উল্টো কনের উল্টো বর
jugantor
রম্যগল্প
উল্টো কনের উল্টো বর

  শায়ের খান  

১০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয় টুশি,

তোর মেসেজ পেয়েছি। খালুর শরীরের কথায় দুশ্চিন্তায় আছি। ভ্যাক্সিন নিলেও ডেঙ্গির মেয়ে মশারা ভ্যাক্সিন মানে না। তার ওপর খালু হ্যান্ডসাম। পৃথিবীতে শুধু মেয়ে মশা মানুষকে কামড়ায়। বিষয়টি খালাকে বলিস। তাহলেই বাসার ১৪ মাইলের মধ্যে কোনো মশা ঢুকতে দিবে না।

জন্টির বিয়ের কার্ড পেয়েছি। জন্টি-তান্নার বিয়ে নিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু লিখতে বলেছিস। আজব, পরশু রাতেই এ নিয়ে মজার এক স্বপ্ন দেখেছি। দেখি ওদের বিয়ের পুরো প্যাটার্ন পাল্টে গেছে। দেখি এ এক সম্পূর্ণ উল্টা জগৎ। এখানে ছেলেরা মেয়ে, মেয়েরা ছেলেদের ঢঙে। বলছি।

প্রথম ধাক্কা খাই জন্টির গায়ে হলুদে। দেখি খালু না, খালা বাসার কর্তা। খালার কথায় বাড়ি চলে। দেখি খালা পুরুষ ড্রেসে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আর খালু ব্র্যান্ডেড সালোয়ার-কামিজ পরে। এতদিন পর একটা সুপাত্রীর হাতে আইবুড়া জন্টিকে গছাতে পেরে দুজন মহাখুশি। জন্টির হবু বউ তান্না নামকরা ব্যাঙ্কের এমডি। ওদিকে বেকার জন্টির বন্ধুরা ‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের গোড়া-বিয়ার সাজে সাজবে পুত্র খাটাশ জন্টি বুড়া’ গানে বাসার ছাদ মাতিয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাদে প্রোগ্রাম হচ্ছে। বন্ধুদের পরনে কী শুনবি? গুলশানের লিটন পরেছে ডিপ অরেঞ্জ থ্রি-পিস, মাদারটেকের বেলাইল্যার পরনে এক প্যাঁচের সুতি শাড়ি, লালমাটিয়ার নুইরা পরেছে লেহেঙ্গা। আর অন্যদিকে চলছে তান্নাদের ব্যাচেলর্স পার্টি। পার্টি শার্ট, টি-শার্ট, ফর্মাল জুতোয় সবাই ‘কাম অন বয় মুভ দ্যাট বডি, টুনাইট আই অ্যাম নটি নটি’ গানে ফ্লোর কাঁপাচ্ছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের চিত্র আরও ভয়াবহ। বরযাত্রা না, কনেযাত্রা হচ্ছে। তান্নার সাজানো মার্সিডিজ গাড়ির আগে পিছে বান্ধবীরা কনেযাত্রার বাইকের বহর নিয়ে রেডি। তান্নার পরনে শেরওয়ানি-পাগড়ি।

বিয়ের গেট আটকানো ছিল দেখার মতো। লিটন, বেলাইল্যা, নুইরাসহ বরের সব বন্ধুদের পেন্সিল হিলের শব্দ আর গাধার ডাকে তান্না ২ লাখ টাকা গেট মানি দিয়ে দেয়। রাজার ভঙ্গিমায় গিয়ে বর জন্টির পাশে বসে। জন্টি পরেছে জামদানির স্লিপিং গাউন টাইপ কিছু। উল্টা এই জগতে এটাই নিয়ম। মাথায় কপাল ঢাকা ক্যাপে পৌরুষ আর লজ্জা দুই-ই রক্ষা করেছে জন্টি। তান্না জন্টিকে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করছে, লজ্জা লাগছে কিনা। মাথা নেড়ে জন্টি হ্যাঁ বলে। তান্না ফিসফিসিয়ে জন্টিকে সাহস দিয়ে বলে, বাসায় গিয়ে লজ্জা ভাঙিয়ে দিবে। জন্টি লজ্জায় মাথা নিচু করে মোবাইলে ফেসবুকিং করতে থাকে।

তান্নার বান্ধবী কুকি বেলাইল্যার সঙ্গে টাংকি মারছিল। একা পেয়ে বেলাইল্যাকে এপ্রোচ করে বসে। প্রথমে ফেসবুক আইডি চায়। বেলাইল্যা ওর ফেসবুক আইডি দেয় না। কুকিকে বলে, সে অচেনা মেয়েদের অ্যাড করে না। কুকি বলে, সে তো এখন বেলাইল্যার বেয়াইন। লজ্জা কী? অনেক অনুনয় বিনয়ের পর ফোন নম্বর দেয় বেলাইল্যা।

পাত্র সমর্পণের সময় জন্টির কী কান্না! একবার খালার বুকে আরেকবার খালুর বুকে আছড়ে পড়ে। খালা-খালু, ফুফা-ফুফু, চাচা-চাচির সে কী কান্না! তান্না আর বান্ধবীরা সেলফি নিতে থাকে একের পর এক। খালা জন্টিকে তান্নার হাতে দিয়ে বলেন, ‘খুব যত্ন করে ছেলেটাকে বড় করেছি। একটু আদরে রেখ মা। লইট্যা শুঁটকি আর টম ইয়াম স্যুপ খুব পছন্দ ওর।’ হাত ছেড়ে কান্না লুকিয়ে সরে দাঁড়ান খালা।

প্রিয় টুশি,

আমি জানি তোর মনে প্রশ্ন জাগছে, তুই কী পরা ছিলি বা কী করছিলি? আমি জানি তুই অস্থির হয়ে উঠেছিস এটা জানার জন্য। কিন্তু আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না টুশি। তাহলে তুই আমাকে আস্ত রাখবি না। আমাকে আগামী অন্তত ২০টা বছর আস্ত থাকতে হবে। বেশ কয়েকটা কমেডি সিরিয়াল আর মুভি’র প্ল্যান করছি। ভালো থাকিস।

- তোর শায়ের ভাই

রম্যগল্প

উল্টো কনের উল্টো বর

 শায়ের খান 
১০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয় টুশি,

তোর মেসেজ পেয়েছি। খালুর শরীরের কথায় দুশ্চিন্তায় আছি। ভ্যাক্সিন নিলেও ডেঙ্গির মেয়ে মশারা ভ্যাক্সিন মানে না। তার ওপর খালু হ্যান্ডসাম। পৃথিবীতে শুধু মেয়ে মশা মানুষকে কামড়ায়। বিষয়টি খালাকে বলিস। তাহলেই বাসার ১৪ মাইলের মধ্যে কোনো মশা ঢুকতে দিবে না।

জন্টির বিয়ের কার্ড পেয়েছি। জন্টি-তান্নার বিয়ে নিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু লিখতে বলেছিস। আজব, পরশু রাতেই এ নিয়ে মজার এক স্বপ্ন দেখেছি। দেখি ওদের বিয়ের পুরো প্যাটার্ন পাল্টে গেছে। দেখি এ এক সম্পূর্ণ উল্টা জগৎ। এখানে ছেলেরা মেয়ে, মেয়েরা ছেলেদের ঢঙে। বলছি।

প্রথম ধাক্কা খাই জন্টির গায়ে হলুদে। দেখি খালু না, খালা বাসার কর্তা। খালার কথায় বাড়ি চলে। দেখি খালা পুরুষ ড্রেসে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আর খালু ব্র্যান্ডেড সালোয়ার-কামিজ পরে। এতদিন পর একটা সুপাত্রীর হাতে আইবুড়া জন্টিকে গছাতে পেরে দুজন মহাখুশি। জন্টির হবু বউ তান্না নামকরা ব্যাঙ্কের এমডি। ওদিকে বেকার জন্টির বন্ধুরা ‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের গোড়া-বিয়ার সাজে সাজবে পুত্র খাটাশ জন্টি বুড়া’ গানে বাসার ছাদ মাতিয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাদে প্রোগ্রাম হচ্ছে। বন্ধুদের পরনে কী শুনবি? গুলশানের লিটন পরেছে ডিপ অরেঞ্জ থ্রি-পিস, মাদারটেকের বেলাইল্যার পরনে এক প্যাঁচের সুতি শাড়ি, লালমাটিয়ার নুইরা পরেছে লেহেঙ্গা। আর অন্যদিকে চলছে তান্নাদের ব্যাচেলর্স পার্টি। পার্টি শার্ট, টি-শার্ট, ফর্মাল জুতোয় সবাই ‘কাম অন বয় মুভ দ্যাট বডি, টুনাইট আই অ্যাম নটি নটি’ গানে ফ্লোর কাঁপাচ্ছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের চিত্র আরও ভয়াবহ। বরযাত্রা না, কনেযাত্রা হচ্ছে। তান্নার সাজানো মার্সিডিজ গাড়ির আগে পিছে বান্ধবীরা কনেযাত্রার বাইকের বহর নিয়ে রেডি। তান্নার পরনে শেরওয়ানি-পাগড়ি।

বিয়ের গেট আটকানো ছিল দেখার মতো। লিটন, বেলাইল্যা, নুইরাসহ বরের সব বন্ধুদের পেন্সিল হিলের শব্দ আর গাধার ডাকে তান্না ২ লাখ টাকা গেট মানি দিয়ে দেয়। রাজার ভঙ্গিমায় গিয়ে বর জন্টির পাশে বসে। জন্টি পরেছে জামদানির স্লিপিং গাউন টাইপ কিছু। উল্টা এই জগতে এটাই নিয়ম। মাথায় কপাল ঢাকা ক্যাপে পৌরুষ আর লজ্জা দুই-ই রক্ষা করেছে জন্টি। তান্না জন্টিকে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করছে, লজ্জা লাগছে কিনা। মাথা নেড়ে জন্টি হ্যাঁ বলে। তান্না ফিসফিসিয়ে জন্টিকে সাহস দিয়ে বলে, বাসায় গিয়ে লজ্জা ভাঙিয়ে দিবে। জন্টি লজ্জায় মাথা নিচু করে মোবাইলে ফেসবুকিং করতে থাকে।

তান্নার বান্ধবী কুকি বেলাইল্যার সঙ্গে টাংকি মারছিল। একা পেয়ে বেলাইল্যাকে এপ্রোচ করে বসে। প্রথমে ফেসবুক আইডি চায়। বেলাইল্যা ওর ফেসবুক আইডি দেয় না। কুকিকে বলে, সে অচেনা মেয়েদের অ্যাড করে না। কুকি বলে, সে তো এখন বেলাইল্যার বেয়াইন। লজ্জা কী? অনেক অনুনয় বিনয়ের পর ফোন নম্বর দেয় বেলাইল্যা।

পাত্র সমর্পণের সময় জন্টির কী কান্না! একবার খালার বুকে আরেকবার খালুর বুকে আছড়ে পড়ে। খালা-খালু, ফুফা-ফুফু, চাচা-চাচির সে কী কান্না! তান্না আর বান্ধবীরা সেলফি নিতে থাকে একের পর এক। খালা জন্টিকে তান্নার হাতে দিয়ে বলেন, ‘খুব যত্ন করে ছেলেটাকে বড় করেছি। একটু আদরে রেখ মা। লইট্যা শুঁটকি আর টম ইয়াম স্যুপ খুব পছন্দ ওর।’ হাত ছেড়ে কান্না লুকিয়ে সরে দাঁড়ান খালা।

প্রিয় টুশি,

আমি জানি তোর মনে প্রশ্ন জাগছে, তুই কী পরা ছিলি বা কী করছিলি? আমি জানি তুই অস্থির হয়ে উঠেছিস এটা জানার জন্য। কিন্তু আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না টুশি। তাহলে তুই আমাকে আস্ত রাখবি না। আমাকে আগামী অন্তত ২০টা বছর আস্ত থাকতে হবে। বেশ কয়েকটা কমেডি সিরিয়াল আর মুভি’র প্ল্যান করছি। ভালো থাকিস।

- তোর শায়ের ভাই

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন