যদি
jugantor
ছড়ার ঘা
যদি

  মোহাম্মদ কামরুজ্জামান  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দ জোরে হাঁচি দিলো পৌষ মাসের শীতে,

দিয়েই বলে, ‘হাঁচি এমন আর কে পারিস দিতে?’

সিনহা বলে, ‘এমন চ্যালেঞ্জ দিলি এত আগে?

ওই রকমের হাঁচি আমি কেবল মারি মাঘে।’

বলল ঘোষাল, ‘হাঁচি দেওয়া পানির মতো সিধা,

তাও দেব না- দিলে তোদের হবে অসুবিধা।’

‘ও বুঝেছি, পারবি না তুই,’ সৈয়দ বলে হেসে,

এর দিকে চায়, ওর দিকে চায়- চ্যালেঞ্জ নেবে কে সে।

‘হাঁচি আমার হয় না ভালো,’ বলল দেবব্রত,

দেখিয়ে দিতাম সবাইকে আজ কাশি যদি হোতো।’

‘আমারও ওই একই ব্যাপার,’ বলল সাহা-পালও,

হাঁচি দেওয়ার চেয়ে বরং হাই ছাড়া খুব ভালো।’

কুঁদে ওঠে রায়বাহাদুর, মির্জা ওঠে রেগে,

‘পৌষ মাসে হাঁচলে অত সর্দি যাবে লেগে।’

ভদ্র, গোমেজ, রোজারিও, সঙ্গে দেওয়ান বিজন,

বলল, ‘এখন হাঁচি কেন?- হেঁচকি তোলার সিজন।’

এমন সময় জিপ এলো এক পিপ পিপ পিপ করে,

মহল্লার ওই রাস্তা দিয়ে হাঁকিয়ে গেল জোরে।

পথের যত ধুলো ছিল উড়ল চতুর্পাশে,

আড্ডাবাজি ছুটিয়ে দিলো এমন পৌষ মাসে।

হা-হা-হা-হাচ্চু দিলো বাপের ব্যাটা চপল,

একে-একে খান দফাদার সবাই হলো সফল।

চারিদিকে শোনা গেল সবরকমের হাঁচি,

হাঁচির ভয়ে ভিড়ছে না কেউ কারোর কাছাকাছি।

হেঁচে হেঁচে যখন সবার দম বেরুবার পালা,

বুঝল যখন আসল এবং আদি হাঁচির জ্বালা,

থামল হাঁচি পথের অনেক ধুলোবালি শুঁকে,

সেইসঙ্গে ফের ফুটল কথা সবার মুখে মুখে-

‘হাঁচি দিতে পারতামই তো,’ বলল হেসে লোদি,

ওই রকমের একখানা জিপ থাকত আমার যদি।

ছড়ার ঘা

যদি

 মোহাম্মদ কামরুজ্জামান 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দ জোরে হাঁচি দিলো পৌষ মাসের শীতে,

দিয়েই বলে, ‘হাঁচি এমন আর কে পারিস দিতে?’

সিনহা বলে, ‘এমন চ্যালেঞ্জ দিলি এত আগে?

ওই রকমের হাঁচি আমি কেবল মারি মাঘে।’

বলল ঘোষাল, ‘হাঁচি দেওয়া পানির মতো সিধা,

তাও দেব না- দিলে তোদের হবে অসুবিধা।’

‘ও বুঝেছি, পারবি না তুই,’ সৈয়দ বলে হেসে,

এর দিকে চায়, ওর দিকে চায়- চ্যালেঞ্জ নেবে কে সে।

‘হাঁচি আমার হয় না ভালো,’ বলল দেবব্রত,

দেখিয়ে দিতাম সবাইকে আজ কাশি যদি হোতো।’

‘আমারও ওই একই ব্যাপার,’ বলল সাহা-পালও,

হাঁচি দেওয়ার চেয়ে বরং হাই ছাড়া খুব ভালো।’

কুঁদে ওঠে রায়বাহাদুর, মির্জা ওঠে রেগে,

‘পৌষ মাসে হাঁচলে অত সর্দি যাবে লেগে।’

ভদ্র, গোমেজ, রোজারিও, সঙ্গে দেওয়ান বিজন,

বলল, ‘এখন হাঁচি কেন?- হেঁচকি তোলার সিজন।’

এমন সময় জিপ এলো এক পিপ পিপ পিপ করে,

মহল্লার ওই রাস্তা দিয়ে হাঁকিয়ে গেল জোরে।

পথের যত ধুলো ছিল উড়ল চতুর্পাশে,

আড্ডাবাজি ছুটিয়ে দিলো এমন পৌষ মাসে।

হা-হা-হা-হাচ্চু দিলো বাপের ব্যাটা চপল,

একে-একে খান দফাদার সবাই হলো সফল।

চারিদিকে শোনা গেল সবরকমের হাঁচি,

হাঁচির ভয়ে ভিড়ছে না কেউ কারোর কাছাকাছি।

হেঁচে হেঁচে যখন সবার দম বেরুবার পালা,

বুঝল যখন আসল এবং আদি হাঁচির জ্বালা,

থামল হাঁচি পথের অনেক ধুলোবালি শুঁকে,

সেইসঙ্গে ফের ফুটল কথা সবার মুখে মুখে-

‘হাঁচি দিতে পারতামই তো,’ বলল হেসে লোদি,

ওই রকমের একখানা জিপ থাকত আমার যদি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন