পেঁয়াজের ঝাঁঝ
jugantor
সংরক্ষিত পাঠক আসন
পেঁয়াজের ঝাঁঝ

  মুহাম্মদ ইয়াকুব  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজের দোকানে যাচ্ছি না ক’দিন ধরে। আজ সকাল থেকেই গিন্নী কানের কাছে ঘ্যানরঘ্যানর করছে, পেঁয়াজ লাগবে। রাগের সুরে বললাম, ‘পেঁয়াজ বাদ দাও- আপেল খাও।’

দ্বিগুণ রেগে গিয়ে গিন্নী উত্তরে বলল, ‘মাথার স্ক্রু ঠিক আছে? পেঁয়াজের কাজ কি আপেল দিয়ে সারা যায়!’ আমি বললাম, ‘এ কথা এখানে বলেছ ঠিক আছে, খবরদার বাইরে বলবা না!’

এদিকে আমার ত্রাহি অবস্থা! বাইরে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, ঘরে বউয়ের ঝাঁঝ।

সন্ধ্যায় বাজারে গেলাম। তিন দিন আগের অভিজ্ঞতা ছিল- ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ ও ১২০। দেখা যাক, আজকের অভিজ্ঞতা কেমন হয়। পেঁয়াজের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘পেঁয়াজ কত?’

পরিচিত দোকানদার একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘সকালে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছি স্যার, এখন ২০!’

শুনে ফুরফুরে মেজাজে বললাম, ‘পাঁচ কেজি দিন।’

দোকানদার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার ভাব দেখে মনে হল, পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য দেখছেন! আমি কিছুটা বিস্মিত। বললাম, ‘কী হল ভাই? এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যান?’

দোকানদার বললেন, ‘স্যার, এত পেঁয়াজ কী করবেন? সবাই বলছে দাম নাকি কমে যাবে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ কেজি তো দূরের কথা- কেউ এক লগে দু’কেজি পেঁয়াজও কিনেনি।’

আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘২০ টাকার চেয়েও কমে যাবে?’

এবার দোকানদার ভদ্রলোক একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘স্যার, ২০ টাকা মানে ১২০ টাকার কথা বলেছি। সকালে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি!’

আমি তো আর নেই। অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলাম, ‘তাহলে ২৫০ গ্রাম দিন!’

সাভার, ঢাকা।

সংরক্ষিত পাঠক আসন

পেঁয়াজের ঝাঁঝ

 মুহাম্মদ ইয়াকুব 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পেঁয়াজের দোকানে যাচ্ছি না ক’দিন ধরে। আজ সকাল থেকেই গিন্নী কানের কাছে ঘ্যানরঘ্যানর করছে, পেঁয়াজ লাগবে। রাগের সুরে বললাম, ‘পেঁয়াজ বাদ দাও- আপেল খাও।’

দ্বিগুণ রেগে গিয়ে গিন্নী উত্তরে বলল, ‘মাথার স্ক্রু ঠিক আছে? পেঁয়াজের কাজ কি আপেল দিয়ে সারা যায়!’ আমি বললাম, ‘এ কথা এখানে বলেছ ঠিক আছে, খবরদার বাইরে বলবা না!’

এদিকে আমার ত্রাহি অবস্থা! বাইরে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, ঘরে বউয়ের ঝাঁঝ।

সন্ধ্যায় বাজারে গেলাম। তিন দিন আগের অভিজ্ঞতা ছিল- ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ ও ১২০। দেখা যাক, আজকের অভিজ্ঞতা কেমন হয়। পেঁয়াজের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘পেঁয়াজ কত?’

পরিচিত দোকানদার একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘সকালে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছি স্যার, এখন ২০!’

শুনে ফুরফুরে মেজাজে বললাম, ‘পাঁচ কেজি দিন।’

দোকানদার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার ভাব দেখে মনে হল, পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য দেখছেন! আমি কিছুটা বিস্মিত। বললাম, ‘কী হল ভাই? এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যান?’

দোকানদার বললেন, ‘স্যার, এত পেঁয়াজ কী করবেন? সবাই বলছে দাম নাকি কমে যাবে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ কেজি তো দূরের কথা- কেউ এক লগে দু’কেজি পেঁয়াজও কিনেনি।’

আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘২০ টাকার চেয়েও কমে যাবে?’

এবার দোকানদার ভদ্রলোক একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘স্যার, ২০ টাকা মানে ১২০ টাকার কথা বলেছি। সকালে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি!’

আমি তো আর নেই। অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলাম, ‘তাহলে ২৫০ গ্রাম দিন!’

সাভার, ঢাকা।