বউতন্ত্র
jugantor
পাঠকবাড়ি রসের হাঁড়ি
বউতন্ত্র

  আফসানা আশা  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘হ্যালো, আব্বাজান! আপনার মেয়ে তো আমারে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে!’

‘বলো কী! কেন?’

‘কেন তা তো আমিও বুঝতে পারছি না। আপনার মেয়ের মতিগতি কিছুই বুঝি না। সে কী চায় নিজেও জানে না। তার কথা শুনলেও দোষ, না শুনলেও দোষ।’

‘কিন্তু হয়েছেটা কী?’

‘আমি পত্রিকায় পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম, তাই ক্ষেপেছে।’

‘পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলে? কার জন্য?’

‘আমার জন্য।’

‘তোমার জন্য মানে? ঘরে বউ রেখে তুমি পত্রিকায় পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দাও! তোমারে তো বাসা থেকে বের করা না শুধু, পুলিশে দেওয়া উচিত। বজ্জাত ছেলে!’

‘আরেহ আব্বাজান, আগে ব্যাপারটা ভালো করে শুনবেন তো।’

‘কী শুনব?’

‘‘আপনার মেয়ের কথা রাখতেই বিজ্ঞাপনটা দিয়েছিলাম। আচ্ছা, খুলে বলি শুনুন। গত কয়েকদিন ধরেই আপনার মেয়ে আমাকে বারবার বিয়ে করতে বলছে। সেদিন বাজার থেকে চড়া দামে কৈ মাছ কিনে আনলাম। আপনার মেয়েকে বললাম, ‘রুনু, ভালো করে কৈ মাছের ঝোল রান্না করো তো।’ সে রান্না করল ঠিকই। কিন্তু তা অতি বিস্বাদ। তবুও আপনার মেয়ে মন খারাপ করবে বলে তাকে বললাম, ‘রুনু, তরকারিটা এমনিতে ভালোই হয়েছে, শুধু লবণটা একটু কম হয়েছে।’ এতেও সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলল, ‘আমার রান্না যদি পছন্দ না হয় তবে বিয়ে করে নতুন একটা বউ নিয়ে এসো, সে তোমাকে লবণ ঠিকঠাক দিয়ে রান্না করে খাওয়াবে।’ আমি ভাবলাম রেগেমেগে মজা করে বলেছে। কদিন পর ওকে নিয়ে শপিংয়ে গেলাম। আপনারই তো মেয়ে, আপনিই ভালো জানবেন সে কী পরিমাণে শপিং করে। একদিনেই পাঁচটা শাড়ি কিনে ফেলল সে। পকেটের অবস্থা একটু খারাপ বলে তাকে শুধু বললাম, ‘রুনু, এত শাড়ি দিয়ে তুমি করবে কী? একা মানুষ, এত শাড়ি কবে পরবে?’ এরপর সে কী বলল জানেন? ‘তোমার যদি মনে হয় এতগুলো শাড়ি আমি একা পরতে পারব না তাহলে বিয়ে করে আমার জন্য একটা সতীন নিয়ে এসো। তখন দুজন মিলে পরব।’ সেবারও আমি তার কথায় পাত্তা দিলাম না। ভাবলাম মজা করে বলছে। কিন্তু কিছুদিন পর কী হলো জানেন? সে হঠাৎ করে এসে আমাকে বলল, ‘শোনো, ওয়াশরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে আসো, তোমাকে এখন আমি মেকআপ করে দেব।’ তার কথা শুনে আমি তো তাজ্জব। বললাম, ‘মেকআপ করে দেবে মানে! আমি তো ছেলে মানুষ, আমাকে কেন মেকআপ করে দেবে?’ সে কী বলল জানেন? তারা বান্ধবীরা মিলে নাকি ব্রাশ চ্যালেঞ্জ নাকি কিসের যেন চ্যালেঞ্জ ভিডিও বানাবে। কিন্তু তাদের মানুষ কম হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাকে মেয়ে সাজিয়ে তাদের ভিডিওতে নেবে। এ কেমন অত্যাচার বলুন আব্বাজান! আমি রাজি না হলে হঠাৎ সে বলে উঠল, ‘তোমার যদি মেয়ে সাজতে এতই সমস্যা তাহলে বিয়ে করে আমার জন্য একটা সতীন নিয়ে আসো। তারপর তাকে ইচ্ছামতো সাজাবো।’ এবার তার কথা শুনে আমি একটু ভড়কে গেলাম। মনে হলো প্রতিবারের মতো রাগ করে কথাটা বলেনি সে। এবার যেন একটু সিরিয়াসভাবেই বলছে। তার এই সিরিয়াস ভাব দেখে মনে মনে ভাবলাম, নাহ! এবার বউটার সত্যিই একটু বুদ্ধিসুদ্ধি হচ্ছে। খুশি হয়ে ওদের চ্যালেঞ্জে অংশ নিতেও রাজি হয়ে গেলাম। পরদিন বউয়ের কথা রাখতে আরেকটা বউয়ের ব্যবস্থা করতে সরাসরি চলে গেলাম পত্রিকা অফিসে বিজ্ঞাপন দিতে। বিজ্ঞাপনে লিখলাম- ব্যস্ত এ শহরে পাবো এক সুপাত্রী, এ মোর বড় আশা/শুধু স্বামী নয়, পাবে সতীনেরও ভালোবাসা!’

‘বাহ বাহ, বিজ্ঞাপনটা তো দারুণ। এরপর কী হলো?’

‘দুদিন পর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বের হওয়ার পর আপনার মেয়ে ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়াল। আমি তো অবাক। বললাম, ‘একি রুনু! তুমি ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে কোথায় যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না, তুমি যাচ্ছ।’ আমি আরও অবাক হয়ে বললাম, ‘আমি যাচ্ছি মানে? আমি কোথায় যাচ্ছি?’ সে বলল, ‘কোথায় যাচ্ছ সেটা তুমিই ভালো জানো, শুধু এ বাড়ির বাইরে যাচ্ছ এটা জানি আমি।’ আমি আরও বেশি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিন্তু কেন রুনু?’ সে জানাল, ‘পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপনটা দিয়েছি সেজন্য।’ আমি বললাম, ‘কিন্তু রুনু, সেটা তো আমি তোমার কথা রাখতেই করেছি। তুমিই তো বলেছিলে আরেকটা বিয়ে করে তোমার জন্য সতীন নিয়ে আসতে। তাহলে আমার কী দোষ বলো?’ তারপর সে কী বলল জানেন? বলল, ‘তোমার কেন দোষ থাকবে? তোমার আমার কারোরই কোনো দোষ নেই। আসলে আমাদের এই বাড়িটা তো খুব ছোট। তুমি যখন বিয়ে করে আরেকটা বউ নিয়ে আসবে তখন তো মানুষ বেশি হয়ে যাবে। এতগুলো মানুষ এই ছোট বাড়িতে তো থাকতে পারবে না। তাই তখন আমি আর আমার সতীন এই বাড়িতে থাকব। আর তুমি বাইরে থাকবে। তাই এখন থেকেই বাইরে থাকার প্র্যাক্টিস করবে। যাতে তখন কোনো সমস্যা না হয়। বুঝেছ?’ আমি আপনার মেয়ের এমন অদ্ভুত কথায় কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করলাম। তারপর বিনা বাক্য ব্যয়ে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এখন আপনিই বলুন আব্বাজান, আমি কোথায় যাবো?’

‘আরে আরে মেয়েদের মতো কাঁদছ কেন! ব্যাপারটা সত্যিই একটু সিরিয়াস। কিন্তু দোষটা তো তোমারই। তুমিই তো বউকে মাথায় তুলেছ। না হলে বউ এমন সাহস পায়! বউকে রাখতে হবে আঙুলের ডগায়।’

‘সে না হয় পরে আপনার কাছ থেকে শিখে নেব আব্বাজান। এখন আমি কোথায় যাবো সেটা বলেন।’

‘কোথায় যে যাবে সত্যিই ভাববার বিষয়!’

‘আব্বাজান, আপনি ছাড়া এই শহরে আমার আর কেউ নেই। আমি আপনাদের বাড়িতেই আসছি।’

‘আরে না না, আমাদের বাড়িতে এসে কোনো লাভ নেই। তুমি অন্য কোথাও যাও।’

‘অন্য কোথাও কোথায় যাবো বলেন? গ্রামে আব্বা-আম্মার কাছে গিয়ে যদি বলি তাদের বউমা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, তাহলে তারা আপনার মেয়েকে কী ভাববে বলেন? বন্ধুদের বাড়িতে গিয়েও তো এ কথা বলতে পারব না। তারচেয়ে বরং আপনাদের বাড়িতেই আসি।’

‘না না বাবা, তুমি অন্য কোথাও যাও।’

‘এ কেমন কথা আব্বাজান! আমি এতবার করে বলছি, তারপরও আপনি আমাকে আসতে নিষেধ করছেন! সত্যি কথা বলুন তো, আমি কি আপনার সৎ জামাই? না মানে রুনু কি আপনার সৎ মেয়ে?’

‘আরে কী আশ্চর্য! সৎ কেন হবে?’

‘তাহলে?’

‘তাহলে আর কি! তোমার যখন এতোই ইচ্ছা তাহলে আসো আমাদের বাড়িতেই। কিন্তু সেখানে গিয়ে তো আমাকে পাবে না।’

‘কী বলেন আব্বাজান! আপনাকে পাবো না কেন?’

‘ইয়ে মানে জামাইবাবা, কী করে যে বলি! আমাকেও তো তোমার আম্মাজান বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।’

বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার, ঢাকা।

পাঠকবাড়ি রসের হাঁড়ি

বউতন্ত্র

 আফসানা আশা 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘হ্যালো, আব্বাজান! আপনার মেয়ে তো আমারে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে!’

‘বলো কী! কেন?’

‘কেন তা তো আমিও বুঝতে পারছি না। আপনার মেয়ের মতিগতি কিছুই বুঝি না। সে কী চায় নিজেও জানে না। তার কথা শুনলেও দোষ, না শুনলেও দোষ।’

‘কিন্তু হয়েছেটা কী?’

‘আমি পত্রিকায় পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম, তাই ক্ষেপেছে।’

‘পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলে? কার জন্য?’

‘আমার জন্য।’

‘তোমার জন্য মানে? ঘরে বউ রেখে তুমি পত্রিকায় পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দাও! তোমারে তো বাসা থেকে বের করা না শুধু, পুলিশে দেওয়া উচিত। বজ্জাত ছেলে!’

‘আরেহ আব্বাজান, আগে ব্যাপারটা ভালো করে শুনবেন তো।’

‘কী শুনব?’

‘‘আপনার মেয়ের কথা রাখতেই বিজ্ঞাপনটা দিয়েছিলাম। আচ্ছা, খুলে বলি শুনুন। গত কয়েকদিন ধরেই আপনার মেয়ে আমাকে বারবার বিয়ে করতে বলছে। সেদিন বাজার থেকে চড়া দামে কৈ মাছ কিনে আনলাম। আপনার মেয়েকে বললাম, ‘রুনু, ভালো করে কৈ মাছের ঝোল রান্না করো তো।’ সে রান্না করল ঠিকই। কিন্তু তা অতি বিস্বাদ। তবুও আপনার মেয়ে মন খারাপ করবে বলে তাকে বললাম, ‘রুনু, তরকারিটা এমনিতে ভালোই হয়েছে, শুধু লবণটা একটু কম হয়েছে।’ এতেও সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলল, ‘আমার রান্না যদি পছন্দ না হয় তবে বিয়ে করে নতুন একটা বউ নিয়ে এসো, সে তোমাকে লবণ ঠিকঠাক দিয়ে রান্না করে খাওয়াবে।’ আমি ভাবলাম রেগেমেগে মজা করে বলেছে। কদিন পর ওকে নিয়ে শপিংয়ে গেলাম। আপনারই তো মেয়ে, আপনিই ভালো জানবেন সে কী পরিমাণে শপিং করে। একদিনেই পাঁচটা শাড়ি কিনে ফেলল সে। পকেটের অবস্থা একটু খারাপ বলে তাকে শুধু বললাম, ‘রুনু, এত শাড়ি দিয়ে তুমি করবে কী? একা মানুষ, এত শাড়ি কবে পরবে?’ এরপর সে কী বলল জানেন? ‘তোমার যদি মনে হয় এতগুলো শাড়ি আমি একা পরতে পারব না তাহলে বিয়ে করে আমার জন্য একটা সতীন নিয়ে এসো। তখন দুজন মিলে পরব।’ সেবারও আমি তার কথায় পাত্তা দিলাম না। ভাবলাম মজা করে বলছে। কিন্তু কিছুদিন পর কী হলো জানেন? সে হঠাৎ করে এসে আমাকে বলল, ‘শোনো, ওয়াশরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে আসো, তোমাকে এখন আমি মেকআপ করে দেব।’ তার কথা শুনে আমি তো তাজ্জব। বললাম, ‘মেকআপ করে দেবে মানে! আমি তো ছেলে মানুষ, আমাকে কেন মেকআপ করে দেবে?’ সে কী বলল জানেন? তারা বান্ধবীরা মিলে নাকি ব্রাশ চ্যালেঞ্জ নাকি কিসের যেন চ্যালেঞ্জ ভিডিও বানাবে। কিন্তু তাদের মানুষ কম হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাকে মেয়ে সাজিয়ে তাদের ভিডিওতে নেবে। এ কেমন অত্যাচার বলুন আব্বাজান! আমি রাজি না হলে হঠাৎ সে বলে উঠল, ‘তোমার যদি মেয়ে সাজতে এতই সমস্যা তাহলে বিয়ে করে আমার জন্য একটা সতীন নিয়ে আসো। তারপর তাকে ইচ্ছামতো সাজাবো।’ এবার তার কথা শুনে আমি একটু ভড়কে গেলাম। মনে হলো প্রতিবারের মতো রাগ করে কথাটা বলেনি সে। এবার যেন একটু সিরিয়াসভাবেই বলছে। তার এই সিরিয়াস ভাব দেখে মনে মনে ভাবলাম, নাহ! এবার বউটার সত্যিই একটু বুদ্ধিসুদ্ধি হচ্ছে। খুশি হয়ে ওদের চ্যালেঞ্জে অংশ নিতেও রাজি হয়ে গেলাম। পরদিন বউয়ের কথা রাখতে আরেকটা বউয়ের ব্যবস্থা করতে সরাসরি চলে গেলাম পত্রিকা অফিসে বিজ্ঞাপন দিতে। বিজ্ঞাপনে লিখলাম- ব্যস্ত এ শহরে পাবো এক সুপাত্রী, এ মোর বড় আশা/শুধু স্বামী নয়, পাবে সতীনেরও ভালোবাসা!’

‘বাহ বাহ, বিজ্ঞাপনটা তো দারুণ। এরপর কী হলো?’

‘দুদিন পর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বের হওয়ার পর আপনার মেয়ে ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়াল। আমি তো অবাক। বললাম, ‘একি রুনু! তুমি ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে কোথায় যাচ্ছ?’ সে বলল, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না, তুমি যাচ্ছ।’ আমি আরও অবাক হয়ে বললাম, ‘আমি যাচ্ছি মানে? আমি কোথায় যাচ্ছি?’ সে বলল, ‘কোথায় যাচ্ছ সেটা তুমিই ভালো জানো, শুধু এ বাড়ির বাইরে যাচ্ছ এটা জানি আমি।’ আমি আরও বেশি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিন্তু কেন রুনু?’ সে জানাল, ‘পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপনটা দিয়েছি সেজন্য।’ আমি বললাম, ‘কিন্তু রুনু, সেটা তো আমি তোমার কথা রাখতেই করেছি। তুমিই তো বলেছিলে আরেকটা বিয়ে করে তোমার জন্য সতীন নিয়ে আসতে। তাহলে আমার কী দোষ বলো?’ তারপর সে কী বলল জানেন? বলল, ‘তোমার কেন দোষ থাকবে? তোমার আমার কারোরই কোনো দোষ নেই। আসলে আমাদের এই বাড়িটা তো খুব ছোট। তুমি যখন বিয়ে করে আরেকটা বউ নিয়ে আসবে তখন তো মানুষ বেশি হয়ে যাবে। এতগুলো মানুষ এই ছোট বাড়িতে তো থাকতে পারবে না। তাই তখন আমি আর আমার সতীন এই বাড়িতে থাকব। আর তুমি বাইরে থাকবে। তাই এখন থেকেই বাইরে থাকার প্র্যাক্টিস করবে। যাতে তখন কোনো সমস্যা না হয়। বুঝেছ?’ আমি আপনার মেয়ের এমন অদ্ভুত কথায় কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করলাম। তারপর বিনা বাক্য ব্যয়ে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এখন আপনিই বলুন আব্বাজান, আমি কোথায় যাবো?’

‘আরে আরে মেয়েদের মতো কাঁদছ কেন! ব্যাপারটা সত্যিই একটু সিরিয়াস। কিন্তু দোষটা তো তোমারই। তুমিই তো বউকে মাথায় তুলেছ। না হলে বউ এমন সাহস পায়! বউকে রাখতে হবে আঙুলের ডগায়।’

‘সে না হয় পরে আপনার কাছ থেকে শিখে নেব আব্বাজান। এখন আমি কোথায় যাবো সেটা বলেন।’

‘কোথায় যে যাবে সত্যিই ভাববার বিষয়!’

‘আব্বাজান, আপনি ছাড়া এই শহরে আমার আর কেউ নেই। আমি আপনাদের বাড়িতেই আসছি।’

‘আরে না না, আমাদের বাড়িতে এসে কোনো লাভ নেই। তুমি অন্য কোথাও যাও।’

‘অন্য কোথাও কোথায় যাবো বলেন? গ্রামে আব্বা-আম্মার কাছে গিয়ে যদি বলি তাদের বউমা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, তাহলে তারা আপনার মেয়েকে কী ভাববে বলেন? বন্ধুদের বাড়িতে গিয়েও তো এ কথা বলতে পারব না। তারচেয়ে বরং আপনাদের বাড়িতেই আসি।’

‘না না বাবা, তুমি অন্য কোথাও যাও।’

‘এ কেমন কথা আব্বাজান! আমি এতবার করে বলছি, তারপরও আপনি আমাকে আসতে নিষেধ করছেন! সত্যি কথা বলুন তো, আমি কি আপনার সৎ জামাই? না মানে রুনু কি আপনার সৎ মেয়ে?’

‘আরে কী আশ্চর্য! সৎ কেন হবে?’

‘তাহলে?’

‘তাহলে আর কি! তোমার যখন এতোই ইচ্ছা তাহলে আসো আমাদের বাড়িতেই। কিন্তু সেখানে গিয়ে তো আমাকে পাবে না।’

‘কী বলেন আব্বাজান! আপনাকে পাবো না কেন?’

‘ইয়ে মানে জামাইবাবা, কী করে যে বলি! আমাকেও তো তোমার আম্মাজান বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।’

বিপিএটিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার, ঢাকা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন