ছিনতাইকারীর উলটো দৌড়
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
ছিনতাইকারীর উলটো দৌড়

  আশরাফুল আলম পিনটু  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাঠমিস্ত্রি মার্টিন। শক্তপোক্ত যুবক। তবে চেহারাটা নিরীহ ধরনের। প্রতি সপ্তাহ মজুরি পায়। তা নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়।

সপ্তাহ শেষে বাড়ি যাচ্ছিল মার্টিন। এমন সময় পথরোধ করে সামনে দাঁড়াল এক ছিনতাইকারী। ঢ্যাঙা চেহারা। ঝুলন্ত লম্বা গোঁফ। তার হাতে রিভলভার।

নির্জন পাহাড়ি পথ। চারদিক দেখল মার্টিন। কোনো বাড়িঘর নেই। নেই কোনো লোকজনও। ভয় পেয়ে গেল সে। অস্ত্রের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়তে যাওয়া বোকামি। বাধা দিলে লোকটা তাকে মেরেও ফেলতে পারে।

মার্টিনের দিকে রিভলভার তাক করল ছিনতাইকারী। বলল, ‘টাকা-পয়সা যা আছে এক্ষুনি দিয়ে দাও।’

কোনো প্রতিবাদ করল না মার্টিন। পকেট থেকে টাকা বের করে বলল, ‘এই নাও, আমার সপ্তাহের মজুরির সবই তোমাকে দিয়ে দিলাম।’

হাত বাড়িয়ে টাকাগুলো নিয়ে পকেটে রাখল ছিনতাইকারী। কাঁচুমাচু হয়ে মার্টিন বলল, ‘সবই তো দিয়ে দিলাম, ভাই। এবার আমার একটা উপকার করো।’

‘কী উপকার?’ জানতে চাইল ছিনতাইকারী।

‘গুলি করে আমার মাথার হ্যাটে একটা ফুটো করে দাও। নইলে বউ বিশ্বাস করবে না, আমি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছি।’

ছিনতাইকারী রাজি হলো। গুলি মেরে একটা ফুটো করে দিল মার্টিনের হ্যাটে।

‘আরো একটা উপকার করো, ভাই।’

‘আবার কী?’

‘হ্যাটে শুধু একটা গুলি দেখে মনে হবে, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে না লড়েই আমি পালিয়ে এসেছি।’ বলল মার্টিন, ‘এতে বউ আমাকে কাপুরুষ ভাববে।’

‘তাহলে কী করতে বলো?’

গায়ের জামা খুলে একটা গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিল মার্টিন। বলল, ‘গুলি করে এটাতেও কিছু ফুটো করে দাও।’

মার্টিনের জামাতে গুলি ছুড়ল ছিনতাইকারী। গুলির পর গুলি। তারপর একসময় থেমে বলল, ‘আর কী করতে হবে বলো?’

‘আরো গুলি করো। এ সামান্য কয়েকটা ফুটোতে চলবে না।’

‘দুঃখিত।’ এদিক ওদিক মাথা ঝাঁকিয়ে বলল ছিনতাইকারী, ‘আর কোনো ফুটো করতে পারব না। আমার কাছে আর গুলি নেই। সব শেষ।’

‘আমি তো এটাই চেয়েছিলাম!’ ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরল মার্টিন। চোখ পাকিয়ে বলল, ‘এখন আমার সব টাকা ফেরত দে, বদমাশ! তার সঙ্গে ক্ষতিপূরণও দে হ্যাট আর জামাটা ফুটো করার জন্য। নইলে এমন মার দেব, বাপের নাম ভুলে যাবি!’

ছিনতাইকারী তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত দিল। ছাড়িয়ে নিল নিজকে। তারপর জান বাঁচাতে লম্বা পায়ে দিল উলটো দৌড়!

ভিনদেশি রসিকতা

ছিনতাইকারীর উলটো দৌড়

 আশরাফুল আলম পিনটু 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাঠমিস্ত্রি মার্টিন। শক্তপোক্ত যুবক। তবে চেহারাটা নিরীহ ধরনের। প্রতি সপ্তাহ মজুরি পায়। তা নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়।

সপ্তাহ শেষে বাড়ি যাচ্ছিল মার্টিন। এমন সময় পথরোধ করে সামনে দাঁড়াল এক ছিনতাইকারী। ঢ্যাঙা চেহারা। ঝুলন্ত লম্বা গোঁফ। তার হাতে রিভলভার।

নির্জন পাহাড়ি পথ। চারদিক দেখল মার্টিন। কোনো বাড়িঘর নেই। নেই কোনো লোকজনও। ভয় পেয়ে গেল সে। অস্ত্রের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়তে যাওয়া বোকামি। বাধা দিলে লোকটা তাকে মেরেও ফেলতে পারে।

মার্টিনের দিকে রিভলভার তাক করল ছিনতাইকারী। বলল, ‘টাকা-পয়সা যা আছে এক্ষুনি দিয়ে দাও।’

কোনো প্রতিবাদ করল না মার্টিন। পকেট থেকে টাকা বের করে বলল, ‘এই নাও, আমার সপ্তাহের মজুরির সবই তোমাকে দিয়ে দিলাম।’

হাত বাড়িয়ে টাকাগুলো নিয়ে পকেটে রাখল ছিনতাইকারী। কাঁচুমাচু হয়ে মার্টিন বলল, ‘সবই তো দিয়ে দিলাম, ভাই। এবার আমার একটা উপকার করো।’

‘কী উপকার?’ জানতে চাইল ছিনতাইকারী।

‘গুলি করে আমার মাথার হ্যাটে একটা ফুটো করে দাও। নইলে বউ বিশ্বাস করবে না, আমি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছি।’

ছিনতাইকারী রাজি হলো। গুলি মেরে একটা ফুটো করে দিল মার্টিনের হ্যাটে।

‘আরো একটা উপকার করো, ভাই।’

‘আবার কী?’

‘হ্যাটে শুধু একটা গুলি দেখে মনে হবে, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে না লড়েই আমি পালিয়ে এসেছি।’ বলল মার্টিন, ‘এতে বউ আমাকে কাপুরুষ ভাববে।’

‘তাহলে কী করতে বলো?’

গায়ের জামা খুলে একটা গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিল মার্টিন। বলল, ‘গুলি করে এটাতেও কিছু ফুটো করে দাও।’

মার্টিনের জামাতে গুলি ছুড়ল ছিনতাইকারী। গুলির পর গুলি। তারপর একসময় থেমে বলল, ‘আর কী করতে হবে বলো?’

‘আরো গুলি করো। এ সামান্য কয়েকটা ফুটোতে চলবে না।’

‘দুঃখিত।’ এদিক ওদিক মাথা ঝাঁকিয়ে বলল ছিনতাইকারী, ‘আর কোনো ফুটো করতে পারব না। আমার কাছে আর গুলি নেই। সব শেষ।’

‘আমি তো এটাই চেয়েছিলাম!’ ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরল মার্টিন। চোখ পাকিয়ে বলল, ‘এখন আমার সব টাকা ফেরত দে, বদমাশ! তার সঙ্গে ক্ষতিপূরণও দে হ্যাট আর জামাটা ফুটো করার জন্য। নইলে এমন মার দেব, বাপের নাম ভুলে যাবি!’

ছিনতাইকারী তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত দিল। ছাড়িয়ে নিল নিজকে। তারপর জান বাঁচাতে লম্বা পায়ে দিল উলটো দৌড়!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন