ধারাবাহিক রম্য টল TALK

টলের কাছে ডলের চিঠি

  শায়ের খান ১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয় টল,

আশা করি জ্যাকির ভিডিওতে মেয়ে দেখা থেকে রাগ করে কেন উঠে এসেছি, তুই ক্লিয়ার। প্রথমেই বলে রাখি, ঘটকালি আমার ব্যবসা না। একটা ঘটনাচক্রে আমার নিজেরই বিয়ে হয়েছিল তুই জানিস। ঘটনা ও চক্র দুটোই এই বিয়ের জন্য দায়ী। ঘটনাটা ছিল এক বান্ধবীর বিয়েতে। সুন্দর চোখের এক ছেলে আমাকে বান মেরেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে তার চক্র মানে ফ্রেন্ড সার্কেল আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেলে। ঘটনার সঙ্গে চক্রের যোগসাজশে ঘটনাচক্রে জড়িয়ে যাই। চক্র থেকে চক্রযানে চড়িয়ে ঘুরে বেড়ায় ছেলেটি আমাকে নিয়ে। দ্বিচক্রযান থেকে চার চক্রযানে চড়িয়ে বেড়ায়। কিন্তু ও যে ছিল ত্রিচক্রযানের মানুষ, তা বুঝতে সময় লেগেছিল আমার। চার চক্রযানেই ও আমাকে ‘জান’ বানিয়ে ফেলে। যদিও এই ‘জান’-এর কথা তোর জানার কথা না। বিয়ে হয় আমাদের। কিন্তু সবকিছুর অন্তে বুঝে যাই, চক্রের অন্তে ছিল চক্রান্ত, আমাকে বাগানোর। ভাগানোরও। ভেগেই বিয়ে করেছিলাম আমি। তোর খালুর মুখোশ খুলে গেলে আমি আর দেরি করিনি। ডিভোর্স দিয়ে দিই। আর তারপর থেকে বের হই এক মিশনে। মেয়েরা যেন ভুল পথে না যায়, ভুল ছেলের হাত না ধরে, সে মিশনে। শখের মিশন। কিন্তু মিশন যে ভীষণ হবে, শখ যে Shock হবে, বুঝিনি। ভীষণের ব্যাপারে Vision টাও আমার ক্লিয়ার ছিল না। জ্যাকির কেইসের কথা বলছি।

কচি ওম্যানের সঙ্গে ওর ফেসবুকে রিলেশন কয়েক বছর ধরেই। সে আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও আছে। আমাকে যখন বলল, আমি বিষয়টি সিরিয়াসলি নিলাম। কচি ওম্যান জানত, আমি রিলেশন গড়ে দেয়ায় এরই মধ্যে সাকিব আল হাসানের উচ্চতায় পৌঁছে গেছি। তাই আমাকে বলল। আমিও তোদের উদ্ভট মেয়ে দেখার আয়োজনে রাজি হলাম। কিন্তু আশ্চর্য হলাম, বাচ্চা মেয়েটাকে করা সব প্রশ্ন দেখে। করলা ফল না সবজি, কার ব্রেইনের কত ওজন, এতটুকু পর্যন্ত সহ্য করা গেছে, কিন্তু জ্যাকির করা এপোলো ১১- এর প্রশ্নে আমি খুবই রাগ হয়েছি। সেই ৫০ বছর আগে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে চাঁদে গিয়ে কোথায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়েছিল, এটা কি কোনো শালীন প্রশ্ন হল? আর অতটুকু মেয়ে কি করে জানবে ওই আর্মস্ট্রংরা কোথায় বাথরুম করেছিল? ও কি ওদের সঙ্গে চাঁদে গেছে? তবুও একটা মহা সম্পর্কের স্বার্থে মহাশূন্যের বিষয়টি মেনে নিয়েছিলাম।

কিন্তু আমার বান্ধবী সালমাকে তো লাইভ অপমান করতে পারে না তোর বসের গুষ্টি। সালমার সঙ্গে তো জেনেশুনেই রিলেশন করেছে জ্যাকি। সালমা ফেসবুকে ছবি দেয় না। মেয়ে কচির ছবি দিয়েই ওর আইডি খোলা। মেয়ের নামের সঙ্গে ওম্যান লিখেই আইডি খুলেছে সালমা। কচি ওম্যান মানে সালমার সঙ্গে দিনের পর দিন চ্যাট করে গেছে জ্যাকি। ও তো জানেই যে সালমা ডিভোর্সি। একটাই মেয়ে ওর। তোরা তো পাত্রী দেখতে চাসনি, মেয়ে দেখতে চেয়েছিস। আমিও ভেবেছিলাম, বিয়ের আগে কচির হবু বাপ মেয়ে দেখতে চাচ্ছে। তোর ওই ফেনামুখী না ছানামুখী তো মুখের ওপর বলে দিলো, পাত্রী জ্যাকির খালার বয়সী। আমাদের সালমা সোশ্যাল সায়েন্সে পিএইচডি করা, জ্যাকির মতো হুইস্কিতে ডক্টরেট না, জানিয়ে দিস। আর আজকাল কি ছোট-বড় মেনে বিয়ে হয় না? সাইফ আলী খান কি এক সময় মামির বয়সী অমৃতা সিংকে বিয়ে করেনি? হলিউডে তো ২৪ বছরের মেয়ে ৭২ বছরের বুইড়াকেও বিয়ে করে। এগুলো হরহামেশাই হচ্ছে। ছি ছি ছি, মাঝখান দিয়ে ছোট্ট কচির সামনে ওর সিঙ্গেল মাদার সালমা কি অপমানটাই না হল। দাঁড়া, আমি সালমাকে কোথায় বিয়ে দিই দেখিস। আর রিকোয়েস্ট করব, তোরা ফেসবুকে এসব রিলেশন করতে যাবি না। ফেসবুক সমাজের ব্রেইনের তার ছিঁড়ে দিচ্ছে। উপরওয়ালা যা করে, ভালোর জন্যই করে। জ্যাকির সঙ্গে সালমার বিয়ে হলে হয়তো নয়া বাপের কাছ থেকে অল্প বয়সেই কচি হুইস্কি টানা শিখে যেত।

তোকে তোর জন্মের সময় দেখেছিলাম, আর ঘটনাচক্রে সেদিন দেখলাম। আবার সেই ঘটনা আর চক্র। উফফ। আর যেন তোর সঙ্গে দেখা না হয়। শুধু মরণের সময় মাটি দিতে আসিস।

আমার এই মেসেজের রিপ্লাই দেয়ার দরকার নাই।

ইতি,

তোর ডলি খালা

(আমাকে আর ডল খালা বলে ডাকবি না)

(চলবে)

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×