পরীক্ষার খাতা
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
পরীক্ষার খাতা

  আশরাফুল আলম পিনটু  

১৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হায়ার সেকেন্ডারির চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। খাতায় লিখে চলেছে পরীক্ষার্থীরা। বয়স্ক হল পরিদর্শক বসে আছেন সামনে। চোখে গোল চশমা। মাঝে মাঝে উঠে পায়চারি করছেন। বকাঝকা করছেন কেউ খাতা দেখাদেখি করলে।

পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে। মিনিটখানেক বাকি। ক্লাসরুমের পেছনের দেয়ালে ঘড়ি ঝুলছে। পরিদর্শক সেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন। শিক্ষার্থীরা লেখা শেষ করে উত্তরগুলো আবার মিলিয়ে পড়ে নিচ্ছে। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো। কারণ তারা জানে, ঘড়ির কাঁটা শেষ দাগে এক্ষুনি পৌঁছে যাবে।

‘তোমাদের পরীক্ষার সময় শেষ।’ খিটখিটে স্বভাবের পরিদর্শক জোরে ঘোষণা করলেন। বললেন, ‘সবাই খাতা জমা দাও। একে একে এসে আমার টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখো।’

পরীক্ষার্থীরা শান্তভাবে উঠে দাঁড়াল। লাইন ধরে খাতার ওপর খাতা রেখে বেরিয়ে গেল ক্লাসরুম থেকে। কিন্তু এক ছাত্র তখনো শেষ উত্তরটা লিখছিল। লেখা শেষ করতে সহপাঠীদের চেয়ে মাত্র বিশ-পঁচিশ সেকেন্ড দেরি হলো। কিন্তু খাতা জমা দিতে গেলে পরিদর্শক বাধা দিলেন।

‘অনেক দেরি করে ফেলেছ।’ বুড়ো পরিদর্শক অবজ্ঞা করে বললেন, ‘সময়মতো দিতে পারোনি। তোমার খাতা নেওয়া হবে না।’

শুনে মুখ হা হয়ে গেল ছেলেটার। এটা কোনোমতেই উচিত কাজ করছেন না পরিদর্শক। মেনে নেওয়া যায় না। তাই সে সরাসরি বলল, ‘এটা কী বলছেন, স্যার! আমার খাতাটা জমা দিতে দিন।’

তারপরও বুড়ো পরিদর্শক তার কথা মানলেন না। এবার ছাত্রটি বেয়াড়ার মতো জানতে চাইল, ‘আপনি কি জানেন, আমি কে?’

পরিদর্শক চশমার ফাঁক দিয়ে ছাত্রের দিকে তাকালেন। তার বেয়াড়াপনা দেখে অবাক হলেন। বললেন, ‘না, তা জানি না!’

‘আপনি কি আমার নাম জানেন?’

‘না, নাম জানি না। জানতে চাইও না!’ রেগে বললেন পরিদর্শক।

‘তাহলে তো ভালোই হলো।’ বলল ছাত্রটি। পরিদর্শক কিছু বুঝে ওঠার আগে মুহূর্তেই পালা দেওয়া খাতাগুলোর মাঝখানে নিজের খাতাটা ঢুকিয়ে দিল। টেবিলের ওপর এলোমেলো করে দিল সব খাতা। তারপর দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

ভিনদেশি রসিকতা

পরীক্ষার খাতা

 আশরাফুল আলম পিনটু 
১৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হায়ার সেকেন্ডারির চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। খাতায় লিখে চলেছে পরীক্ষার্থীরা। বয়স্ক হল পরিদর্শক বসে আছেন সামনে। চোখে গোল চশমা। মাঝে মাঝে উঠে পায়চারি করছেন। বকাঝকা করছেন কেউ খাতা দেখাদেখি করলে।

পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে। মিনিটখানেক বাকি। ক্লাসরুমের পেছনের দেয়ালে ঘড়ি ঝুলছে। পরিদর্শক সেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছেন। শিক্ষার্থীরা লেখা শেষ করে উত্তরগুলো আবার মিলিয়ে পড়ে নিচ্ছে। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো। কারণ তারা জানে, ঘড়ির কাঁটা শেষ দাগে এক্ষুনি পৌঁছে যাবে।

‘তোমাদের পরীক্ষার সময় শেষ।’ খিটখিটে স্বভাবের পরিদর্শক জোরে ঘোষণা করলেন। বললেন, ‘সবাই খাতা জমা দাও। একে একে এসে আমার টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখো।’

পরীক্ষার্থীরা শান্তভাবে উঠে দাঁড়াল। লাইন ধরে খাতার ওপর খাতা রেখে বেরিয়ে গেল ক্লাসরুম থেকে। কিন্তু এক ছাত্র তখনো শেষ উত্তরটা লিখছিল। লেখা শেষ করতে সহপাঠীদের চেয়ে মাত্র বিশ-পঁচিশ সেকেন্ড দেরি হলো। কিন্তু খাতা জমা দিতে গেলে পরিদর্শক বাধা দিলেন।

‘অনেক দেরি করে ফেলেছ।’ বুড়ো পরিদর্শক অবজ্ঞা করে বললেন, ‘সময়মতো দিতে পারোনি। তোমার খাতা নেওয়া হবে না।’

শুনে মুখ হা হয়ে গেল ছেলেটার। এটা কোনোমতেই উচিত কাজ করছেন না পরিদর্শক। মেনে নেওয়া যায় না। তাই সে সরাসরি বলল, ‘এটা কী বলছেন, স্যার! আমার খাতাটা জমা দিতে দিন।’

তারপরও বুড়ো পরিদর্শক তার কথা মানলেন না। এবার ছাত্রটি বেয়াড়ার মতো জানতে চাইল, ‘আপনি কি জানেন, আমি কে?’

পরিদর্শক চশমার ফাঁক দিয়ে ছাত্রের দিকে তাকালেন। তার বেয়াড়াপনা দেখে অবাক হলেন। বললেন, ‘না, তা জানি না!’

‘আপনি কি আমার নাম জানেন?’

‘না, নাম জানি না। জানতে চাইও না!’ রেগে বললেন পরিদর্শক।

‘তাহলে তো ভালোই হলো।’ বলল ছাত্রটি। পরিদর্শক কিছু বুঝে ওঠার আগে মুহূর্তেই পালা দেওয়া খাতাগুলোর মাঝখানে নিজের খাতাটা ঢুকিয়ে দিল। টেবিলের ওপর এলোমেলো করে দিল সব খাতা। তারপর দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন