গলফ আর দুই বুড়ো
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
গলফ আর দুই বুড়ো

  আশরাফুল আলম পিনটু  

০৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইংল্যান্ডের ছোট্ট এক শহর। সবুজ গাছপালায় ঘেরা। ছিমছাম। সেই শহরের বাসিন্দা বুড়ো আর্থার। বয়স ৭৫ বছর। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। সেই থেকে রোজ গলফ খেলেন।

একদিনও বাদ দেন না। ১৫ বছর থেকে এরকমই চলছে। সত্যি কথা বলতে কী, এ খেলাটা তার খুবই প্রিয়। অবসর নেওয়ার আগেও মাঝেমধ্যে খেলতেন। তখন খুব একটা সময় পেতেন না। কিন্তু এখন গলফই তার ধ্যানজ্ঞান। গলফই তার জীবন। অবসর কাটানোর অবলম্বন। গলফ ছাড়া যেন কিছুই বোঝেন না।

একদিন গলফ খেলে বাড়ি ফিরলেন আর্থার। খুব মন খারাপ তার। মনমরা দেখে স্ত্রী আগাথা জানতে চাইলেন, ‘কী ব্যাপার! কিছু কি হয়েছে তোমার?’

হতাশ সুরে আর্থার বললেন, ‘গলফ খেলাটা আমার ছেড়েই দিতে হচ্ছে।’

আগাথা : তা ছাড়বে কেন?

আর্থার : আমার দৃষ্টিশক্তি একবারেই কমে গেছে। বল মারলে দেখতে পাই না সেটা কোথায় গেল!

শুনে আগাথারও মন খারাপ হলো। কী বলবেন বুঝতে পারলেন না। আহা বেচারা! এক কাপ চা বানিয়ে দিলেন।

আর্থার মলিন মুখে চা খাচ্ছিলেন। দেখে খুব মায়া হলো আগাথার। একটু ভেবে বললেন, ‘খেলাটা ছেড়ো না। আমার বড়ভাই পিটারকে সঙ্গে নিয়ে যেও। আর একবার চেষ্টা করে দেখ।’

‘তাতেও বোধহয় কাজ হবে না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন আর্থার, ‘তোমার ভাইয়ের বয়স ৮৫ বছর। তিনি আর কী সাহায্য করবেন!’

আগাথা বললেন, ‘তার বয়স ৮৫, তা ঠিক। কিন্তু তার দৃষ্টিশক্তি এখনো প্রখর।’

বউয়ের পরামর্শ মনে ধরল আর্থারের।

পরদিন বুড়ো পিটারকে নিয়ে গলফ খেলতে মাঠে গেলেন আর্থার। বল সাজালেন। হাত ঘুরিয়ে মারলেন সজোরে। বল কোথায় গেল যথারীতি দেখতে পেলেন না। এবার ফিরলেন পিটারের দিকে। জানতে চাইলেন, ‘বলটা নিশ্চয় দেখতে পেয়েছেন?’

‘অবশ্যই।’ আর্থারের দিকে ফিরে বললেন পিটার, ‘অবশ্যই বলটা দেখেছি। আমার দৃষ্টিশক্তি এখনো ঠিক আছে। তোমার মতো নয়, বুঝেছ!’

‘তা বুঝেছি। এখন বলুন, বলটা কোথায়? কোনদিকে গেছে?’ জানতে চাইলেন আর্থার।

পিটার : কিসের বল! কোন বল?

আর্থার : এই যে এখন আমি মারলাম। গলফের বল।

পিটার : ও আচ্ছা, সেই বল!

আর্থার : হ্যাঁ, সেই বল। বলুন, বলটা কোথায়?

পিটার : তা তো আমি বলতে পারছি না!

‘আপনার না দৃষ্টিশক্তি ভালো?’ জানতে চাইলেন আর্থার।

পিটার জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, ভালো। কিন্তু আমার স্মৃতিশক্তি ভালো না!’

