টিকা টক
jugantor
রম্যগল্প
টিকা টক

  শায়ের খান  

১৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টোটো ভাই যখন হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে পায়েশ খালাকে ফোনে কথাটা বললেন, পায়েশ খালার মেজাজটা ফট্টি ফোর হয়ে গেল। পায়েশ খালার মেজাজ চুলায় বসানোই থাকে, এবার বোধহয় সসপ্যানের তলাটা পুড়ে গেছে। টোটো ভাই খালার আদরের ধন মন্টিকে নিয়ে টিকা দেওয়াতে গেছেন।

খালা : কী? তোদের বের করে দিয়েছে? এত্ত বড় সাহস?

টোটো : শুধু বের করে দেয় নাই, মন্টিকে বাজে কথা বলেছে।

খালা : কী বলেছে?

টোটো : একজন সিস্টার বলেছে হোঁদল কুতকুত।

রাগে খালা প্রায় কেঁদেই ফেলেন। কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন।

খালা : টোটো তুই-ই বল, আমার মন্টি কি হোঁদল কুতকুত?

টোটো : প্রশ্নই আসে না। বরং সিস্টারই হোঁদল কুতকুত।

খালা : তুই বলিস নাই যে আমার ভাগ্নে স্বাস্থ্য ডিপার্টমেন্টের বড় অফিসার?

টোটো : ভুলে গেছি।

খালা : তা তো কাজের সময় ভুলবিই। মোড়ের দোকানে সিগ্রেট ফুঁকে চাপাবাজি করার সময়ই শুধু মনে থাকবে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড নেস নাই?

টোটো : এনেছি। তবে ন্যাশনাল আইডি আনি নাই।

খালা : না না, ওটা নিবি কোত্থেকে? ও তো জার্মান সিটিজেন। হিটলারি বাপের পোলা। দে তো, ওখানের কারও নাম্বার দে। ওই সিস্টারের নাম্বার দিবি না খবরদার!

টোটো ভাই ফোন কেটে কিছুক্ষণ পর টেক্সটে একটা নাম্বার পাঠায়। আরেক সিস্টারের। পায়েশ খালা ফোন করেন।

সিস্টার : জি ম্যাডাম, উনার সাথে কথা হয়েছে।

খালা : আপনাকে কি ও বলেছে আমার ভাগ্নের কথা?

সিস্টার : স্যারকে আমরা চিনি ম্যাডাম।

খালা : ওদের টিকা না দিয়ে নাকি বের করে দিয়েছেন?

সিস্টার : না না, ছি ছি, ইয়ে, মিস্টার মন্টি ঢুকেই চিল্লাপাল্লা শুরু করে। তাতে অন্যান্য টিকা প্রার্থীরা ঘাবড়ে যায়।

খালা : আমি দুঃখিত! টিকা দিয়ে দেন। কার্ড তো ওদের সাথেই আছে।

সিস্টার : কিন্তু ম্যাডাম, এটা তো উনার কেন্দ্র না। উনাদের কেন্দ্র পাশেরটা।

খালা : এটা ১০০ নম্বর বিল্ডিং না?

সিস্টার : জি না, ১০১ নম্বর। উনি ১টা ভুল করেছেন। এটা গ্যাস্ট্রো হসপিটাল।

খালা : ১টা না, ১টা বিল্ডিং ভুল করেছে আসলে। টোটোকে কল করতে বলেন প্লিজ।

টোটো ভাই কল করেন।

খালা : একটা থাপ্পড় দিয়ে ঢাকা চিনায় দিবো টোটো। কতবার করে বলেছি যে ১০০ নম্বর?

টোটো : খালা, ১০০ নম্বর খুঁজে পাই নাই।

খালা : সেজন্য ১০১ নম্বরে যাবি? মন্টিকে নিয়ে মানুষের হাসপাতালে ঢুকবি? ওরা যে তোকে পিটায় নাই এইটাই বেশি। এখনই পাশের বিল্ডিংয়ে যা। নম্বর লাগবে না। বড় করে ‘পশু হাসপাতাল’ লেখা আছে। সাইনবোর্ড না থাকলেও যেখানে দেখবি গরু-ঘোড়া-ছাগল-কুকুর নিয়ে সব দাঁড়িয়ে আছে, ঢুকে পড়বি। তাড়াতাড়ি টিকা দিয়ে মন্টিকে নিয়ে বাসায় আয়। সকাল থেকে কিচ্ছু খায়নি আমার মন্টি।

মন্টি হচ্ছে পায়েশ খালার আদরের জার্মান শেফার্ড কুকুর।

রম্যগল্প

টিকা টক

 শায়ের খান 
১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টোটো ভাই যখন হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে পায়েশ খালাকে ফোনে কথাটা বললেন, পায়েশ খালার মেজাজটা ফট্টি ফোর হয়ে গেল। পায়েশ খালার মেজাজ চুলায় বসানোই থাকে, এবার বোধহয় সসপ্যানের তলাটা পুড়ে গেছে। টোটো ভাই খালার আদরের ধন মন্টিকে নিয়ে টিকা দেওয়াতে গেছেন।

খালা : কী? তোদের বের করে দিয়েছে? এত্ত বড় সাহস?

টোটো : শুধু বের করে দেয় নাই, মন্টিকে বাজে কথা বলেছে।

খালা : কী বলেছে?

টোটো : একজন সিস্টার বলেছে হোঁদল কুতকুত।

রাগে খালা প্রায় কেঁদেই ফেলেন। কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন।

খালা : টোটো তুই-ই বল, আমার মন্টি কি হোঁদল কুতকুত?

টোটো : প্রশ্নই আসে না। বরং সিস্টারই হোঁদল কুতকুত।

খালা : তুই বলিস নাই যে আমার ভাগ্নে স্বাস্থ্য ডিপার্টমেন্টের বড় অফিসার?

টোটো : ভুলে গেছি।

খালা : তা তো কাজের সময় ভুলবিই। মোড়ের দোকানে সিগ্রেট ফুঁকে চাপাবাজি করার সময়ই শুধু মনে থাকবে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড নেস নাই?

টোটো : এনেছি। তবে ন্যাশনাল আইডি আনি নাই।

খালা : না না, ওটা নিবি কোত্থেকে? ও তো জার্মান সিটিজেন। হিটলারি বাপের পোলা। দে তো, ওখানের কারও নাম্বার দে। ওই সিস্টারের নাম্বার দিবি না খবরদার!

টোটো ভাই ফোন কেটে কিছুক্ষণ পর টেক্সটে একটা নাম্বার পাঠায়। আরেক সিস্টারের। পায়েশ খালা ফোন করেন।

সিস্টার : জি ম্যাডাম, উনার সাথে কথা হয়েছে।

খালা : আপনাকে কি ও বলেছে আমার ভাগ্নের কথা?

সিস্টার : স্যারকে আমরা চিনি ম্যাডাম।

খালা : ওদের টিকা না দিয়ে নাকি বের করে দিয়েছেন?

সিস্টার : না না, ছি ছি, ইয়ে, মিস্টার মন্টি ঢুকেই চিল্লাপাল্লা শুরু করে। তাতে অন্যান্য টিকা প্রার্থীরা ঘাবড়ে যায়।

খালা : আমি দুঃখিত! টিকা দিয়ে দেন। কার্ড তো ওদের সাথেই আছে।

সিস্টার : কিন্তু ম্যাডাম, এটা তো উনার কেন্দ্র না। উনাদের কেন্দ্র পাশেরটা।

খালা : এটা ১০০ নম্বর বিল্ডিং না?

সিস্টার : জি না, ১০১ নম্বর। উনি ১টা ভুল করেছেন। এটা গ্যাস্ট্রো হসপিটাল।

খালা : ১টা না, ১টা বিল্ডিং ভুল করেছে আসলে। টোটোকে কল করতে বলেন প্লিজ।

টোটো ভাই কল করেন।

খালা : একটা থাপ্পড় দিয়ে ঢাকা চিনায় দিবো টোটো। কতবার করে বলেছি যে ১০০ নম্বর?

টোটো : খালা, ১০০ নম্বর খুঁজে পাই নাই।

খালা : সেজন্য ১০১ নম্বরে যাবি? মন্টিকে নিয়ে মানুষের হাসপাতালে ঢুকবি? ওরা যে তোকে পিটায় নাই এইটাই বেশি। এখনই পাশের বিল্ডিংয়ে যা। নম্বর লাগবে না। বড় করে ‘পশু হাসপাতাল’ লেখা আছে। সাইনবোর্ড না থাকলেও যেখানে দেখবি গরু-ঘোড়া-ছাগল-কুকুর নিয়ে সব দাঁড়িয়ে আছে, ঢুকে পড়বি। তাড়াতাড়ি টিকা দিয়ে মন্টিকে নিয়ে বাসায় আয়। সকাল থেকে কিচ্ছু খায়নি আমার মন্টি।

মন্টি হচ্ছে পায়েশ খালার আদরের জার্মান শেফার্ড কুকুর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন