শ্বশুর বনাম বউমা

  জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমার হবু শ্বশুরআব্বার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব খারাপ। তিনি তার ছেলেকেও কঠিনভাবে মানা করে দিয়েছেন যেন সে আমার সঙ্গে না মেশে।

দোষটা আমারই। শ্বশুরআব্বা বাসার নিচ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আমি ওপর থেকে এক বালতি সাবান গুলানো পানি তার গায়ে ঢেলে দিয়েছি। তখন থেকেই তার আমার ওপর রাগ। তখন তো আর আমি জানতাম না তার এত সুন্দর ছেলে আছে!

সেটাই একদিন তাকে গিয়ে বললাম। তিনি বাগানে বসেছিলেন। আমি তার সামনে গিয়ে বললাম, ‘আব্বা, মাফ করে দেন।’ তিনি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কে কার আব্বা!’

আমি লাজুক স্বরে বললাম, ‘সেদিন আপনার গায়ে ইচ্ছা করে পানি ফেলিনি। যদি জানতাম আপনার ছেলে এত সুন্দর তাহলে তো আর ফেলতাম না।’

তিনি চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘এ মেয়ে বলে কী!’

আমি গলার স্বর আরও লাজুক করে বললাম, ‘দয়া করে মনে কিছু পুষে রাখবেন না। বুড়োকালে আমি ছাড়া আপনার সেবা করবে কে বলেন? খামোখা হবু বউমার ওপর রাগ পুষে রাখলে সংসারে অশান্তি হবে!’

এটুকু বলেই আমি চলে এলাম। তারপর শ্বশুরআব্বা তার ছেলেকে ডেকে কড়া নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিলেন, ‘খবরদার! এই মেয়ের সঙ্গে আর মিশবি না। কথাও বলবি না। ওকে দেখলেই উল্টোদিকে ঘুরে চলে আসবি।’

আমি দেয়ালের আড়াল থেকে সব?ই শুনলাম। তারপর বাসায় চলে এলাম।

সমস্যা হচ্ছে শ্বশুরআব্বা যে ছেলেকে আমার সঙ্গে মিশতে মানা করলেন সে আমার সঙ্গে না মিশলেও আমার কিছু যায় আসে না। আমি তার ওপর ক্রাশ খাইনি। আমি ক্রাশ খেয়েছি তার ছোট ছেলের ওপর। শ্বশুরআব্বা এখন সর্বক্ষণ তার বড় ছেলের বিয়ে নিয়েই চিন্তা করেন বিধায় ছোট ছেলের বিষয়টা তার মাথায় আসেনি।

যাই হোক, হবু শ্বশুরের বড় ছেলে তার বাপের কথামতো আমাকে এড়িয়ে চলে। এদিকে আমি তলে তলে লক্ষ্য রাখি তার ছোট ছেলের দিকে। আমার ঘরের জানালা আর তার ঘরের জানালা এখন পাশাপাশি। আগে ওখানে বড় ছেলের ঘর ছিল। যেহেতু তার ওপর আমার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ তাই সে ঘর পরিবর্তন করেছে।

শ্বশুরআব্বার ছোট ছেলেও আমার প্রতি দুর্বল সেটা আমি এখন বুঝতে পারি। প্রায়ই জানালার ধারে বসে তাকে গান শুনতে দেখি। আমাকে দেখলে সে হাসে।

এরমধ্যে তিন নাম্বার ফ্ল্যাটে দারুণ সুন্দরী এক মেয়ে এসেছে। মেয়েটার চেহারার সঙ্গে বলিউড হিরোইন উর্বশীর চেহারার সাদৃশ্য আছে। শ্বশুরআব্বার বড় ছেলের নজর এখন সেই বলিউড অভিনেত্রী উর্বশীর ওপর। তাদেরকে প্রায়ই ইশারায় কথা বলতেও দেখি।

বড় ভাই আবার আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ওই মেয়েকে ইশারা করে। কারণ সে তো জানে যে আমি তার ওপর লাড্ডু। সে ভাবে হয়তো আমার ভেতরে ভেতরে জ্বলে যাচ্ছে।

এদিকে ওদের দুজনের ইশারা ইঙ্গিত চলতে চলতেই যে আমার আর তার ছোট ভাইয়ের মধ্যে প্রেম হয়ে গেছে এটা তিনি জানেন না। ছোট ছেলে আমার হাত ধরে প্রায়ই গদগদ কণ্ঠে বলে, ‘তোমাকে না পেলে আমি বাঁচব না।’

আমি লাজুক স্বরে জবাব দিই, ‘আমাকে কবে বিয়ে করবা?’

সে বলে, ‘আগে বড় ভাইয়ার বিয়ে হবে তারপর তো আমাদের বিয়ে!’

এভাবেই আরও কয়েক মাস কেটে গেল। শ্বশুরআব্বা কড়া নজর রাখেন তার বড় ছেলে আমার সঙ্গে কথাটথা বলে কি না। তারপর খুশি হয়ে লক্ষ্য করেন, তার নির্দেশ অনুযায়ী তার বড় ছেলে আমাকে এড়িয়েই চলে।

এরমধ্যে আমি একদিন শ্বশুরআব্বার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বললাম, ‘আব্বা! আপনি কী কী খেতে ভালোবাসেন?’

তিনি ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘কেন? তা দিয়ে তোমার কী দরকার?’

আমি লাজুক স্বরে বলি, ‘শিখে রাখব। বিয়ের পর রান্না করে খাওয়ানো লাগবে তো!’

তিনি বিরক্ত স্বরে বলেন, ‘বিদায় হও! বিদায় হও।’

আমি তবুও বিদায় হ?ই না। বিনয়ী গলায় বলি, ‘আব্বা! আপনি কিন্তু ভাববেন না এখনকার বউমাদের মতো আমি আপনার দেখাশোনা করব না। বুড়ো হলেই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসব। আমি সারাজীবন আপনার সেবা করব।’

‘বিদায় হও। গেট লস্ট!’

এক সুন্দর সকালে শ্বশুরআব্বা বাগানে বসে ছিলেন। তার বড় ছেলে উর্বশীকে নিয়ে হাজির হয়ে মাথা নিচু করে শ্বশুর আব্বাকে সালাম করল। তারপর লাজুক স্বরে বলল, ‘বাবা, আমি এই মেয়েকে ভালোবাসি। একে বিয়ে করতে চাই।’

শ্বশুরআব্বা খুশি হন। হাসিমুখে তাদের দোয়া জানিয়ে বলেন, ‘বাঁচলাম! আমার তো ভয় ছিল ওই মেয়েটা তোরে বশ করে ফেলে কি না! যাক তবুও ওর থেকে...!’

শ্বশুরআব্বা কথা শেষ না করে তোতলাতে থাকেন। কেননা ততক্ষণে আমার হাত ধরে তার ছোট ছেলে প্রবেশ করেছে। আমরাও মাথা নিচু করে তাকে সালাম করি। তারপর তার ছোট ছেলে লজ্জামাখা গলায় বলে, ‘আব্বা, আমাদের অনেক দিনের প্রেম। ভাবছিলাম বড় ভাইয়ার বিয়ে হয়ে গেলে আপনারে জানাব। বড় ভাইয়ার তো বিয়ে ঠিকই হয়ে গেল। ওদের বিয়ে হয়ে গেলেই আমরা বিয়ে করে নেব।’

শ্বশুরআব্বা জবাব দিলেন না। বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলেন। আমি হাসিমুখে প্রশ্ন করলাম, ‘আব্বা, প্রেশার বেড়েছে? তেঁতুল পানি এনে দিই?’ হ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×