একদিন পার্কে এক ভবঘুরে
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
একদিন পার্কে এক ভবঘুরে

  আশরাফুল আলম পিনটু  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন সকালে রবার্ট হাঁটছিল পার্কে। প্রায় প্রতিদিনই হাঁটে। এতে শরীরটা ঠিকঠাক থাকে সারা দিন। এছাড়া সকালের হওয়াটা বেশ লাগে। মনও ফুরফুরে হয়ে ওঠে।

হাঁটতে হাঁটতে রবার্ট দেখল, এক ভবঘুরে বসে আছে বেঞ্চের এক কোণে। মাঝ বয়সি মাঝারি গড়ন। মলিন পোশাক। মলিন চেহারা। উসকোখুসকো চুল। দেখে মনে হয়, অনাহারী। আহা, বেচারা!

খুব মায়া হলো রবার্টের। এগিয়ে গিয়ে বসল ভবঘুরের পাশে। লোকটা চোখ তুলে তাকাল তার দিকে।

রবার্ট কথা শুরু করল, ‘আপনাকে তো খুব কাহিল দেখাচ্ছে!’

‘হ্যাঁ, আমি কাহিলই। খুবই খারাপ অবস্থায় আছি।’

রবার্ট : কেন, কী হয়েছে আপনার?

ভবঘুরে : গত পনের দিন থেকে আমার এ দশা। এর আগে ভালোই ছিলাম।

রবার্ট : তাই নাকি?

ভবঘুরে : হ্যাঁ। সবকিছুই ছিল আমার। পর্যাপ্ত খাবার ছিল। ইস্ত্রি করা পরিষ্কার জামাকাপড় পরতাম।

রবার্ট : ও আচ্ছা। ভালোই ছিলেন তাহলে?

ভবঘুরে : তা ছিলাম। আমার থাকার জায়গা ছিল। টিভি ছিল। ইন্টারনেট ছিল। অনলাইনে কিছু কাজও করতাম।

‘বাহ, বেশ তো ছিলেন দেখছি!’ রবার্ট বলল।

‘শুধু তাই নয়।’ ভবঘুরে বলল, ‘আমি জিমে যেতাম। সাঁতার কাটতাম পুলে। পড়ার জন্য লাইব্রেরিও ছিল।’

‘বলেন কী!’ রবার্ট জানতে চাইল, ‘এসব ছিল আপনার?’

‘হ্যাঁ, ছিল। ফুলের বাগান ছিল। নিজে পরিচর্যা করতাম। আমার কোনো খরচ ছিল না। ছিল না কোনো ঋণ। চিকিৎসার জন্য কোনো চিন্তাও ছিল না।’

শুনে রবার্ট কৌতূহলী হলো। বলল, ‘এসব জিজ্ঞেস করার জন্য দুঃখিত। কিন্তু একটা বিষয় খুব জানতে ইচ্ছা করছে।’

ভবঘুরে : কী বিষয়?

রবার্ট : তাহলে আপনার এ জীর্ণদশা হলো কীভাবে? জুয়া খেলে? মাদক? নাকি বিয়ে বিচ্ছেদ?

ভবঘুরে : না, সেরকম কিছু নয়।

রবার্ট : তাহলে কি প্রতারণার শিকার হয়েছেন?

‘না না। ব্যাপারটা তাও নয়।’ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ভবঘুরে। তারপর বলল, ‘আসলে আমি ১০ বছর পর পনের দিন আগে জেল খেটে বেরিয়েছি। যা বললাম, তার সবই ছিল জেলখানায়!’

ভিনদেশি রসিকতা

একদিন পার্কে এক ভবঘুরে

 আশরাফুল আলম পিনটু 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন সকালে রবার্ট হাঁটছিল পার্কে। প্রায় প্রতিদিনই হাঁটে। এতে শরীরটা ঠিকঠাক থাকে সারা দিন। এছাড়া সকালের হওয়াটা বেশ লাগে। মনও ফুরফুরে হয়ে ওঠে।

হাঁটতে হাঁটতে রবার্ট দেখল, এক ভবঘুরে বসে আছে বেঞ্চের এক কোণে। মাঝ বয়সি মাঝারি গড়ন। মলিন পোশাক। মলিন চেহারা। উসকোখুসকো চুল। দেখে মনে হয়, অনাহারী। আহা, বেচারা!

খুব মায়া হলো রবার্টের। এগিয়ে গিয়ে বসল ভবঘুরের পাশে। লোকটা চোখ তুলে তাকাল তার দিকে।

রবার্ট কথা শুরু করল, ‘আপনাকে তো খুব কাহিল দেখাচ্ছে!’

‘হ্যাঁ, আমি কাহিলই। খুবই খারাপ অবস্থায় আছি।’

রবার্ট : কেন, কী হয়েছে আপনার?

ভবঘুরে : গত পনের দিন থেকে আমার এ দশা। এর আগে ভালোই ছিলাম।

রবার্ট : তাই নাকি?

ভবঘুরে : হ্যাঁ। সবকিছুই ছিল আমার। পর্যাপ্ত খাবার ছিল। ইস্ত্রি করা পরিষ্কার জামাকাপড় পরতাম।

রবার্ট : ও আচ্ছা। ভালোই ছিলেন তাহলে?

ভবঘুরে : তা ছিলাম। আমার থাকার জায়গা ছিল। টিভি ছিল। ইন্টারনেট ছিল। অনলাইনে কিছু কাজও করতাম।

‘বাহ, বেশ তো ছিলেন দেখছি!’ রবার্ট বলল।

‘শুধু তাই নয়।’ ভবঘুরে বলল, ‘আমি জিমে যেতাম। সাঁতার কাটতাম পুলে। পড়ার জন্য লাইব্রেরিও ছিল।’

‘বলেন কী!’ রবার্ট জানতে চাইল, ‘এসব ছিল আপনার?’

‘হ্যাঁ, ছিল। ফুলের বাগান ছিল। নিজে পরিচর্যা করতাম। আমার কোনো খরচ ছিল না। ছিল না কোনো ঋণ। চিকিৎসার জন্য কোনো চিন্তাও ছিল না।’

শুনে রবার্ট কৌতূহলী হলো। বলল, ‘এসব জিজ্ঞেস করার জন্য দুঃখিত। কিন্তু একটা বিষয় খুব জানতে ইচ্ছা করছে।’

ভবঘুরে : কী বিষয়?

রবার্ট : তাহলে আপনার এ জীর্ণদশা হলো কীভাবে? জুয়া খেলে? মাদক? নাকি বিয়ে বিচ্ছেদ?

ভবঘুরে : না, সেরকম কিছু নয়।

রবার্ট : তাহলে কি প্রতারণার শিকার হয়েছেন?

‘না না। ব্যাপারটা তাও নয়।’ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ভবঘুরে। তারপর বলল, ‘আসলে আমি ১০ বছর পর পনের দিন আগে জেল খেটে বেরিয়েছি। যা বললাম, তার সবই ছিল জেলখানায়!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন