প্রেমের স্বাদ উধাও
jugantor
পাঠক বাড়ি রসের হাড়ি
প্রেমের স্বাদ উধাও

  হিমু চন্দ্র শীল  

০৪ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ধু মঈন দেখতে সালমান খানের মতো বডি বিল্ডার না হলেও মোটামুটি চার্লি চাপলিনের মতো হ্যান্ডসাম বলা যায়।

সবসময় ওকে নিয়ে হাসিঠাট্টা হয় আমাদের মাঝে। ওকে ক্ষেপানোর জন্য আমরা সবসময় অযুহাত খুঁজি। এতে সে রাগ করে না। বেচারা আমাদের সব জ্বালা-যন্ত্রণা চোখ বুঝে সহ্য করে। আমার বাসার সামনে তিন তলাবিশিষ্ট বালিকা মাদ্রাসার হোস্টেল।

তাই হোস্টেলের আশপাশে সবসময় মোটরবাইকে করে দুষ্টু ছেলেদের আনাগোনা দেখা যায়। দিন-রাতের পার্থক্য নেই, সবসময় ফিল্মি স্টাইলে শিস দিয়ে তারা মোটরবাইক চালিয়ে হর্ন দিতে দিতে ঘুরপাক খায় হোস্টেলের আশপাশে। একদিন কথার কথায় জানতে পারলাম মঈন হোস্টেলের একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছে। প্রেমে যে শুধু বন্ধু মঈন পড়েছে তাই নয়।

জানা গেছে বিপরীত পক্ষ থেকেও গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছে সে। তবে কথা হলো এই অপরিপক্ব প্রেমের পরিপক্বতা পেতে একে অন্যের কাছে পৌঁছা অতিব প্রয়োজন। যা এখনো হয়ে উঠেনি। মেয়েটি থাকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে থাকা হোস্টেলের তিন তলায়। যেখানে ভরদুপুরে দিব্যি সূর্যের আলোও প্রবেশ করে কি না সন্দেহ!

সবসময় দারোয়ানের সতর্ক পাহারা আর হোস্টেল সুপার ম্যাডামের তীর্যক দৃষ্টিতে হোস্টেলের মেয়েরা কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকে। মঈন সিদ্ধান্ত নিল যেভাবে হোক তার মোবাইল নম্বর সমেত একটি চিঠি হোস্টেলের তৃতীয় তলায় তার প্রেয়সীর কাছে পৌঁছে দেবে। অপূর্ণ প্রেমের সুন্দর পূর্ণতা দেবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক সন্ধ্যায় সে মোবাইল নম্বর সমেত একটি চিঠি পাথরে মুড়িয়ে ছুড়ে মারল তিন তলার দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত চিঠিখানা পাশের একটি নারিকেল গাছের উপরে গিয়ে পড়ল। আটকে গেল নারিকেল গাছের ডালে। এর পরদিন আবারও পাথরসমেত চিঠিখানা ছুড়ে মারল বন্ধু মঈন। এবার মোবাইল নম্বরসমেত চিঠিটি গিয়ে পড়ল একেবারে সঠিক জায়গায়! বন্ধুও দারুণ খুশি। যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেয়েছে। নির্ঘাত এবার কাজ হয়ে যাবে। ওপার থেকে সাড়া পাবে। এই ভেবে বন্ধু মঈন অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগল। সেকেন্ড মিনিট হয়, মিনিট হয় ঘন্টা। কিন্তু বন্ধু মঈনের ফোনে আর কল আসে না।

হঠাৎ দু’এক দিন পর একটি আননোন নম্বর থেকে কাক্সিক্ষত কলটি এলো। মঈন খুশি মনে রিসিভ করে বলল, ‘হ্যালো কে বলছেন?’ ওপার থেকে উত্তর এলো, ‘আমি তোর মা হই রে! হারামজাদা ফাজলামি করার আর জায়গা পাস নে! প্রেম করার স্বাদ হয়েছে। ফের যদি এই রকম করিস, তোর একদিন কি আমার একদিন।’

মঈন তাড়াতাড়ি ফোনের লাইন কেটে দিল। তার বুঝতে আর বাকি থাকল না ব্যাপারটি। আসলে ওইদিন ওর ছুড়ে মারা মোবাইল নম্বরসমেত চিঠিখানা গিয়ে পড়েছিল হোস্টেল সুপার মেমের রুমে! তারপর মেম রেগে গিয়ে কল করেছিল ওকে। ওইদিনের পর থেকে মঈন প্রেম করা তো দূরে থাক ওই পথেই আর পা মাড়ায়নি।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

পাঠক বাড়ি রসের হাড়ি

প্রেমের স্বাদ উধাও

 হিমু চন্দ্র শীল 
০৪ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ধু মঈন দেখতে সালমান খানের মতো বডি বিল্ডার না হলেও মোটামুটি চার্লি চাপলিনের মতো হ্যান্ডসাম বলা যায়।

সবসময় ওকে নিয়ে হাসিঠাট্টা হয় আমাদের মাঝে। ওকে ক্ষেপানোর জন্য আমরা সবসময় অযুহাত খুঁজি। এতে সে রাগ করে না। বেচারা আমাদের সব জ্বালা-যন্ত্রণা চোখ বুঝে সহ্য করে। আমার বাসার সামনে তিন তলাবিশিষ্ট বালিকা মাদ্রাসার হোস্টেল।

তাই হোস্টেলের আশপাশে সবসময় মোটরবাইকে করে দুষ্টু ছেলেদের আনাগোনা দেখা যায়। দিন-রাতের পার্থক্য নেই, সবসময় ফিল্মি স্টাইলে শিস দিয়ে তারা মোটরবাইক চালিয়ে হর্ন দিতে দিতে ঘুরপাক খায় হোস্টেলের আশপাশে। একদিন কথার কথায় জানতে পারলাম মঈন হোস্টেলের একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছে। প্রেমে যে শুধু বন্ধু মঈন পড়েছে তাই নয়।

জানা গেছে বিপরীত পক্ষ থেকেও গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছে সে। তবে কথা হলো এই অপরিপক্ব প্রেমের পরিপক্বতা পেতে একে অন্যের কাছে পৌঁছা অতিব প্রয়োজন। যা এখনো হয়ে উঠেনি। মেয়েটি থাকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে থাকা হোস্টেলের তিন তলায়। যেখানে ভরদুপুরে দিব্যি সূর্যের আলোও প্রবেশ করে কি না সন্দেহ!

সবসময় দারোয়ানের সতর্ক পাহারা আর হোস্টেল সুপার ম্যাডামের তীর্যক দৃষ্টিতে হোস্টেলের মেয়েরা কঠোর নিয়মের মধ্যে থাকে। মঈন সিদ্ধান্ত নিল যেভাবে হোক তার মোবাইল নম্বর সমেত একটি চিঠি হোস্টেলের তৃতীয় তলায় তার প্রেয়সীর কাছে পৌঁছে দেবে। অপূর্ণ প্রেমের সুন্দর পূর্ণতা দেবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক সন্ধ্যায় সে মোবাইল নম্বর সমেত একটি চিঠি পাথরে মুড়িয়ে ছুড়ে মারল তিন তলার দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত চিঠিখানা পাশের একটি নারিকেল গাছের উপরে গিয়ে পড়ল। আটকে গেল নারিকেল গাছের ডালে। এর পরদিন আবারও পাথরসমেত চিঠিখানা ছুড়ে মারল বন্ধু মঈন। এবার মোবাইল নম্বরসমেত চিঠিটি গিয়ে পড়ল একেবারে সঠিক জায়গায়! বন্ধুও দারুণ খুশি। যেন ঈদের চাঁদ হাতে পেয়েছে। নির্ঘাত এবার কাজ হয়ে যাবে। ওপার থেকে সাড়া পাবে। এই ভেবে বন্ধু মঈন অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগল। সেকেন্ড মিনিট হয়, মিনিট হয় ঘন্টা। কিন্তু বন্ধু মঈনের ফোনে আর কল আসে না।

হঠাৎ দু’এক দিন পর একটি আননোন নম্বর থেকে কাক্সিক্ষত কলটি এলো। মঈন খুশি মনে রিসিভ করে বলল, ‘হ্যালো কে বলছেন?’ ওপার থেকে উত্তর এলো, ‘আমি তোর মা হই রে! হারামজাদা ফাজলামি করার আর জায়গা পাস নে! প্রেম করার স্বাদ হয়েছে। ফের যদি এই রকম করিস, তোর একদিন কি আমার একদিন।’

মঈন তাড়াতাড়ি ফোনের লাইন কেটে দিল। তার বুঝতে আর বাকি থাকল না ব্যাপারটি। আসলে ওইদিন ওর ছুড়ে মারা মোবাইল নম্বরসমেত চিঠিখানা গিয়ে পড়েছিল হোস্টেল সুপার মেমের রুমে! তারপর মেম রেগে গিয়ে কল করেছিল ওকে। ওইদিনের পর থেকে মঈন প্রেম করা তো দূরে থাক ওই পথেই আর পা মাড়ায়নি।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন