রাজা বাদশাহ’র লং জার্নি
jugantor
রম্যগল্প
রাজা বাদশাহ’র লং জার্নি

  শায়ের খান  

১৮ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লং জার্নির শুরু পাবনা থেকে। সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন ট্রাকে। ৫ টনই যে তোলা হয়েছে তা না। গরু-ছাগলের ওজন তো সরল অঙ্ক না যে প্লাস-মাইনাস করে রাউন্ড ফিগারই হবে।

যদিও সবগুলোর ফিগার রাউন্ড। কুরবানির হাটে বেশি দাম পাওয়ার জন্য নাদুসনুদুস করে বড় করা হয়েছে এদের। যেমন ধরা যাক পেছনের ডান কোনায় বসা ছাগল রাজার ওজন ১৬ কেজি, আর তার পাশে বসা বিশাল গরু বাদশাহ’র ওজন ১৪০০ কেজি। আকারে আকাশ পাতাল হলেও দু’জন বসে আছে পাশাপাশি। ট্রাকে অন্যান্য যাত্রীও আছে। আড় চোখে চেয়ে কথা শুরু করে বাদশাহ।

বাদশাহ : নাম কী?

রাজা : রাজা।

আকাশের দিকে চেয়ে হাসিটাকে আড়াল করে বাদশাহ। হয়তো ১৫-১৬ কেজি পিচ্চির নাম রাজা দেখে হাসি পেয়েছে।

বাদশাহ : বাড়ি?

রাজা : নাটোর। আপনার?

বাদশাহ : সিরাজগঞ্জ।

রাজা : আপনাকে চেনা চেনা লাগতেসে। টিভিতে বোধহয় দেখসি।

বাদশাহ : দেখতে পার। ৪-৫টা টিভি চ্যানেল আমাকে দেখাইছে। পেপারেও।

রাজা : ফেসবুকেও তো ভাইরাল হইছেন। আপনার দাম বোধহয়।

বাদশাহ : হুম, বায়ান্ন লাখ! বাড়তে পারে।

রাজা : আমার অহঙ্কার হইতেছে।

বাদশাহ : কেন?

রাজা : আমি একজন সেলিব্রেটির পাশে বইসা যাইতেছি। খুশিতে আমার কইলজা ফাইটা যাইতেছে স্যার।

বাদশাহ : স্যার বলবা না। বড় ভাই বলবা।

রাজা : জি বড় ভাই। আচ্ছা, আমি বুঝলাম না...।

বাদশাহ : কী বুঝলা না?

রাজা : আপনার মতো একজন বড় মাপের সেলিব্রেটিকে আলাদা গাড়িতে না নিয়া আমাদের সঙ্গে নিতেছে কেন?

বাদশাহ : বোধহয় গাড়ি পায় নাই। লকডাউনের পরে তো। আমি কিছু মনে করি নাই। কিন্তু ১০-১২ লাখের গরু হইলেই কাই মাই শুরু করত। মনে রাখবা, যেই গাছে ফল বেশি, সেই গাছ তত নুইয়া থাকে।

রাজা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

রাজা : আপনার দেহই শুধু বড় না, মনটাও বড়।

বাদশাহ এদিক-ওদিক তাকায়।

বাদশাহ : লং জার্নিতে গলা শুকায় গেছে। পানি পাই কোথায়?

রাজা : আপনার মালিক পানির ব্যবস্থাও করে নাই?

বাদশাহ : এদের ম্যানেজমেন্ট খারাপ।

রাজা : শুধু ম্যানেজমেন্ট? রাস্তায় রাস্তায় মানুষের সঙ্গে তারাও মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াইতেছে। আড্ডা দিতেছে। এত্ত বড় করোনার ওয়েভ, কারো কোনো চিন্তা নাই। অথচ আমাদের মাস্ক পরায় রাখছে। আমাদের করোনা হয় বলেন?

বাদশাহ : আরে এইটা পরায় রাখছে অন্য কারণে। ওহ, তুমি ছেলে না মেয়ে?

রাজা : আমি রাজা।

বাদশাহ : তাইলে শোন রাজা, মাস্ক পরায় রাখছে যাতে উল্টা-পাল্টা কিছু মুখে দিয়া মইরা না যাই। তুমি আমি মরলে তাদের টাকা লস। কিন্তু নিজেদের মুখে মাস্ক নাই।

কিছুক্ষণ নীরব থাকে দুজন।

রাজা : বড় ভাই, সবাই কিন্তু আপনাকে সাইড মাইরা দেখতেছে।

বাদশাহ : দেখুক। সেলিব্রেটিদের সবাই এইভাবেই মাপে। ওইদিকে তাকাইও না।

রাজা : আমাদের কোথায় নিতেছে জানেন কিছু?

বাদশাহ : বোধহয় বিদেশ।

রাজা : কোন দেশে?

বাদশাহ : আমাকে হয়তো স্পেন পাঠাবে। ষাঁড়ের লড়াই খেলতে।

রাজা : আমাকে?

বাদশাহ : ভুটান বা ইন্ডিয়া পাঠাইতে পারে। তোমার মূল্য কম। দূরের দেশে পাঠাইলে খর্চায় পোষাবে না।

রাজা : চইলা আসছি। ওই যে দেখেন বড় ভাই। শত শত মানুষ মাস্ক ছাড়া ভিড় কইরা ইস্টুপিডের মতো হাসতেছে।

বাদশাহ : অথচ ওরা নিজেদের টিটকারি মারে আমাদের নাম ধইরা। গরু-ছাগল বইলা! কী তাজ্জব ব্যাপার!

রাজা : থাক। ঠা্ণ্ডা হন বড় ভাই। প্রেসার হাই কইরেন না। চলেন নামি।

বাদশাহ : ভিড় ভাট্টা আগে নামুক। একসঙ্গে ট্রাক থেইকা নামতে গেলে পাড়া খাইয়া তুমি আবার

চ্যাপ্টা হইয়া যাবা।

রম্যগল্প

রাজা বাদশাহ’র লং জার্নি

 শায়ের খান 
১৮ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লং জার্নির শুরু পাবনা থেকে। সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন ট্রাকে। ৫ টনই যে তোলা হয়েছে তা না। গরু-ছাগলের ওজন তো সরল অঙ্ক না যে প্লাস-মাইনাস করে রাউন্ড ফিগারই হবে।

যদিও সবগুলোর ফিগার রাউন্ড। কুরবানির হাটে বেশি দাম পাওয়ার জন্য নাদুসনুদুস করে বড় করা হয়েছে এদের। যেমন ধরা যাক পেছনের ডান কোনায় বসা ছাগল রাজার ওজন ১৬ কেজি, আর তার পাশে বসা বিশাল গরু বাদশাহ’র ওজন ১৪০০ কেজি। আকারে আকাশ পাতাল হলেও দু’জন বসে আছে পাশাপাশি। ট্রাকে অন্যান্য যাত্রীও আছে। আড় চোখে চেয়ে কথা শুরু করে বাদশাহ।

বাদশাহ : নাম কী?

রাজা : রাজা।

আকাশের দিকে চেয়ে হাসিটাকে আড়াল করে বাদশাহ। হয়তো ১৫-১৬ কেজি পিচ্চির নাম রাজা দেখে হাসি পেয়েছে।

বাদশাহ : বাড়ি?

রাজা : নাটোর। আপনার?

বাদশাহ : সিরাজগঞ্জ।

রাজা : আপনাকে চেনা চেনা লাগতেসে। টিভিতে বোধহয় দেখসি।

বাদশাহ : দেখতে পার। ৪-৫টা টিভি চ্যানেল আমাকে দেখাইছে। পেপারেও।

রাজা : ফেসবুকেও তো ভাইরাল হইছেন। আপনার দাম বোধহয়।

বাদশাহ : হুম, বায়ান্ন লাখ! বাড়তে পারে।

রাজা : আমার অহঙ্কার হইতেছে।

বাদশাহ : কেন?

রাজা : আমি একজন সেলিব্রেটির পাশে বইসা যাইতেছি। খুশিতে আমার কইলজা ফাইটা যাইতেছে স্যার।

বাদশাহ : স্যার বলবা না। বড় ভাই বলবা।

রাজা : জি বড় ভাই। আচ্ছা, আমি বুঝলাম না...।

বাদশাহ : কী বুঝলা না?

রাজা : আপনার মতো একজন বড় মাপের সেলিব্রেটিকে আলাদা গাড়িতে না নিয়া আমাদের সঙ্গে নিতেছে কেন?

বাদশাহ : বোধহয় গাড়ি পায় নাই। লকডাউনের পরে তো। আমি কিছু মনে করি নাই। কিন্তু ১০-১২ লাখের গরু হইলেই কাই মাই শুরু করত। মনে রাখবা, যেই গাছে ফল বেশি, সেই গাছ তত নুইয়া থাকে।

রাজা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

রাজা : আপনার দেহই শুধু বড় না, মনটাও বড়।

বাদশাহ এদিক-ওদিক তাকায়।

বাদশাহ : লং জার্নিতে গলা শুকায় গেছে। পানি পাই কোথায়?

রাজা : আপনার মালিক পানির ব্যবস্থাও করে নাই?

বাদশাহ : এদের ম্যানেজমেন্ট খারাপ।

রাজা : শুধু ম্যানেজমেন্ট? রাস্তায় রাস্তায় মানুষের সঙ্গে তারাও মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াইতেছে। আড্ডা দিতেছে। এত্ত বড় করোনার ওয়েভ, কারো কোনো চিন্তা নাই। অথচ আমাদের মাস্ক পরায় রাখছে। আমাদের করোনা হয় বলেন?

বাদশাহ : আরে এইটা পরায় রাখছে অন্য কারণে। ওহ, তুমি ছেলে না মেয়ে?

রাজা : আমি রাজা।

বাদশাহ : তাইলে শোন রাজা, মাস্ক পরায় রাখছে যাতে উল্টা-পাল্টা কিছু মুখে দিয়া মইরা না যাই। তুমি আমি মরলে তাদের টাকা লস। কিন্তু নিজেদের মুখে মাস্ক নাই।

কিছুক্ষণ নীরব থাকে দুজন।

রাজা : বড় ভাই, সবাই কিন্তু আপনাকে সাইড মাইরা দেখতেছে।

বাদশাহ : দেখুক। সেলিব্রেটিদের সবাই এইভাবেই মাপে। ওইদিকে তাকাইও না।

রাজা : আমাদের কোথায় নিতেছে জানেন কিছু?

বাদশাহ : বোধহয় বিদেশ।

রাজা : কোন দেশে?

বাদশাহ : আমাকে হয়তো স্পেন পাঠাবে। ষাঁড়ের লড়াই খেলতে।

রাজা : আমাকে?

বাদশাহ : ভুটান বা ইন্ডিয়া পাঠাইতে পারে। তোমার মূল্য কম। দূরের দেশে পাঠাইলে খর্চায় পোষাবে না।

রাজা : চইলা আসছি। ওই যে দেখেন বড় ভাই। শত শত মানুষ মাস্ক ছাড়া ভিড় কইরা ইস্টুপিডের মতো হাসতেছে।

বাদশাহ : অথচ ওরা নিজেদের টিটকারি মারে আমাদের নাম ধইরা। গরু-ছাগল বইলা! কী তাজ্জব ব্যাপার!

রাজা : থাক। ঠা্ণ্ডা হন বড় ভাই। প্রেসার হাই কইরেন না। চলেন নামি।

বাদশাহ : ভিড় ভাট্টা আগে নামুক। একসঙ্গে ট্রাক থেইকা নামতে গেলে পাড়া খাইয়া তুমি আবার

চ্যাপ্টা হইয়া যাবা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন