সম্রাটের যোগী তোতা
jugantor
চিরায়ত রস
সম্রাটের যোগী তোতা

  বিনোদন ডেস্ক  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন এক কৃষক এলেন সম্রাট আকবরের দরবারে। সঙ্গে একটি তোতা পাখি। সম্রাটকে কুর্নিশ করে তিনি বললেন, ‘মহামান্য সম্রাট, এই তোতাটি খুব সুন্দর করে কথা বলতে ও গান গাইতে পারে। আমি হুজুরের জন্য এটি উপহার হিসাবে এনেছি।’

খুশি হয়ে তাকে প্রচুর উপহার দিলেন সম্রাট। তোতাটিকে প্রাসাদের অন্দরে নিয়ে গেলেন। সম্রাটের নির্দেশে খাঁচায় রাখা হলো পাখিটিকে। দু’জন ভৃত্য নিযুক্ত হলো তোতা পাখির তত্ত্বাবধানে। সম্রাট হুকুম জারি করলেন, ‘তোতার খুব যত্ন করবে। এইটাই এখন তোমাদের একমাত্র কাজ। মনে রেখো, যে আমার কাছে তোতার মৃত্যু সংবাদ আনবে, তারই মৃত্যুদন্ড হবে।’

সম্রাটের আদেশ শুনে ভৃত্যদ্বয়ের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠল। তারা তোতা পাখিটিকে খুবই যত্নের সঙ্গে খাওয়াতে এবং যত্ন করতে শরু করল। মাঝে মধ্যে সম্রাটকে দেখিয়েও আনে। কিন্তু সব সময় একটা দুশ্চিন্তা কাজ করত তাদের মাথায়। যদি তোতা পাখিটা মারা যায়? তাহলে তো সর্বনাশ! এই ভেবে তাদের নাওয়া, খাওয়া, ঘুম সব হারাম হয়ে গেল!

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভৃত্যদ্বয় দেখল, তোতা পাখিটি সত্যিই মারা গেছে! এ তো মহা বিপদ! কী করা যায় ভাবতে ভাবতে এক ভৃত্যের মনে পড়ল বীরবলের কথা। সঙ্গে সঙ্গে দুই ভৃত্য ছুটে গেল বীরবলের কাছে। বীরবল সব শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে, যা করার আমি করব। কোনো ভয় নেই তোমাদের।’

এর কিছুক্ষণ পর দরবারে এসে হাজির হলেন বীরবল। সম্রাটকে বললেন, ‘জাঁহাপনা, আপনার জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে!’

‘কী দুঃসংবাদ?’

‘মানে, আপনার প্রিয় তোতা পাখিটা দানাপানি কিছু খাচ্ছে না। এমনি কি ডানা পর্যন্ত ঝাপটাচ্ছে না। চুপ করে চোখ বুজে শুয়ে শুয়ে ধ্যান করছে।’

‘বলো কী!’ কাতর কণ্ঠে বললেন সম্রাট।

‘হ্যাঁ জাঁহাপনা।’ বীরবল বললেন, ‘সম্ভবত ভগবানের কৃপায় তোতা পাখিটা যোগী হয়ে গেছে।’

সম্রাট দুঃখিত মনে বললেন, ‘কী আর করা! ওকে ছেড়ে দাও। বনে গিয়েই ধ্যান করুক।’

কিন্তু খাঁচা থেকে যখন তোতা পাখিটাকে বের করে আনা হলো, অমনি সম্রাট বুঝে ফেললেন বীরবল তাকে ঠিক কথা বলেননি। তিনি ভীষণ রেগে বললেন, ‘বীরবল, তুমি এত বড় মিথ্যা বললে? এমন তামাশা করতে পারলে আমার সঙ্গে? যোগী-টোগী কিছু না, তোতা তো মরে গেছে দেখছি!’

‘আপনি কিন্তু প্রথম তোতার মৃত্যু সংবাদটি নিজেকে জানালেন, সম্রাট।’ বললেন বীরবল।

‘তাতে কী! কী বলতে চাও তুমি?’ সম্রাট স্থম্ভিত।

‘জাঁহাপনা, আপনি বলেছিলেন আপনার কাছে যে প্রথম তোতা পাখির মৃত্যু সংবাদ আনবে, তারই মৃত্যুদন্ড হবে। আপনার ভৃত্যরা এই ভয়ে আপনাকে তোতার মৃত্যুর খবরটি দিতে পারছিল না। তারা আমার কাছে এলো সাহায্যের জন্য। তাই বাধ্য হয়েই এটুকু চালাকির আশ্রয় আমাকে নিতে হলো মহামান্য সম্রাট। এখন আশা করি আপনি আপনার কথায় অটল থাকবেন। এ দুই ভৃত্যের কেউ কিন্তু আপনার কাছে তোতার মৃত্যু সংবাদ আনেনি। আপনি নিজেই প্রথম তোতার মৃত্যু সংবাদ জানালেন।’

বিচক্ষণ সম্রাট বীরবলের এই বুদ্ধিমত্তায় বেশ খুশি হলেন এবং বললেন, ‘সত্যিই বীরবল, তোমার বুদ্ধির তুলনা হয় না। আমি নির্বোধের মত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর তুমি বুদ্ধি করে দু’জন মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছ। তোমার তুলনা কেবল তুমিই বীরবল।’

চিরায়ত রস

সম্রাটের যোগী তোতা

 বিনোদন ডেস্ক 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন এক কৃষক এলেন সম্রাট আকবরের দরবারে। সঙ্গে একটি তোতা পাখি। সম্রাটকে কুর্নিশ করে তিনি বললেন, ‘মহামান্য সম্রাট, এই তোতাটি খুব সুন্দর করে কথা বলতে ও গান গাইতে পারে। আমি হুজুরের জন্য এটি উপহার হিসাবে এনেছি।’

খুশি হয়ে তাকে প্রচুর উপহার দিলেন সম্রাট। তোতাটিকে প্রাসাদের অন্দরে নিয়ে গেলেন। সম্রাটের নির্দেশে খাঁচায় রাখা হলো পাখিটিকে। দু’জন ভৃত্য নিযুক্ত হলো তোতা পাখির তত্ত্বাবধানে। সম্রাট হুকুম জারি করলেন, ‘তোতার খুব যত্ন করবে। এইটাই এখন তোমাদের একমাত্র কাজ। মনে রেখো, যে আমার কাছে তোতার মৃত্যু সংবাদ আনবে, তারই মৃত্যুদন্ড হবে।’

সম্রাটের আদেশ শুনে ভৃত্যদ্বয়ের অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠল। তারা তোতা পাখিটিকে খুবই যত্নের সঙ্গে খাওয়াতে এবং যত্ন করতে শরু করল। মাঝে মধ্যে সম্রাটকে দেখিয়েও আনে। কিন্তু সব সময় একটা দুশ্চিন্তা কাজ করত তাদের মাথায়। যদি তোতা পাখিটা মারা যায়? তাহলে তো সর্বনাশ! এই ভেবে তাদের নাওয়া, খাওয়া, ঘুম সব হারাম হয়ে গেল!

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভৃত্যদ্বয় দেখল, তোতা পাখিটি সত্যিই মারা গেছে! এ তো মহা বিপদ! কী করা যায় ভাবতে ভাবতে এক ভৃত্যের মনে পড়ল বীরবলের কথা। সঙ্গে সঙ্গে দুই ভৃত্য ছুটে গেল বীরবলের কাছে। বীরবল সব শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে, যা করার আমি করব। কোনো ভয় নেই তোমাদের।’

এর কিছুক্ষণ পর দরবারে এসে হাজির হলেন বীরবল। সম্রাটকে বললেন, ‘জাঁহাপনা, আপনার জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে!’

‘কী দুঃসংবাদ?’

‘মানে, আপনার প্রিয় তোতা পাখিটা দানাপানি কিছু খাচ্ছে না। এমনি কি ডানা পর্যন্ত ঝাপটাচ্ছে না। চুপ করে চোখ বুজে শুয়ে শুয়ে ধ্যান করছে।’

‘বলো কী!’ কাতর কণ্ঠে বললেন সম্রাট।

‘হ্যাঁ জাঁহাপনা।’ বীরবল বললেন, ‘সম্ভবত ভগবানের কৃপায় তোতা পাখিটা যোগী হয়ে গেছে।’

সম্রাট দুঃখিত মনে বললেন, ‘কী আর করা! ওকে ছেড়ে দাও। বনে গিয়েই ধ্যান করুক।’

কিন্তু খাঁচা থেকে যখন তোতা পাখিটাকে বের করে আনা হলো, অমনি সম্রাট বুঝে ফেললেন বীরবল তাকে ঠিক কথা বলেননি। তিনি ভীষণ রেগে বললেন, ‘বীরবল, তুমি এত বড় মিথ্যা বললে? এমন তামাশা করতে পারলে আমার সঙ্গে? যোগী-টোগী কিছু না, তোতা তো মরে গেছে দেখছি!’

‘আপনি কিন্তু প্রথম তোতার মৃত্যু সংবাদটি নিজেকে জানালেন, সম্রাট।’ বললেন বীরবল।

‘তাতে কী! কী বলতে চাও তুমি?’ সম্রাট স্থম্ভিত।

‘জাঁহাপনা, আপনি বলেছিলেন আপনার কাছে যে প্রথম তোতা পাখির মৃত্যু সংবাদ আনবে, তারই মৃত্যুদন্ড হবে। আপনার ভৃত্যরা এই ভয়ে আপনাকে তোতার মৃত্যুর খবরটি দিতে পারছিল না। তারা আমার কাছে এলো সাহায্যের জন্য। তাই বাধ্য হয়েই এটুকু চালাকির আশ্রয় আমাকে নিতে হলো মহামান্য সম্রাট। এখন আশা করি আপনি আপনার কথায় অটল থাকবেন। এ দুই ভৃত্যের কেউ কিন্তু আপনার কাছে তোতার মৃত্যু সংবাদ আনেনি। আপনি নিজেই প্রথম তোতার মৃত্যু সংবাদ জানালেন।’

বিচক্ষণ সম্রাট বীরবলের এই বুদ্ধিমত্তায় বেশ খুশি হলেন এবং বললেন, ‘সত্যিই বীরবল, তোমার বুদ্ধির তুলনা হয় না। আমি নির্বোধের মত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর তুমি বুদ্ধি করে দু’জন মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছ। তোমার তুলনা কেবল তুমিই বীরবল।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন