনের দিকে চোখে চোখে তাকাচ্ছেন। সে ইতস্তত করে বললো, ‘আজ না তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে!’ সে আপনার হাতটা ধরার জন্য এগিয়ে আসতেই আপনি ছুটে পড়ার টেবিলে গিয়ে খাতা-কলম নিয়ে বসে গেলেন ভালোবাসার শক্তি, অনুভূতির ওপর একটা আর্টিকেল লিখে ফেলার জন্য।

* আপনি পরীক্ষার হলে। হাতে বেশি সময় নেই। এদিকে অনেক প্রশ্ন বাকি! দ্রুতগতিতে লিখতে লিখতে শুনলেন স্যার ধমক দিয়ে বলছে, ‘এই, কথা বললো কে ওইদিকে?’ সঙ্গে সঙ্গে আপনার মাথায় এলো- পরীক্ষার হলে স্যাররা কড়া ডিউটি না দিয়ে যদি এমন বলতো, ‘বাবারা! দেখে দেখে লেখো, চা-কফি কিছু লাগলে বইলো!’ আর এর ওপর একটি বিপরীতধর্মী রম্য তো লিখে ফেলাই যায়! বাকি সময়টা পরীক্ষার খাতায় আপনার আর মন বসল না। অস্থির হয়ে ভাবছেন, কখন বাসায় যাবেন, কখন লিখবেন।

* পরিবারের সবার সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এই পর্যায়ে সবাই আপনাকে ডাকছে, কিন্তু আপনি শুনছেন না। গভীর মনোযোগে ভাবছেন ‘পরিবারের একতা’ বিষয়ের ওপর একটা আর্টিকেল।

* রাস্তায় একজনকে দেখে চরম আকারে ক্রাশ খেয়েছেন। সে চলে যাচ্ছে, তাকে আটকে কথা বলা দরকার। এদিকে আপনি ভাবছেন, কেন একজনকে দেখে হƒদয়ে ভালোবাসা জাগ্রত হয়? কেন বিশেষ একজন আশপাশে আসলে বুকের ভেতর ধুকধুক করতে থাকে? আসলে ভালোবাসা জিনিসটা কী? ভালোবাসার অনুভূতির জš§ কি এই পৃথিবীতে না অন্য কোনও ভুবনে? এই বিষয়ে একটা লেখা থাকা দরকার! সুতরাং তাকে ডাক না দিয়ে আপনি তাড়াতাড়ি ফোনের নোট খুলে বসলেন।

* কেউ আপনার কাছে তার বাচ্চা রেখে কোথাও গেছে। বাচ্চাটা খুব জ্বালাচ্ছে। আপনার মাথায় চলে এলো বাচ্চারা কত প্রকারে যন্ত্রণা দিতে পারে অথবা চাইল্ড সাইকোলজির ওপরে একটা গল্প অথবা আর্টিকেল। এদিকে সেই বাচ্চা যে ততক্ষণে আপনার কোল থেকে নেমে কোথায় চলে গেছে তার আতাপাতা নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×