সুখের সন্ধানে
jugantor
চিরায়ত রস
সুখের সন্ধানে

   

১৩ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক লোকের বউয়ের সঙ্গে খুব ঝগড়াঝাটি হতো। বউটি ছিল ভীষণ ঝগড়াটে। কোনোদিন সে তার স্বামীকে সুখে থাকতে দিতো না। একদিন সেই ভদ্রলোক কোনো উপায় না দেখে মনের দুঃখে কিছু পয়সা ও জামাকাপড় পোঁটলায় বেঁধে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সে একটা গাছের নিচে মুখ ভার করে বসে রইল।

নাসিরউদ্দিন হোজ্জাও যাচ্ছিলেন সে পথ দিয়ে। লোকটিকে এমনভাবে বসে থাকতে দেখে হোজ্জা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কী হয়েছে? কেন তুমি এমনভাবে রাস্তার ধারে বসে আছো?’

লোকটি বললেন, ‘আমার জীবন একেবারে বিষের মত হয়ে গেছে আমার স্ত্রীর কারণে। হাতে কিছু পয়সা আছে বটে কিন্তু মনে সুখ নেই। তাই দেশে দেশে ঘুরতে বেরিয়েছি। যেখানে একটু সুখের সন্ধান পাব, সেখানেই থেকে যাবো।’

লোকটির পাশে তার পোঁটলায় টাকাকড়ি এবং জিনিসপত্র সব রাখা ছিল। তার কথা শেষ হতে না হতেই হোজ্জা সেই পোঁটলাটা নিয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলেন। হোজ্জাকে পোঁটলা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখে লোকটিও তার পেছনে প্রাণপন দৌড়াতে লাগলেন। দেখতে দেখতে হোজ্জা রাস্তা ছেড়ে পাশের এক জঙ্গলে ঢুকে হাওয়া হয়ে গেলেন। এভাবে লোকটিকে ধোঁকা দিয়ে হোজ্জা আবার সেই রাস্তয় ফিরে পোঁটলাটা রাস্তার মাঝখানে রেখে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন।

এদিকে লোকটিও কিছুক্ষণ পর আগের জায়গায় এসে হাজির হলেন। তাকে পূর্বের চেয়েও বেশি দুঃখিত দেখাচ্ছিল। কিন্তু রাস্তায় তার পোঁটলাটি পড়ে থাকতে দেখে মহা আনন্দে চিৎকার করে পোঁটলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

পোঁটলা পেয়ে এতক্ষণে লোকটা যেন প্রাণ ফিরে পেলেন। গাছের আঁড়াল থেকে হোজ্জা এবার বেরিয়ে এসে বললেন, ‘আমি ছিনতাইকারি নই, তোমার পোঁটলাটাও নিতে চাইনি। তোমার মতো একজন দুঃখী মানুষকে পোঁটলানা ফিরিয়ে দিয়ে সুখের সন্ধান দিলাম আর কী। তুমি নিশ্চয়ই খুশি হয়েছো, তাই না?’ এই বলে হোজ্জা মুচকি হেসে চলে গেলেন।

চিরায়ত রস

সুখের সন্ধানে

  
১৩ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক লোকের বউয়ের সঙ্গে খুব ঝগড়াঝাটি হতো। বউটি ছিল ভীষণ ঝগড়াটে। কোনোদিন সে তার স্বামীকে সুখে থাকতে দিতো না। একদিন সেই ভদ্রলোক কোনো উপায় না দেখে মনের দুঃখে কিছু পয়সা ও জামাকাপড় পোঁটলায় বেঁধে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন। কিছুদূর যাওয়ার পর সে একটা গাছের নিচে মুখ ভার করে বসে রইল।

নাসিরউদ্দিন হোজ্জাও যাচ্ছিলেন সে পথ দিয়ে। লোকটিকে এমনভাবে বসে থাকতে দেখে হোজ্জা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কী হয়েছে? কেন তুমি এমনভাবে রাস্তার ধারে বসে আছো?’

লোকটি বললেন, ‘আমার জীবন একেবারে বিষের মত হয়ে গেছে আমার স্ত্রীর কারণে। হাতে কিছু পয়সা আছে বটে কিন্তু মনে সুখ নেই। তাই দেশে দেশে ঘুরতে বেরিয়েছি। যেখানে একটু সুখের সন্ধান পাব, সেখানেই থেকে যাবো।’

লোকটির পাশে তার পোঁটলায় টাকাকড়ি এবং জিনিসপত্র সব রাখা ছিল। তার কথা শেষ হতে না হতেই হোজ্জা সেই পোঁটলাটা নিয়ে দৌড়ে পালাতে লাগলেন। হোজ্জাকে পোঁটলা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখে লোকটিও তার পেছনে প্রাণপন দৌড়াতে লাগলেন। দেখতে দেখতে হোজ্জা রাস্তা ছেড়ে পাশের এক জঙ্গলে ঢুকে হাওয়া হয়ে গেলেন। এভাবে লোকটিকে ধোঁকা দিয়ে হোজ্জা আবার সেই রাস্তয় ফিরে পোঁটলাটা রাস্তার মাঝখানে রেখে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন।

এদিকে লোকটিও কিছুক্ষণ পর আগের জায়গায় এসে হাজির হলেন। তাকে পূর্বের চেয়েও বেশি দুঃখিত দেখাচ্ছিল। কিন্তু রাস্তায় তার পোঁটলাটি পড়ে থাকতে দেখে মহা আনন্দে চিৎকার করে পোঁটলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

পোঁটলা পেয়ে এতক্ষণে লোকটা যেন প্রাণ ফিরে পেলেন। গাছের আঁড়াল থেকে হোজ্জা এবার বেরিয়ে এসে বললেন, ‘আমি ছিনতাইকারি নই, তোমার পোঁটলাটাও নিতে চাইনি। তোমার মতো একজন দুঃখী মানুষকে পোঁটলানা ফিরিয়ে দিয়ে সুখের সন্ধান দিলাম আর কী। তুমি নিশ্চয়ই খুশি হয়েছো, তাই না?’ এই বলে হোজ্জা মুচকি হেসে চলে গেলেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন