স্বাস্থ্যই সকল দুঃখের মূল!
jugantor
৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস
স্বাস্থ্যই সকল দুঃখের মূল!

  শফিক হাসান  

০৪ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাকে বলে সুস্বাস্থ্য, স্থুলকায় নাকি ক্ষীণাঙ্গ- মহাফাঁপরে পড়ল তরিকুল। স্বাস্থ্য যখন পাটকাঁঠির মতো ছিপছিপে ছিল, শুভানুধ্যায়ীরা উপযাচক হয়ে পরামর্শ দিলেন, ‘চেকনাই বাড়াও মিয়া, নইলে ঝড়-বাতাসে হেইলা পড়বা!’

সুস্বাস্থ্যের বটিকাও বাতলে দিল হাজারো মানুষ। ঘণ্টায় সাতবার খেতে হবে! বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত; বাজারের প্রাগৈতিহাসিকালের মিশ্র তেলের নাশতা। স্বাস্থ্য না ফিরে যাবে কোথায়!

পরামর্শ মোতাবেক পদক্ষেপ নিল তরিকুল। বিনা ভিজিটের ডাক্তারদের কথাই ফলতে শুরু করল। অল্পদিনেই পরিবর্তন শুরু হলো স্বাস্থ্যের। পানিতে ভেজালে পাউরুটি যেমন ফুলে যায়, তার অবস্থাও হলো তেমন। সুস্বাস্থ্যে এলাকায় ভালোই ‘কাভারেজ’ পেল সে। ইয়ার-দোস্তরা টিটকারি ছোড়ে, ‘কোন আড়তের চাইল চাবাস, ঠিকানাটা দিস!’

এবার বিপরীতমুখী সুহৃদের সন্ধান পেল তরিকুল। সবাই শুরু করলেন হিতোপদেশ বিতরণ। বেশি মোটা হলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বাতসহ রাজকীয় রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বাঁচতে চাইলে তরিকুল যেন দ্রুত স্বাস্থ্য কমায়!

স্বাস্থ্য বেশি থাকলে এক ধরনের প্রেসক্রিপশন, কম হলে আরেক! বন্ধুরুপী বড় ডাক্তাররা বলল, ‘গায়ে-গতরে মাংস না থাকলে বেডা মাইনষের লাহান লাগে না।’

ছোট ডাক্তাররা বলল, ‘কোরবানির গরুর গায়ে মাংস বেশি থাকলে দাম বাড়ে। মানুষের ব্যাপার উল্টো; বিয়ের বাজারে তুই পাত্তাই পাবি না!’

কথাটা একেবারে মিথ্যা নয়। সেদিন তার প্রেমিকা তাসনুভা ধমক দিয়ে বলল, ‘তুমি তাড়াতাড়ি অন্তত পাঁচশ’ কেজি ওজন কমাও। নইলে লোকজন আমাকে লিলিপুট ডাকবে।’

‘লিলিপুট মানে!’

‘হাতির পাশে পিঁপড়া।’

‘দ্যাখো, ইয়ার্কি করবে না। আমার ওজন সাকুল্যে দুইশ’ কেজি। পাঁচশ’ কেজি কীভাবে কমাব?’

‘অন্তত দেড়শ’ কেজি কমাও।’

‘একটু সময় দাও।’

‘সময় দেব না। অপশন দেব। আগামীকাল থেকেই দৌড়ানো শুরু কর। নিয়ম করে প্রতিদিন আট ঘণ্টা।’

‘আট ঘণ্টা! মানে ভরদুপুরেও দৌড়াব?’

‘বেশি খ্যাচরম্যাচর করতে পারব না। আমার আরও অফার আছে। গতকালও নতুন পাণিপ্রার্থী এসেছে।’

বিরক্তিকে ঠোঁট বাঁকায় তাসনুভা। সেই বাক্সময় দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস উগরায় তরিকুল। মেয়েরা এত স্বার্থপর কেন! বলল, ‘তুমি অকাতরে বারান্দায় ও ফেসবুকে পানিপড়া-তেলপড়া বিলাতে থাকলে লাফাঙ্গারা তো ভিড় জমাবেই!’

‘খবরদার, ওদের গালি দেবে না।’

ব্যায়ামের প্রথম দিন সুখকর অভিজ্ঞতা হলো না। তরিকুল নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছে- তানুর কথামতো প্রতিদিন দৌড়াবে। দৌড় শুরু করেছে সকাল ৫টা থেকে। এখন বাজে ১১টা। ইত্যবসরে একটি জেলা অতিক্রম করে ফেলেছে। আরও ঘণ্টা দুয়েক দৌড়ালে খালার বাড়িতে গিয়ে লাঞ্চ সারতে পারবে। হাঁপাচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে। থামলেই ‘হণ্টন বীর’ উপাধি হাতছাড়া হয়ে যাবে ভেবে গতি বাড়াচ্ছে। শরীরের সব তেল-চর্বিকে পানি বানিয়ে ফেলতে হবে। এই প্রক্রিয়ার নাম ‘বস্তুর রূপান্তর’। বিজ্ঞান নিয়ে বেশিক্ষণ ভাবতে পারল না। কানে এল ‘ধর ধর, পকেটমার’ শোরগোল। পকেটমারের খোঁজে থামলে কিছু লোক ঘিরে ধরল ওকে। চিকনা গোছের একজন বলল, ‘পাইছি শালা রে! কিলাইয়া হাতের সুখ মিটামু।’

তরিকুল বুঝতে পারল, তাকে ঘিরেই আনন্দ-উৎসব। স্লে­াগানদাতাদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘কার পকেট কাটা গেছে? ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে নাকি কুড়ালে!’

মুখ চাওয়াচাওয়ি করল সবাই। যার যার পকেটও যাচাই করল। কারও কিছু খোয়া যায়নি। হাতকে সুখ দিতে না পারা বীরপুঙ্গব কাঁচুমাচু করে বলল, ‘জোরে দৌড়াইতেছিলেন দেইখা ভাবছিলাম...।’

‘অহেতুক সন্দেহ পোষণ অনুচিত।’

হুজুগে জনতা কোরাস তোলে আবার, ‘তয় আপনেও কিছু জানেন না। দূষিত বায়ুর ভিত্রে লাফ-ঝাঁপ দিয়া লাভ অয় না।’

‘অত্যাশ্চর্য কোনো ওষুধ আছে নাকি?’

‘থাকব না ক্যান! সামনে নিউইয়র্ক হারবাল। ওইখানে যান।’

তৃতীয় পক্ষের পরামর্শ-সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীর দিকে হাঁটা ধরল সাখাওয়াত। ঘামের বন্যা বয়ে যাচ্ছে শরীরে। ওই দিকে তিস্তায় নাকি পানি নেই, পদ্মায় চর পড়েছে, ওয়াসাতেও খরা!

নিউইয়র্ক হারবালে টিপটপ নারী রিসেপশনিস্ট স্বাগত জানাল, ‘কীভাবে হেল্প করতে পারি, স্যার? রোগের ক্যাটাগরি গোপনীয় নাকি রেগুলার!’

‘ইয়ে... আমি ব্যাচেলর।’

‘ব্যাচেলররাই ব্যাচ করে মেনি কাইন্ডস অফ ডিজিজ বাঁধায়। একা থাকলে গোপন রোগ, বিবাহিত হলে পারিবারিক ও সামাজিক দুর্গতি- সব ধরনের সার্ভিসই প্রোভাইড করছি আমরা। নাম বলুন।’

‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।’

‘নো প্রবলেম, স্যার! আমরা দিচ্ছি...’

বাকিটা না শুনেই শঙ্কিত বোধ করল তরিকুল। কী সব টেস্ট-ফেস্ট ধরিয়ে দেবে; দেখা যাবে; এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সামাল দিতে দিতেই বার্ধক্য হাজির! বলে চলেছে সুহাসিনী, ‘একই রোগ এখানে নানান পদ্ধতিতে সারানো হয়। আমাদের রয়েছে ঝাড়ফুঁক সেকশন, মধুপড়া-জুতাপড়া, রত্ন-পাথর, তাবিজ-কবজ, বান-টোনা, পশুমূত্র ভক্ষণ সেকশন... যে কোনো একটি মাধ্যমে সেবা নিলে জটিল-কঠিন রোগও কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে!’

গলাটা কেমন শুষ্ক ঠেকল। এটা বোধহয় শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। খসখসে কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ‘কালেকশনে কামরুপ কামাখ্যা-ফেরত কোনো বাবা নেই?’

‘বাবা-মা উভয়েই আছেন। ভাই-বোনরা তো ডাক্তারি বোঝে না!’

হাসল সুভাষিণী। তাতে সাহস ফিরল তরিকুলের ‘আপনি নিশ্চয়ই একসময় ভগিনী না হোক, ডাক্তার মা হবেন? মুশকিল আসান করবেন বাংলার রোগীদের!’

‘ঠিক ধরেছেন। প্রসেস চলছে। চিকিৎসক না হয়ে আমাদের কোনো উপায়ও নেই। দেশে হাজারো রোগ, রোগী গিজগিজ করে! বাতাসে টাকা...।’ বাক্যটি অসমাপ্ত রেখেই জিহ্বায় কামড় দিল সুকেশিনী।

সবচেয়ে কমদামি চিকিৎসা ছেঁড়া জুতা ও ‘ন্যাড়া ঝাড়ু’ থেরাপি নিল তরিকুল। দুই সপ্তাহেরই মধ্যে ‘ফিরল’ স্বাস্থ্য। কোটগরাগত চোখ, পাখির বাসার মতো চুলে ওকে আজকাল অচেনা লাগে। পাড়ার ভিক্ষুক ভেবে কেউ কেউ দুই-চার টাকা ধরিয়ে দেয় হাতে। তবুও থামে না নিকটজনদের স্বাস্থ্যবিধি-বিধান তর্জমা ও পরামর্শ।

তরিকুল ভাবে, বাংলাদেশে ঘরে ঘরে ডাক্তার বলেই কোনো রোগ পুরোপুরি সারে না। এদের কথায় কান দিয়ে এল উল্টো ফল; ওর জন্য এখন তার স্বাস্থ্যই সকল দুখের মূল!

৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

স্বাস্থ্যই সকল দুঃখের মূল!

 শফিক হাসান 
০৪ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাকে বলে সুস্বাস্থ্য, স্থুলকায় নাকি ক্ষীণাঙ্গ- মহাফাঁপরে পড়ল তরিকুল। স্বাস্থ্য যখন পাটকাঁঠির মতো ছিপছিপে ছিল, শুভানুধ্যায়ীরা উপযাচক হয়ে পরামর্শ দিলেন, ‘চেকনাই বাড়াও মিয়া, নইলে ঝড়-বাতাসে হেইলা পড়বা!’

সুস্বাস্থ্যের বটিকাও বাতলে দিল হাজারো মানুষ। ঘণ্টায় সাতবার খেতে হবে! বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত; বাজারের প্রাগৈতিহাসিকালের মিশ্র তেলের নাশতা। স্বাস্থ্য না ফিরে যাবে কোথায়!

পরামর্শ মোতাবেক পদক্ষেপ নিল তরিকুল। বিনা ভিজিটের ডাক্তারদের কথাই ফলতে শুরু করল। অল্পদিনেই পরিবর্তন শুরু হলো স্বাস্থ্যের। পানিতে ভেজালে পাউরুটি যেমন ফুলে যায়, তার অবস্থাও হলো তেমন। সুস্বাস্থ্যে এলাকায় ভালোই ‘কাভারেজ’ পেল সে। ইয়ার-দোস্তরা টিটকারি ছোড়ে, ‘কোন আড়তের চাইল চাবাস, ঠিকানাটা দিস!’

এবার বিপরীতমুখী সুহৃদের সন্ধান পেল তরিকুল। সবাই শুরু করলেন হিতোপদেশ বিতরণ। বেশি মোটা হলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বাতসহ রাজকীয় রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বাঁচতে চাইলে তরিকুল যেন দ্রুত স্বাস্থ্য কমায়!

স্বাস্থ্য বেশি থাকলে এক ধরনের প্রেসক্রিপশন, কম হলে আরেক! বন্ধুরুপী বড় ডাক্তাররা বলল, ‘গায়ে-গতরে মাংস না থাকলে বেডা মাইনষের লাহান লাগে না।’

ছোট ডাক্তাররা বলল, ‘কোরবানির গরুর গায়ে মাংস বেশি থাকলে দাম বাড়ে। মানুষের ব্যাপার উল্টো; বিয়ের বাজারে তুই পাত্তাই পাবি না!’

কথাটা একেবারে মিথ্যা নয়। সেদিন তার প্রেমিকা তাসনুভা ধমক দিয়ে বলল, ‘তুমি তাড়াতাড়ি অন্তত পাঁচশ’ কেজি ওজন কমাও। নইলে লোকজন আমাকে লিলিপুট ডাকবে।’

‘লিলিপুট মানে!’

‘হাতির পাশে পিঁপড়া।’

‘দ্যাখো, ইয়ার্কি করবে না। আমার ওজন সাকুল্যে দুইশ’ কেজি। পাঁচশ’ কেজি কীভাবে কমাব?’

‘অন্তত দেড়শ’ কেজি কমাও।’

‘একটু সময় দাও।’

‘সময় দেব না। অপশন দেব। আগামীকাল থেকেই দৌড়ানো শুরু কর। নিয়ম করে প্রতিদিন আট ঘণ্টা।’

‘আট ঘণ্টা! মানে ভরদুপুরেও দৌড়াব?’

‘বেশি খ্যাচরম্যাচর করতে পারব না। আমার আরও অফার আছে। গতকালও নতুন পাণিপ্রার্থী এসেছে।’

বিরক্তিকে ঠোঁট বাঁকায় তাসনুভা। সেই বাক্সময় দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস উগরায় তরিকুল। মেয়েরা এত স্বার্থপর কেন! বলল, ‘তুমি অকাতরে বারান্দায় ও ফেসবুকে পানিপড়া-তেলপড়া বিলাতে থাকলে লাফাঙ্গারা তো ভিড় জমাবেই!’

‘খবরদার, ওদের গালি দেবে না।’

ব্যায়ামের প্রথম দিন সুখকর অভিজ্ঞতা হলো না। তরিকুল নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করেছে- তানুর কথামতো প্রতিদিন দৌড়াবে। দৌড় শুরু করেছে সকাল ৫টা থেকে। এখন বাজে ১১টা। ইত্যবসরে একটি জেলা অতিক্রম করে ফেলেছে। আরও ঘণ্টা দুয়েক দৌড়ালে খালার বাড়িতে গিয়ে লাঞ্চ সারতে পারবে। হাঁপাচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে। থামলেই ‘হণ্টন বীর’ উপাধি হাতছাড়া হয়ে যাবে ভেবে গতি বাড়াচ্ছে। শরীরের সব তেল-চর্বিকে পানি বানিয়ে ফেলতে হবে। এই প্রক্রিয়ার নাম ‘বস্তুর রূপান্তর’। বিজ্ঞান নিয়ে বেশিক্ষণ ভাবতে পারল না। কানে এল ‘ধর ধর, পকেটমার’ শোরগোল। পকেটমারের খোঁজে থামলে কিছু লোক ঘিরে ধরল ওকে। চিকনা গোছের একজন বলল, ‘পাইছি শালা রে! কিলাইয়া হাতের সুখ মিটামু।’

তরিকুল বুঝতে পারল, তাকে ঘিরেই আনন্দ-উৎসব। স্লে­াগানদাতাদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘কার পকেট কাটা গেছে? ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে নাকি কুড়ালে!’

মুখ চাওয়াচাওয়ি করল সবাই। যার যার পকেটও যাচাই করল। কারও কিছু খোয়া যায়নি। হাতকে সুখ দিতে না পারা বীরপুঙ্গব কাঁচুমাচু করে বলল, ‘জোরে দৌড়াইতেছিলেন দেইখা ভাবছিলাম...।’

‘অহেতুক সন্দেহ পোষণ অনুচিত।’

হুজুগে জনতা কোরাস তোলে আবার, ‘তয় আপনেও কিছু জানেন না। দূষিত বায়ুর ভিত্রে লাফ-ঝাঁপ দিয়া লাভ অয় না।’

‘অত্যাশ্চর্য কোনো ওষুধ আছে নাকি?’

‘থাকব না ক্যান! সামনে নিউইয়র্ক হারবাল। ওইখানে যান।’

তৃতীয় পক্ষের পরামর্শ-সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মহানগরীর দিকে হাঁটা ধরল সাখাওয়াত। ঘামের বন্যা বয়ে যাচ্ছে শরীরে। ওই দিকে তিস্তায় নাকি পানি নেই, পদ্মায় চর পড়েছে, ওয়াসাতেও খরা!

নিউইয়র্ক হারবালে টিপটপ নারী রিসেপশনিস্ট স্বাগত জানাল, ‘কীভাবে হেল্প করতে পারি, স্যার? রোগের ক্যাটাগরি গোপনীয় নাকি রেগুলার!’

‘ইয়ে... আমি ব্যাচেলর।’

‘ব্যাচেলররাই ব্যাচ করে মেনি কাইন্ডস অফ ডিজিজ বাঁধায়। একা থাকলে গোপন রোগ, বিবাহিত হলে পারিবারিক ও সামাজিক দুর্গতি- সব ধরনের সার্ভিসই প্রোভাইড করছি আমরা। নাম বলুন।’

‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।’

‘নো প্রবলেম, স্যার! আমরা দিচ্ছি...’

বাকিটা না শুনেই শঙ্কিত বোধ করল তরিকুল। কী সব টেস্ট-ফেস্ট ধরিয়ে দেবে; দেখা যাবে; এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সামাল দিতে দিতেই বার্ধক্য হাজির! বলে চলেছে সুহাসিনী, ‘একই রোগ এখানে নানান পদ্ধতিতে সারানো হয়। আমাদের রয়েছে ঝাড়ফুঁক সেকশন, মধুপড়া-জুতাপড়া, রত্ন-পাথর, তাবিজ-কবজ, বান-টোনা, পশুমূত্র ভক্ষণ সেকশন... যে কোনো একটি মাধ্যমে সেবা নিলে জটিল-কঠিন রোগও কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে!’

গলাটা কেমন শুষ্ক ঠেকল। এটা বোধহয় শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। খসখসে কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ‘কালেকশনে কামরুপ কামাখ্যা-ফেরত কোনো বাবা নেই?’

‘বাবা-মা উভয়েই আছেন। ভাই-বোনরা তো ডাক্তারি বোঝে না!’

হাসল সুভাষিণী। তাতে সাহস ফিরল তরিকুলের ‘আপনি নিশ্চয়ই একসময় ভগিনী না হোক, ডাক্তার মা হবেন? মুশকিল আসান করবেন বাংলার রোগীদের!’

‘ঠিক ধরেছেন। প্রসেস চলছে। চিকিৎসক না হয়ে আমাদের কোনো উপায়ও নেই। দেশে হাজারো রোগ, রোগী গিজগিজ করে! বাতাসে টাকা...।’ বাক্যটি অসমাপ্ত রেখেই জিহ্বায় কামড় দিল সুকেশিনী।

সবচেয়ে কমদামি চিকিৎসা ছেঁড়া জুতা ও ‘ন্যাড়া ঝাড়ু’ থেরাপি নিল তরিকুল। দুই সপ্তাহেরই মধ্যে ‘ফিরল’ স্বাস্থ্য। কোটগরাগত চোখ, পাখির বাসার মতো চুলে ওকে আজকাল অচেনা লাগে। পাড়ার ভিক্ষুক ভেবে কেউ কেউ দুই-চার টাকা ধরিয়ে দেয় হাতে। তবুও থামে না নিকটজনদের স্বাস্থ্যবিধি-বিধান তর্জমা ও পরামর্শ।

তরিকুল ভাবে, বাংলাদেশে ঘরে ঘরে ডাক্তার বলেই কোনো রোগ পুরোপুরি সারে না। এদের কথায় কান দিয়ে এল উল্টো ফল; ওর জন্য এখন তার স্বাস্থ্যই সকল দুখের মূল!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন