বাড়িতে বউদের কী এমন কাজ
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
বাড়িতে বউদের কী এমন কাজ

  আশরাফুল আলম পিনটু  

০৬ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাত সকালে বেরিয়ে কাজ থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরলেন তিনি। দেখলেন, তার তিন ছেলেমেয়ে বাড়ির সামনে খেলছে। এখনো রাতের পোশাক পরে আছে তারা। কাদামাটি লাগিয়ে নোংরা করে ফেলেছে। খাবারের খালি প্যাকেট আর মোড়কগুলো পড়ে আছে লনের এখানে ওখানে। তার স্ত্রীর গাড়ির দরজা খোলা। বাড়ির দরজার সামনে কুকুরটাও নেই।

ভেতরে ঢোকার সময় বড়ই জগাখিচুড়ি অবস্থা দেখতে পেলেন তিনি। বারান্দার লাইটটা এখনো জ্বলছে। দেওয়ালের পাশে দলা পাকানো কম্বল। বাইরের ঘরে টেলিভিশনে উচ্চস্বরে কার্টুন চ্যানেল চলছে। বসার ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন খেলনা আর কাপড়চোপড়। ফ্যান ঘুরছে জোরে।

রান্নাঘরে সিঙ্কের ওপর বাসনপত্রের পালা। সকালের নাস্তা দিব্যি পড়ে রয়েছে। ফ্রিজের দরজা খোলা। কুকুরের খাবার পড়ে আছে মেঝেতে। টেবিলের নিচে একটা ভাঙা গ্লাস। পেছনের দরজা বরাবর মাঝখানে বালির ছোটখাটো একটা ঢিবি।

তিনি দ্রুত সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। ছড়ানো খেলনা আর কাপড় পেরিয়ে উঠে এলেন ওপরে। খুঁজলেন স্ত্রীকে। স্ত্রী হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিংবা বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে ভেবে তিনি শঙ্কিত হলেন।

বাথরুমে পানি পড়ার শব্দে তিনি উঁকি দিলেন। ভেতরে ভেজা তোয়ালে আর সাবান পড়ে আছে। টয়লেট পেপার সব টুকরো টুকরো। আয়না আর দেওয়ালে লেপ্টে আছে টুথপেস্ট।

তিনি দ্রুত শোবার ঘরে গেলেন। দেখলেন, স্ত্রী তখনো বিছানায় শুয়ে আছেন। রাতের পোশাক এখনো ছাড়েননি। আয়েশ করে উপন্যাস পড়ছেন। স্ত্রী তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

স্ত্রীকে দেখে তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না। বিরক্তির সঙ্গে জানতে চাইলেন, ‘আজ এসব কী হচ্ছে বাড়িতে?’

স্ত্রী আবার হাসলেন। জবাব দিলেন, ‘কী আর হবে! তুমি মাঝেমধ্যেই আমাকে প্রশ্ন কর- বাড়িতে কী এমন রাজ্যের কাজ করি আমি? সারা দিন তো শুয়ে-বসেই থাকি! আজও সকালে সে কথা বলেছিলে।’

‘হ্যাঁ, যা সত্যি তা-ই বলেছি। বাড়িতে বউদের কী এমন কাজ!’ বললেন তিনি।

স্ত্রী জবাব দিলেন, ‘আচ্ছা, ধরে নিচ্ছি তোমার কথাই ঠিক। আর তাই আজ আমি ওই কী এমন কাজগুলোই করিনি!’

ভিনদেশি রসিকতা

বাড়িতে বউদের কী এমন কাজ

 আশরাফুল আলম পিনটু 
০৬ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাত সকালে বেরিয়ে কাজ থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরলেন তিনি। দেখলেন, তার তিন ছেলেমেয়ে বাড়ির সামনে খেলছে। এখনো রাতের পোশাক পরে আছে তারা। কাদামাটি লাগিয়ে নোংরা করে ফেলেছে। খাবারের খালি প্যাকেট আর মোড়কগুলো পড়ে আছে লনের এখানে ওখানে। তার স্ত্রীর গাড়ির দরজা খোলা। বাড়ির দরজার সামনে কুকুরটাও নেই।

ভেতরে ঢোকার সময় বড়ই জগাখিচুড়ি অবস্থা দেখতে পেলেন তিনি। বারান্দার লাইটটা এখনো জ্বলছে। দেওয়ালের পাশে দলা পাকানো কম্বল। বাইরের ঘরে টেলিভিশনে উচ্চস্বরে কার্টুন চ্যানেল চলছে। বসার ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন খেলনা আর কাপড়চোপড়। ফ্যান ঘুরছে জোরে।

রান্নাঘরে সিঙ্কের ওপর বাসনপত্রের পালা। সকালের নাস্তা দিব্যি পড়ে রয়েছে। ফ্রিজের দরজা খোলা। কুকুরের খাবার পড়ে আছে মেঝেতে। টেবিলের নিচে একটা ভাঙা গ্লাস। পেছনের দরজা বরাবর মাঝখানে বালির ছোটখাটো একটা ঢিবি।

তিনি দ্রুত সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। ছড়ানো খেলনা আর কাপড় পেরিয়ে উঠে এলেন ওপরে। খুঁজলেন স্ত্রীকে। স্ত্রী হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিংবা বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে ভেবে তিনি শঙ্কিত হলেন।

বাথরুমে পানি পড়ার শব্দে তিনি উঁকি দিলেন। ভেতরে ভেজা তোয়ালে আর সাবান পড়ে আছে। টয়লেট পেপার সব টুকরো টুকরো। আয়না আর দেওয়ালে লেপ্টে আছে টুথপেস্ট।

তিনি দ্রুত শোবার ঘরে গেলেন। দেখলেন, স্ত্রী তখনো বিছানায় শুয়ে আছেন। রাতের পোশাক এখনো ছাড়েননি। আয়েশ করে উপন্যাস পড়ছেন। স্ত্রী তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

স্ত্রীকে দেখে তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না। বিরক্তির সঙ্গে জানতে চাইলেন, ‘আজ এসব কী হচ্ছে বাড়িতে?’

স্ত্রী আবার হাসলেন। জবাব দিলেন, ‘কী আর হবে! তুমি মাঝেমধ্যেই আমাকে প্রশ্ন কর- বাড়িতে কী এমন রাজ্যের কাজ করি আমি? সারা দিন তো শুয়ে-বসেই থাকি! আজও সকালে সে কথা বলেছিলে।’

‘হ্যাঁ, যা সত্যি তা-ই বলেছি। বাড়িতে বউদের কী এমন কাজ!’ বললেন তিনি।

স্ত্রী জবাব দিলেন, ‘আচ্ছা, ধরে নিচ্ছি তোমার কথাই ঠিক। আর তাই আজ আমি ওই কী এমন কাজগুলোই করিনি!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন