এখন কটা বাজে?
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
এখন কটা বাজে?

  আশরাফুল আলম পিনটু  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা রাত ট্রাক চালিয়ে ক্লান্ত টম। হাইওয়েতে খুব সাবধান থাকতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই দুর্ঘটনা। আর দুর্ঘটনা মানেই জীবন নিয়ে টানাটানি। ঘুমানোর জো নেই। সামান্য ঢুলুনিও চলবে না। সারাক্ষণ সজাগ থাকতে হয়। সাঁই সাঁই করে বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসে। পাশ কাটিয়ে চলে যায়। পেছন থেকে হর্ন বাজিয়ে সামনে বেরিয়ে যায় অনেক গাড়ি। সে এক ঝকমারি ঝামেলা। বিপদ হতে কতক্ষণ! একমাত্র ট্রাকচালকরাই বোঝে, হাইওয়ে কী জিনিস!

শুধু রাতই নয়, দিন-রাত মিলিয়ে টানা ১৬ ঘণ্টা ট্রাক চালিয়েছে টম। হাইওয়ে থেকে যখন নামল, ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। শহরে এখন ট্রাক নিয়ে ঢোকা বারণ। কাছেই গাছগাছালি ভরা একটি পার্ক। লোকজন হাঁটতে আসতে শুরু করেছে।

পার্কের পাশঘেঁষে ট্রাক দাঁড় করল টম। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে। ক্লান্তিতে ঘুম আসছে চোখজুড়ে। ভাবল, এখন তাহলে ঘুমিয়ে নেয়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। চালকের সিটেই ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু অল্পক্ষণেই ঘুম ভেঙে গেল টমের। কেউ একজন ট্রাকের দরজায় নক করছে।

জানালায় মুখ বাড়িয়ে টম জানতে চাইল, ‘কী চান?’

পার্কে জগিং করতে আসা একজন জানতে চাইল, ‘এখন কটা বাজে বলতে পারবেন?’

‘হ্যাঁ পারব। এখন বাজে ৪টা ৩০।’ হাতের ঘড়ি দেখে বলল টম।

লোকটা চলে গেলে টম ঘুমিয়ে

পড়ল। কিন্তু আবার জাগতে হল আরেকজনের ডাকে। এ লোকটিও সময় জানতে চাইল।

‘এখন সময় ৪টা ৪০।’ বিরক্ত টম জানাল।

আবার ঘুমানোর চেষ্টা করতেই আরও একজন ডাকল টমকে। আগের দু’জনের মতোই সময় জানতে চাইল।

টম রাগে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এখন বাজে ৪টা ৫০।’

লোকটি চলে গেল। টম ভাবল, এভাবে চলতে থাকলে ঘুমের বারোটা বাজবে! ঠিকমতো ঘুমানো যাবে না। তাই বুদ্ধি বের করল। একটি কাগজে লিখল, ‘এখন কটা বাজে আমি জানি না’। কাগজটি টাঙিয়ে দিল জানালার কাচে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু একটু পরেই আবারও জাগতে হল তাকে। দরজায় বাড়ি মারছে কেউ।

টম মুখ বাড়াতেই লোকটি কবজির ঘড়ি দেখে বলল, ‘এখন বাজে

৫টা ২৫!’

ভিনদেশি রসিকতা

এখন কটা বাজে?

 আশরাফুল আলম পিনটু 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা রাত ট্রাক চালিয়ে ক্লান্ত টম। হাইওয়েতে খুব সাবধান থাকতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই দুর্ঘটনা। আর দুর্ঘটনা মানেই জীবন নিয়ে টানাটানি। ঘুমানোর জো নেই। সামান্য ঢুলুনিও চলবে না। সারাক্ষণ সজাগ থাকতে হয়। সাঁই সাঁই করে বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসে। পাশ কাটিয়ে চলে যায়। পেছন থেকে হর্ন বাজিয়ে সামনে বেরিয়ে যায় অনেক গাড়ি। সে এক ঝকমারি ঝামেলা। বিপদ হতে কতক্ষণ! একমাত্র ট্রাকচালকরাই বোঝে, হাইওয়ে কী জিনিস!

শুধু রাতই নয়, দিন-রাত মিলিয়ে টানা ১৬ ঘণ্টা ট্রাক চালিয়েছে টম। হাইওয়ে থেকে যখন নামল, ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। শহরে এখন ট্রাক নিয়ে ঢোকা বারণ। কাছেই গাছগাছালি ভরা একটি পার্ক। লোকজন হাঁটতে আসতে শুরু করেছে।

পার্কের পাশঘেঁষে ট্রাক দাঁড় করল টম। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করছে। ক্লান্তিতে ঘুম আসছে চোখজুড়ে। ভাবল, এখন তাহলে ঘুমিয়ে নেয়া যাক। যেই ভাবা সেই কাজ। চালকের সিটেই ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু অল্পক্ষণেই ঘুম ভেঙে গেল টমের। কেউ একজন ট্রাকের দরজায় নক করছে।

জানালায় মুখ বাড়িয়ে টম জানতে চাইল, ‘কী চান?’

পার্কে জগিং করতে আসা একজন জানতে চাইল, ‘এখন কটা বাজে বলতে পারবেন?’

‘হ্যাঁ পারব। এখন বাজে ৪টা ৩০।’ হাতের ঘড়ি দেখে বলল টম।

লোকটা চলে গেলে টম ঘুমিয়ে

পড়ল। কিন্তু আবার জাগতে হল আরেকজনের ডাকে। এ লোকটিও সময় জানতে চাইল।

‘এখন সময় ৪টা ৪০।’ বিরক্ত টম জানাল।

আবার ঘুমানোর চেষ্টা করতেই আরও একজন ডাকল টমকে। আগের দু’জনের মতোই সময় জানতে চাইল।

টম রাগে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এখন বাজে ৪টা ৫০।’

লোকটি চলে গেল। টম ভাবল, এভাবে চলতে থাকলে ঘুমের বারোটা বাজবে! ঠিকমতো ঘুমানো যাবে না। তাই বুদ্ধি বের করল। একটি কাগজে লিখল, ‘এখন কটা বাজে আমি জানি না’। কাগজটি টাঙিয়ে দিল জানালার কাচে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু একটু পরেই আবারও জাগতে হল তাকে। দরজায় বাড়ি মারছে কেউ।

টম মুখ বাড়াতেই লোকটি কবজির ঘড়ি দেখে বলল, ‘এখন বাজে

৫টা ২৫!’