ভিনদেশি রসিকতা

গলফ আর দুই বুড়ো

 আশরাফুল আলম পিনটু 
০৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইংল্যান্ডের ছোট্ট এক শহর। সবুজ গাছপালায় ঘেরা। ছিমছাম। সেই শহরের বাসিন্দা বুড়ো আর্থার। বয়স ৭৫ বছর। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। সেই থেকে রোজ গলফ খেলেন।

একদিনও বাদ দেন না। ১৫ বছর থেকে এরকমই চলছে। সত্যি কথা বলতে কী, এ খেলাটা তার খুবই প্রিয়। অবসর নেওয়ার আগেও মাঝেমধ্যে খেলতেন। তখন খুব একটা সময় পেতেন না। কিন্তু এখন গলফই তার ধ্যানজ্ঞান। গলফই তার জীবন। অবসর কাটানোর অবলম্বন। গলফ ছাড়া যেন কিছুই বোঝেন না।

একদিন গলফ খেলে বাড়ি ফিরলেন আর্থার। খুব মন খারাপ তার। মনমরা দেখে স্ত্রী আগাথা জানতে চাইলেন, ‘কী ব্যাপার! কিছু কি হয়েছে তোমার?’

হতাশ সুরে আর্থার বললেন, ‘গলফ খেলাটা আমার ছেড়েই দিতে হচ্ছে।’

আগাথা : তা ছাড়বে কেন?

আর্থার : আমার দৃষ্টিশক্তি একবারেই কমে গেছে। বল মারলে দেখতে পাই না সেটা কোথায় গেল!

শুনে আগাথারও মন খারাপ হলো। কী বলবেন বুঝতে পারলেন না। আহা বেচারা! এক কাপ চা বানিয়ে দিলেন।

আর্থার মলিন মুখে চা খাচ্ছিলেন। দেখে খুব মায়া হলো আগাথার। একটু ভেবে বললেন, ‘খেলাটা ছেড়ো না। আমার বড়ভাই পিটারকে সঙ্গে নিয়ে যেও। আর একবার চেষ্টা করে দেখ।’

‘তাতেও বোধহয় কাজ হবে না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন আর্থার, ‘তোমার ভাইয়ের বয়স ৮৫ বছর। তিনি আর কী সাহায্য করবেন!’

আগাথা বললেন, ‘তার বয়স ৮৫, তা ঠিক। কিন্তু তার দৃষ্টিশক্তি এখনো প্রখর।’

বউয়ের পরামর্শ মনে ধরল আর্থারের।

পরদিন বুড়ো পিটারকে নিয়ে গলফ খেলতে মাঠে গেলেন আর্থার। বল সাজালেন। হাত ঘুরিয়ে মারলেন সজোরে। বল কোথায় গেল যথারীতি দেখতে পেলেন না। এবার ফিরলেন পিটারের দিকে। জানতে চাইলেন, ‘বলটা নিশ্চয় দেখতে পেয়েছেন?’

‘অবশ্যই।’ আর্থারের দিকে ফিরে বললেন পিটার, ‘অবশ্যই বলটা দেখেছি। আমার দৃষ্টিশক্তি এখনো ঠিক আছে। তোমার মতো নয়, বুঝেছ!’

‘তা বুঝেছি। এখন বলুন, বলটা কোথায়? কোনদিকে গেছে?’ জানতে চাইলেন আর্থার।

পিটার : কিসের বল! কোন বল?

আর্থার : এই যে এখন আমি মারলাম। গলফের বল।

পিটার : ও আচ্ছা, সেই বল!

আর্থার : হ্যাঁ, সেই বল। বলুন, বলটা কোথায়?

পিটার : তা তো আমি বলতে পারছি না!

‘আপনার না দৃষ্টিশক্তি ভালো?’ জানতে চাইলেন আর্থার।

পিটার জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ, ভালো। কিন্তু আমার স্মৃতিশক্তি ভালো না!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন