টার্কি মোরগের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া
jugantor
ভিনদেশি রসিকতা
টার্কি মোরগের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া

  আশরাফুল আলম পিনটু  

০৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংরক্ষিত এক বন। বনের ছোট রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন পশুপাখি রক্ষক। টহল দিচ্ছিলেন তিনি। চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি। চোরা শিকারিরা খুব ঝামেলা করে। মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়ে জঙ্গলে। পশুপাখি শিকার করে। দুষ্পাপ্য পাখি ধরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে বন্য টার্কি মোরগ।

রক্ষক হঠাৎ দেখলেন, একটা ছেলে রাস্তা ধরে হেঁটে আসছে। সামনে-পেছনে তাকাচ্ছে। চোরের মতো ত্রস্ত ভঙ্গি। বগলের নিচে একটা টার্কি মোরগ। বিপন্ন প্রজাতির। ছেলেটা তার গাড়ি দেখে সেটা লুকানোর চেষ্টা করছে।

কাছে গিয়ে ছেলেটার সামনে গাড়ি থামালেন রক্ষক। গাড়ি থেকে নামলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই টার্কি তুমি কোথায় পেলে?’

ছেলেটা অবাক গলায় বলল, ‘কোন টার্কি, স্যার?’

রক্ষক বললেন, কোন টার্কি মানে! বগলের নিচে যেটা নিয়ে যাচ্ছ। আর লুকানোর চেষ্টা কর না।’

‘ও, এটার কথা বলছেন?’ এবার ছেলেটা টার্কি দেখিয়ে জানতে চাইল।

‘হ্যাঁ, ওটার কথাই বলছি। নিশ্চয় বন থেকে ধরেছ।’

ছেলেটা বলল, ‘না, স্যার। এটা আমি ধরিনি। নিজেই এখানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। দেখুন, কেমন ঘুমানোর চেষ্টা করছে!’

‘বাজে কথা ছাড়। দেখ ছেলে, এ বনে পশুপাখি শিকার করা নিষেধ। তারপরও তুমি টার্কিটা ধরেছ।’ বললেন রক্ষক, ‘এর শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে। তুমি ওটার যা অবস্থা করেছ, আমিও সেটাই করব তোমার।’

‘সেটা আবার কী রকম শাস্তি, স্যার?’

‘তুমি যদি ওটার পা ভেঙে থাক তাহলে আমি তোমার পা ভেঙে দেব। পাখা ভাঙলে তোমার হাত ভাঙব। তুমি যা যা করেছ, আমিও তা তা করব। এখন বল, কী করেছ ওটার?’

‘কিছুই করিনি, স্যার। তবে এখন করব।’

‘কী করবে?’ চোখ পাকিয়ে জানতে চাইলেন রক্ষক।

ছেলেটার জবাব, ‘প্রথমে টার্কিটার দুই পা ধরে ক্ষমা চাইব। তারপর ছেড়ে দেব ওকে!’

ভিনদেশি রসিকতা

টার্কি মোরগের পা ধরে ক্ষমা চাওয়া

 আশরাফুল আলম পিনটু 
০৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংরক্ষিত এক বন। বনের ছোট রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন পশুপাখি রক্ষক। টহল দিচ্ছিলেন তিনি। চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি। চোরা শিকারিরা খুব ঝামেলা করে। মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়ে জঙ্গলে। পশুপাখি শিকার করে। দুষ্পাপ্য পাখি ধরে নিয়ে যায়। বিশেষ করে বন্য টার্কি মোরগ।

রক্ষক হঠাৎ দেখলেন, একটা ছেলে রাস্তা ধরে হেঁটে আসছে। সামনে-পেছনে তাকাচ্ছে। চোরের মতো ত্রস্ত ভঙ্গি। বগলের নিচে একটা টার্কি মোরগ। বিপন্ন প্রজাতির। ছেলেটা তার গাড়ি দেখে সেটা লুকানোর চেষ্টা করছে।

কাছে গিয়ে ছেলেটার সামনে গাড়ি থামালেন রক্ষক। গাড়ি থেকে নামলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই টার্কি তুমি কোথায় পেলে?’

ছেলেটা অবাক গলায় বলল, ‘কোন টার্কি, স্যার?’

রক্ষক বললেন, কোন টার্কি মানে! বগলের নিচে যেটা নিয়ে যাচ্ছ। আর লুকানোর চেষ্টা কর না।’

‘ও, এটার কথা বলছেন?’ এবার ছেলেটা টার্কি দেখিয়ে জানতে চাইল।

‘হ্যাঁ, ওটার কথাই বলছি। নিশ্চয় বন থেকে ধরেছ।’

ছেলেটা বলল, ‘না, স্যার। এটা আমি ধরিনি। নিজেই এখানে এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। দেখুন, কেমন ঘুমানোর চেষ্টা করছে!’

‘বাজে কথা ছাড়। দেখ ছেলে, এ বনে পশুপাখি শিকার করা নিষেধ। তারপরও তুমি টার্কিটা ধরেছ।’ বললেন রক্ষক, ‘এর শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে। তুমি ওটার যা অবস্থা করেছ, আমিও সেটাই করব তোমার।’

‘সেটা আবার কী রকম শাস্তি, স্যার?’

‘তুমি যদি ওটার পা ভেঙে থাক তাহলে আমি তোমার পা ভেঙে দেব। পাখা ভাঙলে তোমার হাত ভাঙব। তুমি যা যা করেছ, আমিও তা তা করব। এখন বল, কী করেছ ওটার?’

‘কিছুই করিনি, স্যার। তবে এখন করব।’

‘কী করবে?’ চোখ পাকিয়ে জানতে চাইলেন রক্ষক।

ছেলেটার জবাব, ‘প্রথমে টার্কিটার দুই পা ধরে ক্ষমা চাইব। তারপর ছেড়ে দেব ওকে!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন