নাকডাকা লোকের সঙ্গে ঘুমানো
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
নাকডাকা লোকের সঙ্গে ঘুমানো

  আশরাফুল আলম পিনটু  

২৫ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট্ট এক শহরে বেড়াতে এলো টম। সেখানে পৌঁছল সন্ধ্যার অনেক পর। দেরিতে পৌঁছে বিপদে পড়ল। কোনো হোটেলে ঘর ফাঁকা নেই। অনেক ঘোরাঘুরি করে অবশেষে শহরের শেষ হোটেলে এলো। নড়বড়ে হোটেল। যাই হোক, একটা থাকার জায়গা জোগাড় করতেই হবে। তাই সে মরিয়া হয়ে ম্যানেজারকে বলল, ‘যেভাবেই হোক আমাকে একটা ঘর দিন। নিদেনপক্ষে একটা বেড হলেও চলবে। আমি কোনোরকমে রাতটা পার করে দেব।’

‘আমাদের এখানে কোনো আলাদা ঘর নেই। আপনি যখন এত করে বলছেন-একটা ব্যবস্থা করতে পারি।’ ম্যানেজার বললেন, ‘ডাবল রুমে একটা বেড ফাঁকা আছে। অন্য বেডে আছেন বয়স্ক নাবিক। প্রায়ই আমাদের হোটেলে থাকেন। রুমের ভাড়া ভাগাভাগি করতে পারলে খুশিই হবেন তিনি। কিন্তু সত্যটা আপনাকে বলি। তিনি ঘুমের মধ্যে এমন জোরে নাক ডাকেন অন্যজন টিকতে পারেন না। অতীতে অনেকেই এ অভিযোগ করেছেন। এখন আপনি ভেবে দেখুন, থাকবেন কিনা!’

‘কোনো অসুবিধা নেই।’ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল টম, ‘ও আমি ম্যানেজ করে নেব।’

পরদিন সকালে টম নামল নাশতা করতে। সিঁড়িতে একরকম লাফিয়ে লাফিয়ে নামল। ফুরফুরে মেজাজ। শিস দিতে দিতে যাচ্ছিল। কৌতূহলী ম্যানেজার তাকে ডেকে থামালেন। জানতে চাইলেন, ‘রাতে ঘুম কেমন হলো ভাই?’

‘ভালো, খুব ভালো। এত ভালো ঘুম আগে কখনো ঘুমাইনি।’ হাসিমুখে জবাব দিল টম।

‘বলেন কী!’ অবাক হলেন ম্যানেজার, ‘ওই লোকের নাক ডাকানোতে আপনার কোনো অসুবিধা হয়নি?’

‘না। তিনি নাক ডাকার কোনো সময়ই পাননি। আমি সেই ব্যবস্থা করেছিলাম।’ টম জবাব দিল।

‘কী ব্যবস্থা করেছিলেন?’ জানতে চাইলেন ম্যানেজার।

‘গতরাতে যখন রুমে গেলাম তিনি ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছেন। নাকও ডাকছিলেন যথারীতি। আমি তাকে জাগালাম। বললাম, দাদা, ঘুমের মধ্যে আমার হাঁটাচলা করার অভ্যেস আছে। খুবই ভয়ঙ্কর অভ্যেস। অনেক সময় অন্যের গলা টিপে ধরি। তাই আজ একটু সাবধানে ঘুমাবেন। শুভ রাত্রি। এই বলে আমি ঘুমাতে গেলাম। ওদিকে তিনি উঠে বিছানায় বসে রইলেন আমার দিকে তাকিয়ে। আর জেগে রইলেন সারা রাত!’

ভিনদেশি রসিকতা

নাকডাকা লোকের সঙ্গে ঘুমানো

 আশরাফুল আলম পিনটু 
২৫ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট্ট এক শহরে বেড়াতে এলো টম। সেখানে পৌঁছল সন্ধ্যার অনেক পর। দেরিতে পৌঁছে বিপদে পড়ল। কোনো হোটেলে ঘর ফাঁকা নেই। অনেক ঘোরাঘুরি করে অবশেষে শহরের শেষ হোটেলে এলো। নড়বড়ে হোটেল। যাই হোক, একটা থাকার জায়গা জোগাড় করতেই হবে। তাই সে মরিয়া হয়ে ম্যানেজারকে বলল, ‘যেভাবেই হোক আমাকে একটা ঘর দিন। নিদেনপক্ষে একটা বেড হলেও চলবে। আমি কোনোরকমে রাতটা পার করে দেব।’

‘আমাদের এখানে কোনো আলাদা ঘর নেই। আপনি যখন এত করে বলছেন-একটা ব্যবস্থা করতে পারি।’ ম্যানেজার বললেন, ‘ডাবল রুমে একটা বেড ফাঁকা আছে। অন্য বেডে আছেন বয়স্ক নাবিক। প্রায়ই আমাদের হোটেলে থাকেন। রুমের ভাড়া ভাগাভাগি করতে পারলে খুশিই হবেন তিনি। কিন্তু সত্যটা আপনাকে বলি। তিনি ঘুমের মধ্যে এমন জোরে নাক ডাকেন অন্যজন টিকতে পারেন না। অতীতে অনেকেই এ অভিযোগ করেছেন। এখন আপনি ভেবে দেখুন, থাকবেন কিনা!’

‘কোনো অসুবিধা নেই।’ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল টম, ‘ও আমি ম্যানেজ করে নেব।’

পরদিন সকালে টম নামল নাশতা করতে। সিঁড়িতে একরকম লাফিয়ে লাফিয়ে নামল। ফুরফুরে মেজাজ। শিস দিতে দিতে যাচ্ছিল। কৌতূহলী ম্যানেজার তাকে ডেকে থামালেন। জানতে চাইলেন, ‘রাতে ঘুম কেমন হলো ভাই?’

‘ভালো, খুব ভালো। এত ভালো ঘুম আগে কখনো ঘুমাইনি।’ হাসিমুখে জবাব দিল টম।

‘বলেন কী!’ অবাক হলেন ম্যানেজার, ‘ওই লোকের নাক ডাকানোতে আপনার কোনো অসুবিধা হয়নি?’

‘না। তিনি নাক ডাকার কোনো সময়ই পাননি। আমি সেই ব্যবস্থা করেছিলাম।’ টম জবাব দিল।

‘কী ব্যবস্থা করেছিলেন?’ জানতে চাইলেন ম্যানেজার।

‘গতরাতে যখন রুমে গেলাম তিনি ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছেন। নাকও ডাকছিলেন যথারীতি। আমি তাকে জাগালাম। বললাম, দাদা, ঘুমের মধ্যে আমার হাঁটাচলা করার অভ্যেস আছে। খুবই ভয়ঙ্কর অভ্যেস। অনেক সময় অন্যের গলা টিপে ধরি। তাই আজ একটু সাবধানে ঘুমাবেন। শুভ রাত্রি। এই বলে আমি ঘুমাতে গেলাম। ওদিকে তিনি উঠে বিছানায় বসে রইলেন আমার দিকে তাকিয়ে। আর জেগে রইলেন সারা রাত!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন