শ্বশুরবাড়িতে একদিন
jugantor
শ্বশুরবাড়িতে একদিন

   

০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক দিন জামাই শ্বশুরবাড়ি আসে না। সে জন্য শ্বশুরের খুব নিন্দা। লোকজন বলে, তোমার বাড়ি জামাই আসে না কেন! নিশ্চয়ই এর মাঝে কোনো গোপন কারণ আছে।

কারণ যা আছে, শ্বশুর মশাই তা ভালোই জানেন। কারণ হল মেয়ে তার একমাত্র সন্তান। তাই শ্বশুরবাড়ি শালা, শালি নেই। ফলে শ্বশুরবাড়িতে আনন্দ-ফুর্তি করার মতোও কেউ নেই। জামাই তাই শ্বশুরবাড়ি আসে না।

অনেক ভেবে শ্বশুর ঠিক করলেন, জামাইবাবাকে এবার শ্বশুরবাড়িতে আনতেই হবে। না হয় তিনি নিজেই জামাইয়ের সঙ্গে একটু ঠাট্টা-মসকরা করবেন। বাড়িতে তো অন্য কেউ নেই। আর প্রতিবেশীরাও এসব দেখতে আসবে না কেউ।

পরদিনই হাটে জামাই-শ্বশুরের দেখা হয়ে গেল। শ্বশুর জামাইকে বললেন, ‘তা বাবাজি আমাদের ওমুখো যে আর হনই না। আজ চলুন আমাদের বাড়ি।’ জামাই জবাবে বলল, ‘আব্বাজান, আপনাদের বাড়ি গিয়ে কী করব, বাড়িতে শালা-সম্বন্ধী কেউ নেই। কার সঙ্গেই বা বসে একটু গল্প করব?’

শ্বশুর এবার মিথ্যা গল্প ফাঁদলেন। বললেন, ‘ঢাকা থেকে আমার দুই ভাইপো এসেছে, কলেজে পড়ে, সম্পর্কে ওরা তোমার শালা হয়। ওরাও তোমাকে দেখেনি কোনোদিন। তোমাকে পেলে খুশিই হবে। শালা-দুলাভাই একটু হাসি-তামাশা করতে পারবে।’

শুনে জামাই রাজি হল। কিন্তু বাড়ি এসে দেখে ওরা কেউই আসেনি। শ্বশুর আব্বা তাকে ফাঁকি দিয়েছেন। জামাই ভাবল, দিনটিই মাটি হল।

এদিকে আহারের সময় হল। গ্রাম-বাংলার রীতি হল শ্বশুরবাড়ি এসে জামাইরা শালাদের সঙ্গে বসে ভাত খাবে। শ্বশুর তার স্ত্রীকে বললেন, ‘বউ, আজ বড় থালায় ভাত দাও, আমি আর আমার জামাই বাবা একই থালায় ভাত খাব।’

শ্বশুর আর জামাই একই থালায় ভাত খেতে বসল। নানা পদের তরকারি দিয়ে খাওয়া চালিয়ে যেতে লাগল দু’জন। শ্বশুর ভাবলেন একটু, মজা করবেন। চালাকি করে, যেভাবেই হোক জামাইকে আজ ক্ষীর খেতে দেবেন না।

তিনি জামাইকে বললেন, ‘জামাই, খাওয়া তো শেষ হয়েছে, এবার তাহলে হাতটা ধুয়ে ফেলুন।’ জামাই দেখল, শ্বশুর মশাই তাকে ক্ষীর থেকে বঞ্চিত করার মতলব করছেন। জামাইও কম চালাক নন। সে একটা গল্প ফেঁদে বসল এবার, ‘হাত আর ধোব কী! আপনার বাড়িতে আসার সময় সামনে পড়ল প্রকাণ্ড এক সাপ। বললে বিশ্বাস করবেন না, ওই যে শিকার উপরে ক্ষীরের হাঁড়িটা ঝুলছে না, ওই অত উঁচু এক ফনা মেলে ধরল আমার দিকে।’

শ্বশুর এবার বুঝতে পারলেন, তিনি ধরা পড়ে গেছেন। জামাই ক্ষীরের কথা টের পেয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, ‘তাই তো বাবাজি, ক্ষীরের কথা তো একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম!’

শাশুড়ি মুচকি হেসে তাড়াতাড়ি ক্ষীর এনে দিলেন। জামাই ভাবল, শ্বশুর আব্বা আমাকে ক্ষীর খাওয়া থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছে, এই বার আমি তাকে ক্ষীর খেতেই দেব না। জামাই শ্বশুরের সঙ্গে গল্প আরম্ভ করল আবার, ‘এখনকার কলিকালের কথা আর কী বলব, আব্বা! বউরা আর স্বামীকে মানতে চায় না। এ যে ধরেন আপনাদের মেয়ে, যাকে আমি বিয়ে করেছি; আমি যদি তাকে বলি এ দিকে থাকো সে চলে যায় ওইদিকে।’ বলেই তা দেখিয়ে দেয়ার অজুহাতে জামাই ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টেনে নিয়ে ভাতের বাটি শ্বশুরের দিকে ঠেলে দিল।

শ্বশুর দেখলেন, ঠকাবার মতলবে জামাই ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টেনে নিয়েছে। মনে মনে ভাবলেন, আচ্ছা, দেখাচ্ছি মজা!’ উপদেশের ছলে শ্বশুর এবার বললেন, ‘তা বাবাজি তোমরা ছেলে ছোকড়া মানুষ। মিলেমিশে থেকো।’ বলতে বলতে কীভাবে মিলেমিশে থাকতে হবে, তা দেখানোর ছলে টেনে নিয়ে ক্ষীর আর ভাত একসঙ্গে মেখে ফেললেন। জামাই বুঝতে পারলেন শ্বশুর মশাই তার চেয়ে কম চালাক নন। তাই আর চালাকি না করে আনন্দের সঙ্গে শ্বশুর আর জামাই তাদের আহার পর্ব শেষ করল।

শ্বশুরবাড়িতে একদিন

  
০৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক দিন জামাই শ্বশুরবাড়ি আসে না। সে জন্য শ্বশুরের খুব নিন্দা। লোকজন বলে, তোমার বাড়ি জামাই আসে না কেন! নিশ্চয়ই এর মাঝে কোনো গোপন কারণ আছে।

কারণ যা আছে, শ্বশুর মশাই তা ভালোই জানেন। কারণ হল মেয়ে তার একমাত্র সন্তান। তাই শ্বশুরবাড়ি শালা, শালি নেই। ফলে শ্বশুরবাড়িতে আনন্দ-ফুর্তি করার মতোও কেউ নেই। জামাই তাই শ্বশুরবাড়ি আসে না।

অনেক ভেবে শ্বশুর ঠিক করলেন, জামাইবাবাকে এবার শ্বশুরবাড়িতে আনতেই হবে। না হয় তিনি নিজেই জামাইয়ের সঙ্গে একটু ঠাট্টা-মসকরা করবেন। বাড়িতে তো অন্য কেউ নেই। আর প্রতিবেশীরাও এসব দেখতে আসবে না কেউ।

পরদিনই হাটে জামাই-শ্বশুরের দেখা হয়ে গেল। শ্বশুর জামাইকে বললেন, ‘তা বাবাজি আমাদের ওমুখো যে আর হনই না। আজ চলুন আমাদের বাড়ি।’ জামাই জবাবে বলল, ‘আব্বাজান, আপনাদের বাড়ি গিয়ে কী করব, বাড়িতে শালা-সম্বন্ধী কেউ নেই। কার সঙ্গেই বা বসে একটু গল্প করব?’

শ্বশুর এবার মিথ্যা গল্প ফাঁদলেন। বললেন, ‘ঢাকা থেকে আমার দুই ভাইপো এসেছে, কলেজে পড়ে, সম্পর্কে ওরা তোমার শালা হয়। ওরাও তোমাকে দেখেনি কোনোদিন। তোমাকে পেলে খুশিই হবে। শালা-দুলাভাই একটু হাসি-তামাশা করতে পারবে।’

শুনে জামাই রাজি হল। কিন্তু বাড়ি এসে দেখে ওরা কেউই আসেনি। শ্বশুর আব্বা তাকে ফাঁকি দিয়েছেন। জামাই ভাবল, দিনটিই মাটি হল।

এদিকে আহারের সময় হল। গ্রাম-বাংলার রীতি হল শ্বশুরবাড়ি এসে জামাইরা শালাদের সঙ্গে বসে ভাত খাবে। শ্বশুর তার স্ত্রীকে বললেন, ‘বউ, আজ বড় থালায় ভাত দাও, আমি আর আমার জামাই বাবা একই থালায় ভাত খাব।’

শ্বশুর আর জামাই একই থালায় ভাত খেতে বসল। নানা পদের তরকারি দিয়ে খাওয়া চালিয়ে যেতে লাগল দু’জন। শ্বশুর ভাবলেন একটু, মজা করবেন। চালাকি করে, যেভাবেই হোক জামাইকে আজ ক্ষীর খেতে দেবেন না।

তিনি জামাইকে বললেন, ‘জামাই, খাওয়া তো শেষ হয়েছে, এবার তাহলে হাতটা ধুয়ে ফেলুন।’ জামাই দেখল, শ্বশুর মশাই তাকে ক্ষীর থেকে বঞ্চিত করার মতলব করছেন। জামাইও কম চালাক নন। সে একটা গল্প ফেঁদে বসল এবার, ‘হাত আর ধোব কী! আপনার বাড়িতে আসার সময় সামনে পড়ল প্রকাণ্ড এক সাপ। বললে বিশ্বাস করবেন না, ওই যে শিকার উপরে ক্ষীরের হাঁড়িটা ঝুলছে না, ওই অত উঁচু এক ফনা মেলে ধরল আমার দিকে।’

শ্বশুর এবার বুঝতে পারলেন, তিনি ধরা পড়ে গেছেন। জামাই ক্ষীরের কথা টের পেয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, ‘তাই তো বাবাজি, ক্ষীরের কথা তো একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম!’

শাশুড়ি মুচকি হেসে তাড়াতাড়ি ক্ষীর এনে দিলেন। জামাই ভাবল, শ্বশুর আব্বা আমাকে ক্ষীর খাওয়া থেকে বঞ্চিত করতে চেয়েছে, এই বার আমি তাকে ক্ষীর খেতেই দেব না। জামাই শ্বশুরের সঙ্গে গল্প আরম্ভ করল আবার, ‘এখনকার কলিকালের কথা আর কী বলব, আব্বা! বউরা আর স্বামীকে মানতে চায় না। এ যে ধরেন আপনাদের মেয়ে, যাকে আমি বিয়ে করেছি; আমি যদি তাকে বলি এ দিকে থাকো সে চলে যায় ওইদিকে।’ বলেই তা দেখিয়ে দেয়ার অজুহাতে জামাই ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টেনে নিয়ে ভাতের বাটি শ্বশুরের দিকে ঠেলে দিল।

শ্বশুর দেখলেন, ঠকাবার মতলবে জামাই ক্ষীরটুকু নিজের দিকে টেনে নিয়েছে। মনে মনে ভাবলেন, আচ্ছা, দেখাচ্ছি মজা!’ উপদেশের ছলে শ্বশুর এবার বললেন, ‘তা বাবাজি তোমরা ছেলে ছোকড়া মানুষ। মিলেমিশে থেকো।’ বলতে বলতে কীভাবে মিলেমিশে থাকতে হবে, তা দেখানোর ছলে টেনে নিয়ে ক্ষীর আর ভাত একসঙ্গে মেখে ফেললেন। জামাই বুঝতে পারলেন শ্বশুর মশাই তার চেয়ে কম চালাক নন। তাই আর চালাকি না করে আনন্দের সঙ্গে শ্বশুর আর জামাই তাদের আহার পর্ব শেষ করল।