ঘুমের অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে : কোনো পরিশ্রম নেই
jugantor
মনে পড়লে হাসি পায়
ঘুমের অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে : কোনো পরিশ্রম নেই
মৌসুমী হামিদ, মডেল ও অভিনেত্রী

   

১৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দাদিকে অনুকরণ করতে গিয়ে গাল পুড়িয়ে ফেলি

ছোটবেলা থেকে দাদিকে বেশ অনুকরণ করতাম। তাকে অনুকরণ করা ছিল আমার এক ধরনের আনন্দ। বলতে পারেন এক ধরনের ভালো লাগার বিষয়। দাদি যেভাবে শাড়ি পরত আমিও চেষ্টা করতাম সেভাবে শাড়ি পরতে। দাদি যেভাবে চুল বাঁধত আমিও সেভাবে চুল বাঁধতাম। দাদি ধীরে ধীরে খেত, আমিও খাবার সময় ধীরে ধীরে খেতাম। দাদি মাথা নিচু করে হাঁটত, আমিও তাই করতাম। একসময় এসে দেখলাম দাদি যা যা করে আমিও তাই তাই করি। তাহলে দাদি পান খায় আমি কেন খাই না? চিন্তা-ভাবনা সব বাদ দিলাম। আমিও পান খেতে শুরু করলাম। সবই যখন করি পান খাওয়া বাদ যাবে কেন? দাদিকে দেখলাম পানের সঙ্গে চুন নিল। আমিও বেশি করে পানের বোঁটায় চুন লাগালাম, আর পান খেতে লাগলাম। জিহ্বায় চুন নিতে গিয়ে গালে লেগে গেল। মুখের ভেতর প্রায় পুড়ে যাওয়ার অবস্থা হল। বাবা-মা কিছু বললেন না। তবে দাদি খুব হেসেছিলেন। বললেন, ‘তুই আমাকে এত অনুকরণ করিস। আমার তো বেশ কটা দাঁত নেই। তাহলে তুইও দাঁত ফেলে দে। আমার মতো দাঁত কর।’ ঘরের সবাই খিলখিল করে হাসছিল। আমার খুব রাগ হচ্ছিল তখন। এখন কথাটি মনে পড়লেই একা একা হাসি।

ছেলেধরা থেকে রক্ষা পেয়েছি

আমার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরাতে। বাবার চাকরির সুবাধে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছি। অভিনেত্রী হব এটি কল্পনাও করিনি কখনও। কীভাবে হয়ে গেলাম তাও বুঝতে পারিনি। ইচ্ছে ছিল না। ছোটবেলার একটি ঘটনা মনে হলে এখনও গা শিউরে ওঠে। ঘটনাটি আসলে দুঃখের নাকি হাসির সেটা আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি। তবে কথাটি মনে পড়লে হাসিও পায়। কেমন অবুঝ বালিকা ছিলাম! একটি চকলেটের লোভে কোথায় হারিয়ে গেলাম। বয়সের কথা সঠিক মনে নেই। তবে তখন আমি অনেক ছোট। কথা বার্তা বলতে পারলেও সবকিছু বুঝে ওঠার ক্ষমতা ছিল না। তবে ঘোরাঘুরি করার ক্ষমতা ঠিকই ছিল। ছোট হলেও ছিলাম বেশ ডানপিটে স্বভাবের। এদিক-সেদিক ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। সবার কাছেই যেতাম। সবার সঙ্গে কথা বলতাম।

ছোটবেলায় বেশিরভাগ মানুষের প্রিয় খাবার চকলেট। আমারও তাই ছিল। চকলেট না দিলে আমি হুলুস্থুল করে ফেলতাম। সব খাবারের আইকন ছিল চকলেট। দোকানের সামনে দিয়ে গেলেই চকলেট নিতাম। একদিন চকলেট কেনার জন্য দোকানে গিয়েছি। দোকানের পাশেই এক বুড়ি আমাকে ইশারা করল। আমি তার ইশারায় সাড়া দিয়ে কাছে গেলাম। সে আমাকে বলল,‘তুমি চকলেট খাবে। এই নাও চকলেট। আরও চকলেট দিব। দামি চকলেট। চল, সামনের দিকে যাই।’ বুড়ি আমাকে চকলেট দেয়ার লোভ দেখিয়ে কথা বলতে শুরু করল। আমি জানতামই না বুড়িটি কে! কোথায় তার বাড়ি ঘর! আমাকে চকলেট দেবে আমি ভাবছি সে নিশ্চয় ভালো কেউ হবে। তখন অবশ্য ভালো-মন্দ তেমন বুঝতাম না। তবে আমাদের এলাকায় তখন ছেলেধরার প্রবণতা ছিল। আমাকে তাই একা একা কোথাও যেতে দিত না। বুড়ি আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলায় আমিও রাজি হয়ে গেলাম। আমাকে সে নিয়ে যেতে লাগল তার গন্তব্যের দিকে। সে তার পথ ধরে নিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। আমিও চলছি তার পিছু পিছু। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, আমি ভুল পথে এসেছি। বুড়িটা আমাকে হয়তো বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই পালানোর জন্য হঠাৎ এক দৌড়ে একটা দোকানে ঢুকে পড়ি। দোকানদারকে সব খুলে বলি। ওদিকে বুড়িও ততক্ষণে অবস্থা বেগতিক দেখে আড়াল হয়ে গেছে। পরে দোকানদারকে আমি যেভাবে বলি সেভাবে আমার বাবা-মার কাছে নিয়ে আসেন তিনি। বাসায় এসে দেখি বাবা-মা কান্নাকাটি করছেন। আর আমাকে খুঁজছেন। বাড়ি ভর্তি লোকজন জুটে গেছে। আমার খুব খারাপ লাগল। চকলেটও খেতে পারলাম না। আবার কত পথ হেঁটে গেলাম। কথাটি এখন মনে পড়লে মাঝে মাঝে হাসি। হায়রে! একটা চকলেটের লোভে বুড়ির পিছু নিয়েছিলাম!

যা কখনও বলা হয়নি :

* ভ্রমণ করতে ভালো লাগে কিন্তু সময়ের অভাবে ভ্রমণ করা হয় না!

* আমি সিনেমায় কম অভিনয় করার জন্য সিনেমা হলে দর্শক কমে গেছে! হিহিহি...!

* ঘুমের অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে। কোনো পরিশ্রম নেই।

* ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রিকেট খেলতাম।

* একবার ব্যাট করে এক লোকের মাথার উইগ খুলে ফেলেছিলাম।

* কলেজে মেয়েদের থেকে ছেলেরা আমাকে দেখে ভয় পেত বেশি।

* ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম আমি ব্যাংকার হব। অফিস করব। মাস শ্যাষে টাকা গুনে ঘরে তুলব।

অনুলিখন : ফরিদুল ইসলাম নির্জন

মনে পড়লে হাসি পায়

ঘুমের অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে : কোনো পরিশ্রম নেই

মৌসুমী হামিদ, মডেল ও অভিনেত্রী
  
১৪ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দাদিকে অনুকরণ করতে গিয়ে গাল পুড়িয়ে ফেলি

ছোটবেলা থেকে দাদিকে বেশ অনুকরণ করতাম। তাকে অনুকরণ করা ছিল আমার এক ধরনের আনন্দ। বলতে পারেন এক ধরনের ভালো লাগার বিষয়। দাদি যেভাবে শাড়ি পরত আমিও চেষ্টা করতাম সেভাবে শাড়ি পরতে। দাদি যেভাবে চুল বাঁধত আমিও সেভাবে চুল বাঁধতাম। দাদি ধীরে ধীরে খেত, আমিও খাবার সময় ধীরে ধীরে খেতাম। দাদি মাথা নিচু করে হাঁটত, আমিও তাই করতাম। একসময় এসে দেখলাম দাদি যা যা করে আমিও তাই তাই করি। তাহলে দাদি পান খায় আমি কেন খাই না? চিন্তা-ভাবনা সব বাদ দিলাম। আমিও পান খেতে শুরু করলাম। সবই যখন করি পান খাওয়া বাদ যাবে কেন? দাদিকে দেখলাম পানের সঙ্গে চুন নিল। আমিও বেশি করে পানের বোঁটায় চুন লাগালাম, আর পান খেতে লাগলাম। জিহ্বায় চুন নিতে গিয়ে গালে লেগে গেল। মুখের ভেতর প্রায় পুড়ে যাওয়ার অবস্থা হল। বাবা-মা কিছু বললেন না। তবে দাদি খুব হেসেছিলেন। বললেন, ‘তুই আমাকে এত অনুকরণ করিস। আমার তো বেশ কটা দাঁত নেই। তাহলে তুইও দাঁত ফেলে দে। আমার মতো দাঁত কর।’ ঘরের সবাই খিলখিল করে হাসছিল। আমার খুব রাগ হচ্ছিল তখন। এখন কথাটি মনে পড়লেই একা একা হাসি।

