সংরক্ষিত পাঠক আসন

নতুন জামাইর কাণ্ড

  ইব্রাহীম রাসেল ১৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন বিয়ে করেছে ঝন্টু মিয়া। সব কিছুতেই সে একটু বেশি বেশি। বিয়ের পর প্রথম এলো শ্বশুরবাড়ি। আষাঢ় মাস। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামের বাড়ি বর্ষা ঋতুতে যা হয়, রাস্তাঘাট কাদায় পরিপূর্ণ। বাড়ির চারদিকে বৃষ্টির জল জমে আছে। নতুন জামাই আসার কারণে শ্বশুরবাড়িতে একটা রমরমা পরিবেশ। তাকে আপ্যায়ন করার জন্য চলছে নানা আয়োজন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শাশুড়ির বেগ পেতে হচ্ছে রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য আয়োজনে। চুলার ভেতর পানি জমে গেছে। রান্নার কাঠ ভেজা। নতুন জামাইকে আপ্যায়ন করা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গেছেন শাশুড়ি। চুলায় রান্না বসিয়ে চুলার ভেতর ফুঁকছেন। চুলা ও কাঠ ভেজা হওয়ার কারণে আগুন ঠিকমতো জ্বলছে না। দুপুর হয়ে গেছে। সকালে পুকুর থেকে মাছ তুলে কেটে রেখেছেন। এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে গাছ উপড়ে গিয়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কাল থেকে বিদ্যুৎ নেই ঘরে। আর পল্লী বিদ্যুতের লাইনে কোনো সমস্যা হলে দু-একদিনে সুরাহা হয় না। তাই কাটা মাছগুলো যে ফ্রিজে রাখবেন তারও উপায় নেই। মাছগুলো হাতে ধরে দেখলেন নরম হয়ে কিছুটা গন্ধ তৈরি হয়েছে। চিন্তা আরও বাড়ল। এই মাছ কী করে নতুন জামাইকে খাওয়াবেন! উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ঘরের ভেতর পায়চারি করছেন। এদিকে বাড়ির অন্য সবাই নতুন জামাইকে ঘিরে ব্যস্ত।

ঝন্টু মিয়া অনেকক্ষণ ধরে শাশুড়ির অবস্থা দেখছিল। হঠাৎ সে রান্নাঘরে ছুটে এলো। শাশুড়িকে বলল, ‘আম্মা, আপনি এত চিন্তা করছেন কেন? আমার মতো জামাই থাকতে এসব রান্না-বান্না নিয়ে কোনো টেনশন করতে হবে না। আপনি একটু পাশে সরুন আমি আপনার চুলা জ্বালানোর ব্যবস্থা করছি।’ এই বলে ঝন্টু মিয়া চুলার কাছে মুখ নিয়ে জোরে ফুঁ দিলেন, অমনি চুলার ভেতর থেকে ছাই বের হয়ে ঝন্টুর পুরো মুখে মেখে গেল। বাড়ির অন্য সবাই ছুটে এলো। জামাইর এই রূপ দেখে সবাই খুব হাসাহাসি করল। তবু ঝন্টু মিয়া হাল ছাড়ার পাত্র না। ফুঁ দিতে দিতে রান্নাঘর মোটামুটি ছাইয়ে ভরে ফেলল। শাশুড়ি এবার বললেন, ‘হইছে বাবা, এবার থাম।’

ঝন্টু মিয়া বলল, ‘আম্মা, মাছগুলো গন্ধ হয়েছে? সমস্যা নেই। আমি আবার মাছ ধরে দিচ্ছি।’ বাইরে তখনও প্রবল বর্ষণ। ঝন্টু মিয়া বৃষ্টির মধ্যে জাল নিয়ে চলে গেল পুকুর ঘাটে। অনেকবার পুকুরে জাল মারার পরেও একটা মাছও তুলতে পারল না। ইজ্জতের ব্যাপার! এবার জাল রেখে ডুবে ডুবে মাছ ধরার জন্য ঝাঁপ দিলো পুকুরে। কয়েকটা ডুব দেয়ার পর শেষমেশ একটা পুঁটি মাছ নিয়ে উঠলো। পুকুরের চারপাশে উৎসুক ছোট শ্যালক-শ্যালিকারা। সবাই হেসে কুটিকুটি। শাশুড়ি দৌড়ে এসে বললেন, ‘বাবা এবার ওঠ। ঠাণ্ডা লেগে যাবে।’

রান্না শেষ হতে হতে বিকাল হয়ে গেল। টেবিলে খাবার দেয়া হল। ঝন্টু মিয়া খাবার সামনে নিয়ে বসে আছেন। আচমকা তার হাঁচি শুরু হল। সমানে হাঁচি দিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টির জলে ভিজে আর পুকুরে ডুবে তার ঠাণ্ডা লেগে যায়। হাঁচির তোড়ে এক পর্যায়ে খাবার ছিটকে পাশে বসা শ্বশুরের গায়ে গিয়ে পড়ে। শ্বশুর তো হতবাক। না পারছেন কিছু বলতে, না পারছেন মেনে নিতে। এদিকে ঝন্টু মিয়ার নতুন বউ, মানে এ বাড়ির মেয়ে এসব দেখে তার মাথা গরম হয়ে যায়। স্বামীর এমন কাণ্ড-কারখানা দেখে ভীষণ মন খারাপ তার। খাবার টেবিল ছেড়ে দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিল। মা পিছু পিছু গেলেন। মাকে দেখে কান্নার তোড় আরও বেড়ে যায়। মাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে বলতে লাগল, ‘এ কোন পাগলের সঙ্গে আমার বিয়ে দিলে মা! সারা জীবন আমার এই লোকের পাগলামি সহ্য করতে হবে? আমি কিছুতেই মানতে পারছি না...।’

ঝন্টু মিয়াও পিছু পিছু এসে রুমের দরজার পাশে দাঁড়াল। আড়াল থেকে শাশুড়ি আর বউয়ের কথা শুনছিল। কোনো মতে হাঁচি চেপে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আটকাতে ব্যর্থ হলে আচমকা বিকট আওয়াজে হাঁচি বের হল। হাঁচির শব্দ শুনে আঁতকে উঠে শাশুড়ি রুমে রাখা আলমারির ওপর গিয়ে পড়লেন। মাথায় আঘাত লাগল তার। জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন তিনি। ঘরের মধ্যে হইচই শুরু হল।

নতুন জামাইর এসব কাণ্ড দেখে শ্বশুর আর মেনে নিতে পারলেন না। পাশের রুমে গিয়ে ঝন্টুর বাবাকে ফোন করে ছেলের কাণ্ড খুলে বললেন। ঝণ্টুর বাবা বললেন, ‘বেয়াই, ওকে এসব বিষয় নিয়ে খোঁচা দিলে কিন্তু ভীষণ রেগে যাবে। আর ঝন্টু রেগে গেলে মাথা ঠিক থাকে না। যাকে তাকে কামড়ানো শুরু করে!’

ফোনের ওপাশ থেকে ঝন্টুর বাবার কথা শুনে তার হাত-পা যেন ঠাণ্ডা হয়ে আসে। জামাইর আবার কামড়ানো রোগও আছে!

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত