চূত

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা বছরের দ্বিতীয় মাস। ফলফলাদিতে ভরা গাছপালা। আমের সময়ও বটে। মহারাজ্য কৃষ্ণচন্দ্রের বাগানে সে বছর প্রচুর আম হয়েছে। রাজার খেয়াল বলে কথা। তিনি স্থির করলেন নিজ হাতে আম পেড়ে রানীকে উপহার দেবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। গোপালকে সঙ্গে নিয়ে ভালো ভালো আম গাছ থেকে পেড়ে গোপালকে বললেন, অন্দরমহলে রানীকে দিয়ে আসতে।

রানী আমগুলো দেখে খুব সন্তুষ্ট হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ কী আম গোপাল?’

গোপাল বিগলিত হয়ে বলল, ‘এ ভালো চূত রানী মা।’ তারপর গোপাল আর দঁড়ায়নি। বাড়ি ফিরে গেল।

মহারাজ রাজসভা থেকে অন্দর মহলে ঢুকতেই রানী তাকে ওই কথাটি বললেন। শুনে মহারাজ গোপালের ওপর এমন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন যে, সঙ্গে সঙ্গে গোপালকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে ভয়ানক শাস্তি দেয়ার আদেশ দিলেন।

এই খবর শুনে গোপাল কাঁপতে কাঁপতে জোড়হাত করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সামনে উপস্থিত হয়ে বলল, ‘মহারাজ, কী এমন গুরুতর অপরাধ করেছি যার জন্য আমাকে এমন গুরুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন? অপরাধী জানতে পারল না কী তার অপরাধ! এদিকে শাস্তির আদেশ হয়ে গেল!’

মহারাজ বললেন, ‘তুমি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করে আবার বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছ! তুমি বলতে চাইছ রানী মিথ্যাবাদিনী? তিনি তোমার নামে মিথ্যা কথা বলছেন?’

গোপাল বলল, ‘ছিঃ ছিঃ রানীমা মিথ্যাবাদিনী সে কথা বলার সাহস কি এই নালায়েক বান্দার আছে মহারাজ? বুঝতে পেরেছি আপনি কেন এত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মহারাজ, আমি আম না বলে শুদ্ধ ভাষায় চূত বলেছি বলেই আজ আমাকে আপনার আদেশে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। বিজ্ঞজনেরা যথার্থই বলেন, মূর্খের দেশে কোনোদিন বেশি বিদ্যা ফলাতে গেলে বিপদের মধ্যে পড়তে হয়। কথাটা যে কতটা বাস্তব তা টের পেতে আর বাকি রইল না। এ কথা শোনার পর মহারাজ লজ্জিত হয়ে গোপালকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×