ছেলেধরা থেকে রক্ষা পেয়েছি

আমার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরাতে। বাবার চাকরির সুবাধে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছি। অভিনেত্রী হব এটি কল্পনাও করিনি কখনও। কীভাবে হয়ে গেলাম তাও বুঝতে পারিনি। ইচ্ছে ছিল না। ছোটবেলার একটি ঘটনা মনে হলে এখনও গা শিউরে ওঠে। ঘটনাটি আসলে দুঃখের নাকি হাসির সেটা আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি। তবে কথাটি মনে পড়লে হাসিও পায়। কেমন অবুঝ বালিকা ছিলাম! একটি চকলেটের লোভে কোথায় হারিয়ে গেলাম। বয়সের কথা সঠিক মনে নেই। তবে তখন আমি অনেক ছোট। কথা বার্তা বলতে পারলেও সবকিছু বুঝে ওঠার ক্ষমতা ছিল না। তবে ঘোরাঘুরি করার ক্ষমতা ঠিকই ছিল। ছোট হলেও ছিলাম বেশ ডানপিটে স্বভাবের। এদিক-সেদিক ঘুরে ঘুরে বেড়াতাম। সবার কাছেই যেতাম। সবার সঙ্গে কথা বলতাম।

ছোটবেলায় বেশিরভাগ মানুষের প্রিয় খাবার চকলেট। আমারও তাই ছিল। চকলেট না দিলে আমি হুলুস্থুল করে ফেলতাম। সব খাবারের আইকন ছিল চকলেট। দোকানের সামনে দিয়ে গেলেই চকলেট নিতাম। একদিন চকলেট কেনার জন্য দোকানে গিয়েছি। দোকানের পাশেই এক বুড়ি আমাকে ইশারা করল। আমি তার ইশারায় সাড়া দিয়ে কাছে গেলাম। সে আমাকে বলল,‘তুমি চকলেট খাবে। এই নাও চকলেট। আরও চকলেট দিব। দামি চকলেট। চল, সামনের দিকে যাই।’ বুড়ি আমাকে চকলেট দেয়ার লোভ দেখিয়ে কথা বলতে শুরু করল। আমি জানতামই না বুড়িটি কে! কোথায় তার বাড়ি ঘর! আমাকে চকলেট দেবে আমি ভাবছি সে নিশ্চয় ভালো কেউ হবে। তখন অবশ্য ভালো-মন্দ তেমন বুঝতাম না। তবে আমাদের এলাকায় তখন ছেলেধরার প্রবণতা ছিল। আমাকে তাই একা একা কোথাও যেতে দিত না। বুড়ি আমাকে তার সঙ্গে যেতে বলায় আমিও রাজি হয়ে গেলাম। আমাকে সে নিয়ে যেতে লাগল তার গন্তব্যের দিকে। সে তার পথ ধরে নিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। আমিও চলছি তার পিছু পিছু। বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, আমি ভুল পথে এসেছি। বুড়িটা আমাকে হয়তো বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছে। তাই পালানোর জন্য হঠাৎ এক দৌড়ে একটা দোকানে ঢুকে পড়ি। দোকানদারকে সব খুলে বলি। ওদিকে বুড়িও ততক্ষণে অবস্থা বেগতিক দেখে আড়াল হয়ে গেছে। পরে দোকানদারকে আমি যেভাবে বলি সেভাবে আমার বাবা-মার কাছে নিয়ে আসেন তিনি। বাসায় এসে দেখি বাবা-মা কান্নাকাটি করছেন। আর আমাকে খুঁজছেন। বাড়ি ভর্তি লোকজন জুটে গেছে। আমার খুব খারাপ লাগল। চকলেটও খেতে পারলাম না। আবার কত পথ হেঁটে গেলাম। কথাটি এখন মনে পড়লে মাঝে মাঝে হাসি। হায়রে! একটা চকলেটের লোভে বুড়ির পিছু নিয়েছিলাম!

যা কখনও বলা হয়নি :

* ভ্রমণ করতে ভালো লাগে কিন্তু সময়ের অভাবে ভ্রমণ করা হয় না!

* আমি সিনেমায় কম অভিনয় করার জন্য সিনেমা হলে দর্শক কমে গেছে! হিহিহি...!

* ঘুমের অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে। কোনো পরিশ্রম নেই।

* ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রিকেট খেলতাম।

* একবার ব্যাট করে এক লোকের মাথার উইগ খুলে ফেলেছিলাম।

* কলেজে মেয়েদের থেকে ছেলেরা আমাকে দেখে ভয় পেত বেশি।

* ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম আমি ব্যাংকার হব। অফিস করব। মাস শ্যাষে টাকা গুনে ঘরে তুলব।

অনুলিখন : ফরিদুল ইসলাম নির্জন

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন