মাস্ক ও মুখোশ

  মোঃ রায়হান কবির ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কথায় আছে, কারও সর্বনাশ তো কারও পৌষ মাস। চারদিকে নানা অস্থিরতার ভেতর আরেক অস্থিরতার নাম করোনাভাইরাস। যদিও এ ভাইরাস এখনও বাংলাদেশে দেখা দেয়নি, কিন্তু এ ভাইরাস সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক জ্বালাও কিন্তু কম না। এখন দিনে-রাতে সব সময় হাসান আলীকে বাধ্য হয়ে মাস্ক পরে থাকতে হয়। অথচ মাস্ক পরলে তার দম বন্ধ হয়ে আসে।

এটা যেমন এক ধরনের জ্বালা তেমনি করোনাভাইরাস যখন প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হতে থাকল তখনকার যন্ত্রণা হাসান আলীকে পৌষের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। হাসান আলীর বউ বাসা থেকে বের হতে একদম পছন্দ করেন না। তবে এক জায়গায় যেতে কখনই আপত্তি করেন না তিনি। আর সেটি হল বিউটি পার্লার। বলা যায়- পান থেকে চুন খসলেই তিনি বিউটি পার্লারে ছোটেন। হয়তো এ কারণেই অন্য কোথাও যেতে তিনি সময় পান না। এমন যখন অবস্থা, করোনাভাইরাসের প্রথম দিকের সময় হাসান আলী একদিন দোকান থেকে এসে দুপুরে ভাত খাবেন। দেখেন বাসায় ভাত রান্না হয়নি, নেই তার স্ত্রীর হদিসও। পেটে ক্ষুধার জ্বালা। সেই জ্বালা পেটে চেপেই বউকে মোবাইল করলেন।

ফোনের ওপ্রান্তের কথা শুনে হাসান আলীর ক্ষুধা চলে গেল মুহূর্তে। হাসান আলীর বউকে যখন জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কোথায়? বউ জবাব দিল, ‘‘ফেসবুকে দেখলাম, চারদিকে নাকি করোনাভাইরাসের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সবাইকে ‘ফেস মাস্ক’ ব্যবহার করতে বলছে। আমি পার্লারে এসে একটি ফেস চুজ করে মাস্ক নিচ্ছি!” হাসান আলী ফোনেই হা হা করে উঠলেন, ‘আরে এ মাস্ক মানে মুখে আটা, ময়দা, সুজি মাখা না। মানুষ মুখে যে মুখোশ পরে, এ মাস্ক সেই মাস্ক। তুমি তাড়াতাড়ি বাসায় আস। তোমার মাস্ক মাখা লাগবে না!’

কথা শুনে হাসান আলীর বউয়ের মন খারাপ হয়ে গেল। এমনিতেই বিউটি পার্লারে গেলে হাসান আলী প্রতিদিন ঘ্যানঘ্যান করে। একটা দারুণ সুযোগ ছিল। সমাজের সবাই যেটা করে সেটাতে তো আর তার স্বামী বাধা দিতে পারবে না। তাই মনের সুখে পার্লারে যাওয়া যেত। অথচ এ মাস্ক মানে নাকি মুখোশ!

এদিকে খাবার না খেয়েই হাসান আলী তার দোকানে চলে গেল। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে এমন সময় তার বন্ধু কলিমের সঙ্গে দেখা। কলিম তার বন্ধু হাসান আলীর মুখে মাস্ক দেখে ঠাট্টা শুরু করল। বলল, ‘কিরে, তোরে আবার যক্ষ্মায় ধরল নাকি? হঠাৎ মুখ-টুখ ঢেকে ঘুরছিস? নাকি পাওনাদার আসবে তাই মুখ লুকাচ্ছিস?’ হাসান আলী ক্ষেপে গেলেন, ‘আরে পাগল, দিন-দুনিয়ার খোঁজখবর কিছু রাখিস? জানিস না, করোনাভাইরাস হওয়ার ভয় আছে। তাই সবাই মাস্ক ব্যবহার করছে।’

‘তাই তো বলি, সবাই এখন লবণের মতো মাস্ক স্টক করে কেন?’

‘সে যাই হোক বন্ধু, রিস্ক নেয়া যাবে না। দাম বেশি হলেও তুমিও একটা মাস্ক কিনে ব্যবহার কর।’

‘না রে দোস্ত, আমার কখনও মুখোশ পরা হবে না।’

‘কেন?’

‘সে এক বিরাট কাহিনী। বিয়ের আগে এক ভ্যালেন্টাইন’স ডে’তে তোর ভাবিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। হঠাৎ দেখি কপোত-কপোতীরা বিভিন্ন রকমের সুন্দর সুন্দর মাস্ক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওই যে হলিউডের মুভিতে যেসব মাস্ক পরে আর কি। আমি একটু ভাব নিতে তোর ভাবিকে বললাম, আসলে নিজের আসল চেহারা লুকাতেই ওইসব ছেলেপেলে নিজেদের মুখ লুকাচ্ছে মাস্কের আড়ালে। অথচ আমি তোমার পাশে আজীবন রিয়েল চেহারা নিয়েই থাকব। এরপর আমাদের বিয়ে হল। বিয়ের কিছুদিন পর তোর ভাবির কী যেন এক ফ্লু ধরা পড়ল। ডাক্তার তোর ভাবিকে তো অবশ্যই এমনকি বাসার সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে বলল। আমি সবার জন্য মাস্ক আনলাম। সবাইকে মাস্ক পরতে দিয়ে যখন নিজে পরতে গেলাম অমনি তোর ভাবি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল! আমি বললাম, কী হল হঠাৎ? এমন রাগ করছ কেন? বউ জবাব দিল, তুমি না ওয়াদা করছিলা সারা জীবন আমার সামনে রিয়েল মুখে থাকবা? তাহলে মুখে এ মুখোশ পরছ কেন? আমি তো বউয়ের কথা শুনে থ! কী আর করা! নিজের কথা নিজেই গিলে নিলাম। আর কদিন পর বউয়ের ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে তার পাশেই আশ্রয় নিলাম!’ হাসান আলী বিস্ময়ের সঙ্গে বলে উঠল, ‘তাই বলে তুই তোর বউকে মাস্ক আর মুখোশের পার্থক্য বুঝাবি না!’

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪৮ ১৫
বিশ্ব ৬,৫০,৫৬৭১,৩৯,৫৫২৩০,২৯৯
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×