এলিয়েনরা যখন বাংলাদেশে
jugantor
এলিয়েনরা যখন বাংলাদেশে

  মুনিয়া মুন  

১৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেষবারের মতো হেডক সব আয়োজন নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামীকাল মিনিহা গ্রহের এলিয়েনরা পৃথিবীতে বেড়াতে আসবে। গত ছয় মাস আগে পৃথিবী থেকে তাদের ইনভাইট করেছে। অবশেষে তারা দাওয়াত গ্রহণ করে আগামীকাল পৃথিবীতে আসবে। এ উপলক্ষে গোটা পৃথিবীকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। আর এসব কিছু যে ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করছেন তিনি হলেন বিজ্ঞানী হেডক। এজন্য তার ব্যস্ততার শেষ নেই।

এলিয়েনরা কোন দেশে এসে অবতরণ করবে তা নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। প্রত্যেক দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। যদি না এলিয়েনরা সাহায্য না করত তাহলে পৃথিবীতে বেজে উঠত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। এলিয়েনরা জানিয়ে দেয় তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে অবতরণ করবে!

তাই গোটা পৃথিবী থেকে বরেণ্য ব্যক্তিরা এসে বাংলাদেশে হাজির হয়েছেন। যথাসময়ে এলিয়েনরা হাজির হল। তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হল সবাই। এলিয়েনদের জন্য আগেই রাস্তা ফাঁকা করে রাখা হয়। ফলে পাঁচমাইল লম্বা জ্যাম লেগে গেল। আর তাদের গাড়িগুলো যাচ্ছে সাঁই সাঁই করে পাখির মতো উড়তে উড়তে।

‘আচ্ছা ওই গাড়িগুলো রাস্তার ওপর এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেন?’ জানতে চাইল এলিয়েন প্রাইম মিনিস্টার লিওনো।

‘আসলে ওরা আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে। পৃথিবীতে এভাবেই সম্মানীয় অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়।’ জবাব দিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নেতা।

‘ওহ আচ্ছা।’ তৃপ্তির হাসি দিল লিওনো।

‘স্যার, ওরা তো স্বাগত জানাচ্ছে না! জ্যাম লেগেছে তাই গাড়ি সব দাঁড়িয়ে আছে!’ নেতার কানে ফিসফিস করে বলল চামচা প্রকৃতির একজন।

‘আমাকে বোকা পেয়েছ! আমি তো জানিই, জ্যামের কারণে গাড়ি সব দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা তো এদের বলা যাবে না। মান-সম্মানের ব্যাপার আছে না।’

‘জি স্যার, বুঝতে পেরেছি।’

বেশ কিছুক্ষণ পর এলিয়েন বিজ্ঞানী জেমস বলল, ‘আমি একটা গন্ধ পাচ্ছি। পচা দুর্গন্ধ! আপনারা কী পাচ্ছেন?’ কথা শেষ হতে না হতেই জেমস বমি করে দিল। কয়েক মিনিট পরে দেখা গেল, এলিয়েনরা রাস্তার পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে বমি করছে! উৎকণ্ঠিত জনতা তাদের মাথায় পানি ঢালছে। আচার খেতে দিচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। বমি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে বিজ্ঞানী জেমস বলল, ‘রাস্তার পাশে এমন ময়লা কেন?’

‘এগুলো ময়লা নয়, খাবার!’

‘এ্যাঁ, আপনারা এসব খাবার খান?’

‘না, এগুলো আমাদের খাবার না। এগুলো হল পশু-পাখির খাবার।’

‘পশু-পাখির খাবার!’

‘জি। আমরা নির্বাচনের সময় দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি দেশের সবার এমনকি পশু-পাখির দৈনিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করব। এ কারণে আমরা শহরে রাস্তার পাশে পশু-পাখিদের জন্য খাদ্য সাজিয়ে রাখি! দেখুন দেখুন, পাখিরা কীভাবে মনের সুখে খাবার খাচ্ছে।’

‘কিন্তু খাবারে এতো দুর্গন্ধ কেন?’ জানতে চাইল লিওনো।

‘পশু-পাখির খাবার তো তাই!’

আহা! কত সুন্দর করেই না দেশের সম্মান বাঁচিয়ে দিলেন জনৈক নেতা। বোকা এলিয়েনরা হয়তো ময়লা-আবর্জনাগুলোকে সত্যিই পশু-পাখির খাবার ভেবে বসে আছে!

দীর্ঘ ভ্রমণে এলিয়েনরা বেশ ক্লান্ত। তাছাড়া বমি করার কারণে তাদের শরীরও ভীষণ খারাপ। সন্ধ্যা সাতটায় তাদের ঘুম ভাঙল।

‘জেমস, আমি বের হবো, তুমি যাবে আমার সঙ্গে?’ জানতে চাইল লিওনো।

‘যাবো, কিন্তু কোথায়?’

‘শহরটা একটু ঘুরে দেখে আসি।’

‘সিকিউরিটিদের তাহলে খবর পাঠাই?’

‘নাহ, সিকিউরিটি নিয়ে মিছিল করে কিছু দেখতে ইচ্ছে করে না।’

‘তাহলে?’

‘ছদ্মবেশে যাবো। নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে বসে গল্প করব।’

‘ওকে স্যার, চলুন।’

‘লিওনো আর জেমস একটা চিপা গলি ধরে হাঁটতে শুরু করে। মুখে তাদের প্রশান্তির হাসি। জেমসের হাতে একটা ক্যামেরা। সুন্দর কিছু দেখলে ছবি তুলে নেয় সে। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন তার ক্যামেরাটা নিয়ে দৌড় লাগাল। জেমসও তার পিছু নিল। এদিকে এলিয়েন প্রাইম মিনিস্টার লিওনো কী করবে বুঝতে না পেরে রাস্তায় বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পর জেমস যখন ফিরে এলো দেখে লিওনোকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে! জেমস চিৎকার করে বলল, ‘কী করেছেন তিনি? তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছো কেন?’

পুলিশ অফিসার ঘোঁতঘোঁত কর বলল, ‘এ লোকটা গতকাল পুলিশের গাড়িতে ঢিল ছুড়েছে! এতে ঘটনাস্থলে তিনজন পুলিশ আহত হওয়ার সাময়িক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল! তাই তাকে গ্রেফতার করা হবে! যদি আপনি ওনার কেউ হয়ে থাকেন তাহলে তৈরি হয়ে থানায় আসুন।’

‘অফিসার, আমার মনে হয় আপনার কোথায়ও ভুল হচ্ছে। কারণ আমরা আজকেই কেবল পৃথিবীতে এসেছি!’

‘ওহ, কিছুক্ষণ আগে জন্ম নিয়েই তোমরা হাঁটাহাঁটি শুরু করে দিয়েছ?’

‘না, অফিসার। আমরা মিনিহা গ্রহ থেকে এসেছি।’ জেমস কথা শেষ করার আগেই পুলিশ অফিসার তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিল।

‘পুলিশের সঙ্গে মশকরা? হাতে কাজ না থাকলে পকেটমার সাজিয়ে একটা ধোলাই দিতাম।’

জেমস গালে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করল। মুখে হাত দিয়ে বুঝতে পারল একটা দাঁত অকালে ঝরে গেছে! আধাঘণ্টা পর থানায় দশটি গাড়ি এসে হাজির হল পরপর।

‘আপনি জানেন কাকে গ্রেফতার করেছেন?’ পুলিশ অফিসারের কাছে জানতে চাইলেন প্রখ্যাত নেতা।

‘এইমাত্র জানলাম স্যার।’

‘দেখেশুনে কাজ করবেন তো!’

‘মাথা ঠিক ছিল না স্যার। আজ সারাদিন খুব খারাপ কেটেছে। আর এমন ভুল হবে না।’

জেমসকে নেয়া হল ডেন্টিস্টের কাছে।

‘তাড়াতাড়ি করো, দাঁতের ব্যথায় মরে যাচ্ছি!’ কাতর গলায় বলল জেমস।

‘আর অল্প স্যার।’

‘কী করছ তুমি?’

‘পড়ছি।’

‘কী পড়ছ?’

‘কীভাবে একটা নতুন দাঁত লাগাতে হয়! আর একটু পড়লেই জেনে যাবো!’

‘তুমি এসব না পড়ে ডাক্তার হলে কীভাবে?’ চিৎকার দিয়ে জানতে চাইল জেমস।

‘ইয়ে মানে ওসব আপনি বুঝবেন না! আপনাদের গ্রহে বুঝি ভুয়া ডাক্তার নেই?’ জেমস আর কথা বাড়াল না। তার খুব হতাশ লাগছে।

দুদিন পর এলিয়েনদের পুরো দল হোটেলের লিফটে আটকা পড়ল লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে। প্রায় দু’ঘণ্টার মামলা। দু’ঘণ্টা পর প্রায় আধমরা অবস্থায় সবাইকে লিফট থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হল। চিকিৎসা শেষে তারা দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। কিন্তু ততদিনে তাদের ব্যক্তিগত রকেটটি চুরি হয়ে যায়! উপায় না পেয়ে পৃথিবী থেকে একটা রকেট ধার করে এলিয়েনরা তাদের গ্রহে ফিরে যায়।

এলিয়েনরা যখন বাংলাদেশে

 মুনিয়া মুন 
১৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শেষবারের মতো হেডক সব আয়োজন নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আগামীকাল মিনিহা গ্রহের এলিয়েনরা পৃথিবীতে বেড়াতে আসবে। গত ছয় মাস আগে পৃথিবী থেকে তাদের ইনভাইট করেছে। অবশেষে তারা দাওয়াত গ্রহণ করে আগামীকাল পৃথিবীতে আসবে। এ উপলক্ষে গোটা পৃথিবীকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। আর এসব কিছু যে ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করছেন তিনি হলেন বিজ্ঞানী হেডক। এজন্য তার ব্যস্ততার শেষ নেই।

এলিয়েনরা কোন দেশে এসে অবতরণ করবে তা নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। প্রত্যেক দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। যদি না এলিয়েনরা সাহায্য না করত তাহলে পৃথিবীতে বেজে উঠত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। এলিয়েনরা জানিয়ে দেয় তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে অবতরণ করবে!

তাই গোটা পৃথিবী থেকে বরেণ্য ব্যক্তিরা এসে বাংলাদেশে হাজির হয়েছেন। যথাসময়ে এলিয়েনরা হাজির হল। তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হোটেলের উদ্দেশে রওনা হল সবাই। এলিয়েনদের জন্য আগেই রাস্তা ফাঁকা করে রাখা হয়। ফলে পাঁচমাইল লম্বা জ্যাম লেগে গেল। আর তাদের গাড়িগুলো যাচ্ছে সাঁই সাঁই করে পাখির মতো উড়তে উড়তে।

‘আচ্ছা ওই গাড়িগুলো রাস্তার ওপর এইভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেন?’ জানতে চাইল এলিয়েন প্রাইম মিনিস্টার লিওনো।

‘আসলে ওরা আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে। পৃথিবীতে এভাবেই সম্মানীয় অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়।’ জবাব দিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নেতা।

‘ওহ আচ্ছা।’ তৃপ্তির হাসি দিল লিওনো।

‘স্যার, ওরা তো স্বাগত জানাচ্ছে না! জ্যাম লেগেছে তাই গাড়ি সব দাঁড়িয়ে আছে!’ নেতার কানে ফিসফিস করে বলল চামচা প্রকৃতির একজন।

‘আমাকে বোকা পেয়েছ! আমি তো জানিই, জ্যামের কারণে গাড়ি সব দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা তো এদের বলা যাবে না। মান-সম্মানের ব্যাপার আছে না।’

‘জি স্যার, বুঝতে পেরেছি।’

বেশ কিছুক্ষণ পর এলিয়েন বিজ্ঞানী জেমস বলল, ‘আমি একটা গন্ধ পাচ্ছি। পচা দুর্গন্ধ! আপনারা কী পাচ্ছেন?’ কথা শেষ হতে না হতেই জেমস বমি করে দিল। কয়েক মিনিট পরে দেখা গেল, এলিয়েনরা রাস্তার পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে বমি করছে! উৎকণ্ঠিত জনতা তাদের মাথায় পানি ঢালছে। আচার খেতে দিচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। বমি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে বিজ্ঞানী জেমস বলল, ‘রাস্তার পাশে এমন ময়লা কেন?’

‘এগুলো ময়লা নয়, খাবার!’

‘এ্যাঁ, আপনারা এসব খাবার খান?’

‘না, এগুলো আমাদের খাবার না। এগুলো হল পশু-পাখির খাবার।’

‘পশু-পাখির খাবার!’

‘জি। আমরা নির্বাচনের সময় দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি দেশের সবার এমনকি পশু-পাখির দৈনিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করব। এ কারণে আমরা শহরে রাস্তার পাশে পশু-পাখিদের জন্য খাদ্য সাজিয়ে রাখি! দেখুন দেখুন, পাখিরা কীভাবে মনের সুখে খাবার খাচ্ছে।’

‘কিন্তু খাবারে এতো দুর্গন্ধ কেন?’ জানতে চাইল লিওনো।

‘পশু-পাখির খাবার তো তাই!’

আহা! কত সুন্দর করেই না দেশের সম্মান বাঁচিয়ে দিলেন জনৈক নেতা। বোকা এলিয়েনরা হয়তো ময়লা-আবর্জনাগুলোকে সত্যিই পশু-পাখির খাবার ভেবে বসে আছে!

দীর্ঘ ভ্রমণে এলিয়েনরা বেশ ক্লান্ত। তাছাড়া বমি করার কারণে তাদের শরীরও ভীষণ খারাপ। সন্ধ্যা সাতটায় তাদের ঘুম ভাঙল।

‘জেমস, আমি বের হবো, তুমি যাবে আমার সঙ্গে?’ জানতে চাইল লিওনো।

‘যাবো, কিন্তু কোথায়?’

‘শহরটা একটু ঘুরে দেখে আসি।’

‘সিকিউরিটিদের তাহলে খবর পাঠাই?’

‘নাহ, সিকিউরিটি নিয়ে মিছিল করে কিছু দেখতে ইচ্ছে করে না।’

‘তাহলে?’

‘ছদ্মবেশে যাবো। নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে বসে গল্প করব।’

‘ওকে স্যার, চলুন।’

‘লিওনো আর জেমস একটা চিপা গলি ধরে হাঁটতে শুরু করে। মুখে তাদের প্রশান্তির হাসি। জেমসের হাতে একটা ক্যামেরা। সুন্দর কিছু দেখলে ছবি তুলে নেয় সে। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ একজন তার ক্যামেরাটা নিয়ে দৌড় লাগাল। জেমসও তার পিছু নিল। এদিকে এলিয়েন প্রাইম মিনিস্টার লিওনো কী করবে বুঝতে না পেরে রাস্তায় বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পর জেমস যখন ফিরে এলো দেখে লিওনোকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে! জেমস চিৎকার করে বলল, ‘কী করেছেন তিনি? তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছো কেন?’

পুলিশ অফিসার ঘোঁতঘোঁত কর বলল, ‘এ লোকটা গতকাল পুলিশের গাড়িতে ঢিল ছুড়েছে! এতে ঘটনাস্থলে তিনজন পুলিশ আহত হওয়ার সাময়িক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল! তাই তাকে গ্রেফতার করা হবে! যদি আপনি ওনার কেউ হয়ে থাকেন তাহলে তৈরি হয়ে থানায় আসুন।’

‘অফিসার, আমার মনে হয় আপনার কোথায়ও ভুল হচ্ছে। কারণ আমরা আজকেই কেবল পৃথিবীতে এসেছি!’

‘ওহ, কিছুক্ষণ আগে জন্ম নিয়েই তোমরা হাঁটাহাঁটি শুরু করে দিয়েছ?’

‘না, অফিসার। আমরা মিনিহা গ্রহ থেকে এসেছি।’ জেমস কথা শেষ করার আগেই পুলিশ অফিসার তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিল।

‘পুলিশের সঙ্গে মশকরা? হাতে কাজ না থাকলে পকেটমার সাজিয়ে একটা ধোলাই দিতাম।’

জেমস গালে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করল। মুখে হাত দিয়ে বুঝতে পারল একটা দাঁত অকালে ঝরে গেছে! আধাঘণ্টা পর থানায় দশটি গাড়ি এসে হাজির হল পরপর।

‘আপনি জানেন কাকে গ্রেফতার করেছেন?’ পুলিশ অফিসারের কাছে জানতে চাইলেন প্রখ্যাত নেতা।

‘এইমাত্র জানলাম স্যার।’

‘দেখেশুনে কাজ করবেন তো!’

‘মাথা ঠিক ছিল না স্যার। আজ সারাদিন খুব খারাপ কেটেছে। আর এমন ভুল হবে না।’

জেমসকে নেয়া হল ডেন্টিস্টের কাছে।

‘তাড়াতাড়ি করো, দাঁতের ব্যথায় মরে যাচ্ছি!’ কাতর গলায় বলল জেমস।

‘আর অল্প স্যার।’

‘কী করছ তুমি?’

‘পড়ছি।’

‘কী পড়ছ?’

‘কীভাবে একটা নতুন দাঁত লাগাতে হয়! আর একটু পড়লেই জেনে যাবো!’

‘তুমি এসব না পড়ে ডাক্তার হলে কীভাবে?’ চিৎকার দিয়ে জানতে চাইল জেমস।

‘ইয়ে মানে ওসব আপনি বুঝবেন না! আপনাদের গ্রহে বুঝি ভুয়া ডাক্তার নেই?’ জেমস আর কথা বাড়াল না। তার খুব হতাশ লাগছে।

দুদিন পর এলিয়েনদের পুরো দল হোটেলের লিফটে আটকা পড়ল লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে। প্রায় দু’ঘণ্টার মামলা। দু’ঘণ্টা পর প্রায় আধমরা অবস্থায় সবাইকে লিফট থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হল। চিকিৎসা শেষে তারা দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিল। কিন্তু ততদিনে তাদের ব্যক্তিগত রকেটটি চুরি হয়ে যায়! উপায় না পেয়ে পৃথিবী থেকে একটা রকেট ধার করে এলিয়েনরা তাদের গ্রহে ফিরে যায়।