আমি ঝগড়াটে নই
jugantor
রম্যগল্প
আমি ঝগড়াটে নই

  জান্নাতুল ইভা  

০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমি আসলে ঝগড়াঝাটি পছন্দ করি না। এটাই আমি ঝগড়ার ছলে ইফতিকে ঘণ্টাখানেক ধরে বোঝাচ্ছি। আমি তো আসলে ঝগড়া করি না, কিন্তু প্রত্যেকবারই ইফতি বলে, তোমার মতো ঝগড়াটে বউ আমি দুইটা দেখি নাই।

গতকাল রাতে ইফতিকে ডিম আনতে বলেছিলাম। সে আমার জন্য নিমগাছ নিয়ে এসেছে! ডিমকে নিম শুনবে এটা কোনো ভুল না? আর আমি দেড় ঘণ্টা ধরে সেটা নিয়ে চেঁচালেই তা ঝগড়া! অদ্ভুত তো!

সকাল সকাল এক কাপ গরম কফি হাতে ইফতির সামনে এসে বললাম, ‘কয়েক দিন বাপের বাড়ি গিয়ে একটু ঘুরে আসি। বুয়ার ছেলে মনাকে দিয়ে তোমার খাবার পাঠিয়ে দেবো।’

কথাটা শোনার পর পরই তার শরীরে জ্বর চলে এলো। ধপাস করে সোফায় বসে পড়ল সে। আমি তার কপালে হাত বুলিয়ে বললাম, ‘কই! শরীর তো ঠান্ডাই আছে। জ্বর কই থেকে আসল?’

ইফতি মলিন কণ্ঠে বলল, ‘এ জ্বর দেখতে পাওয়া যায় না। এ জ্বর হচ্ছে মনের জ্বর। যা কেবল তোমার বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনলেই হাই টেম্পারেচার হয়ে উঠে।’

অভিমানী স্বরে বললাম, ‘কেন! আমার মতো ঝগড়াটে বউ নাকি তুমি দুইটা দেখোনি, তাহলে এখন হঠাৎ এত দরদ উতলে উঠছে কোন?’

সে নিচু গলায় বলল, ‘আজ যেও না প্লিজ। কাল সকাল সকাল আমি তোমাকে নিজে গিয়ে দিয়ে আসব।’ বেচারা এমন করে বলাতে আমিও আর ওকে ছেড়ে যেতে পারলাম না।

পরদিন ইফতি আমাকে বলল, ‘চলো তোমাকে তোমার বাবার বাসায় দিয়ে আসি। তুমি তো জানো, কথা দিয়ে কথা খেলাপ করার মানুষ আমি নই। বলেছি যখন-তখন দিয়ে আসবোই তোমাকে।’

আমি মুচকি হেসে বললাম, ‘যাবো না। কাল এমনভাবে বললে তারপর থেকে আর তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।’

ইফতি একটা অট্টহাসি দিয়ে বলল, ‘আরে সেটা তো বলেছিলাম তোমাকে দিয়ে জমে থাকা ময়লা শার্ট-প্যান্ট ধোয়াবো বলে।’

আমি তুমুল বেগে ইফতির কাছে গিয়ে রাগি গলায় বললাম, ‘কী বললা তুমি! আরেক বার বলো।’

ইফতি আমতা আমতা করে বলল, ‘ইয়ে মানে অনেক শার্ট-প্যান্ট ময়লা হইছিল, এমন সময় তুমি বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বললা। তুমি চলে গেলে আমাকেই সব জামা-কাপড় ধুতে হতো। সেজন্য একদিন পর যেতে বলছিলাম। না মানে এটি নিয়ে এখন ঝগড়া শুরু কইরো না প্লিজ।’

প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বললাম, ‘আমি ঝগড়া করি? তোমাকে কতবার বলব আমি ঝগড়াঝাটি একদম পছন্দ করি না।’ টানা এক ঘণ্টা বিশ মিনিট ঝগড়া করে ইফতিকে বোঝালাম, আমি আসলে সত্যিই ঝগড়াঝাটি পছন্দ করি না। কিন্তু বুঝলাম না, ইফতি আমার কথাগুলো শুনে সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেল কেন! আমি ইফতিকে ধাক্কা দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে করতে বললাম, ‘এই শোনো, আমি তো আসলে ঝগড়া করা পছন্দ করি না। কী হলো তোমার!’

রম্যগল্প

আমি ঝগড়াটে নই

 জান্নাতুল ইভা 
০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমি আসলে ঝগড়াঝাটি পছন্দ করি না। এটাই আমি ঝগড়ার ছলে ইফতিকে ঘণ্টাখানেক ধরে বোঝাচ্ছি। আমি তো আসলে ঝগড়া করি না, কিন্তু প্রত্যেকবারই ইফতি বলে, তোমার মতো ঝগড়াটে বউ আমি দুইটা দেখি নাই।

গতকাল রাতে ইফতিকে ডিম আনতে বলেছিলাম। সে আমার জন্য নিমগাছ নিয়ে এসেছে! ডিমকে নিম শুনবে এটা কোনো ভুল না? আর আমি দেড় ঘণ্টা ধরে সেটা নিয়ে চেঁচালেই তা ঝগড়া! অদ্ভুত তো!

সকাল সকাল এক কাপ গরম কফি হাতে ইফতির সামনে এসে বললাম, ‘কয়েক দিন বাপের বাড়ি গিয়ে একটু ঘুরে আসি। বুয়ার ছেলে মনাকে দিয়ে তোমার খাবার পাঠিয়ে দেবো।’

কথাটা শোনার পর পরই তার শরীরে জ্বর চলে এলো। ধপাস করে সোফায় বসে পড়ল সে। আমি তার কপালে হাত বুলিয়ে বললাম, ‘কই! শরীর তো ঠান্ডাই আছে। জ্বর কই থেকে আসল?’

ইফতি মলিন কণ্ঠে বলল, ‘এ জ্বর দেখতে পাওয়া যায় না। এ জ্বর হচ্ছে মনের জ্বর। যা কেবল তোমার বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনলেই হাই টেম্পারেচার হয়ে উঠে।’

অভিমানী স্বরে বললাম, ‘কেন! আমার মতো ঝগড়াটে বউ নাকি তুমি দুইটা দেখোনি, তাহলে এখন হঠাৎ এত দরদ উতলে উঠছে কোন?’

সে নিচু গলায় বলল, ‘আজ যেও না প্লিজ। কাল সকাল সকাল আমি তোমাকে নিজে গিয়ে দিয়ে আসব।’ বেচারা এমন করে বলাতে আমিও আর ওকে ছেড়ে যেতে পারলাম না।

পরদিন ইফতি আমাকে বলল, ‘চলো তোমাকে তোমার বাবার বাসায় দিয়ে আসি। তুমি তো জানো, কথা দিয়ে কথা খেলাপ করার মানুষ আমি নই। বলেছি যখন-তখন দিয়ে আসবোই তোমাকে।’

আমি মুচকি হেসে বললাম, ‘যাবো না। কাল এমনভাবে বললে তারপর থেকে আর তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।’

ইফতি একটা অট্টহাসি দিয়ে বলল, ‘আরে সেটা তো বলেছিলাম তোমাকে দিয়ে জমে থাকা ময়লা শার্ট-প্যান্ট ধোয়াবো বলে।’

আমি তুমুল বেগে ইফতির কাছে গিয়ে রাগি গলায় বললাম, ‘কী বললা তুমি! আরেক বার বলো।’

ইফতি আমতা আমতা করে বলল, ‘ইয়ে মানে অনেক শার্ট-প্যান্ট ময়লা হইছিল, এমন সময় তুমি বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বললা। তুমি চলে গেলে আমাকেই সব জামা-কাপড় ধুতে হতো। সেজন্য একদিন পর যেতে বলছিলাম। না মানে এটি নিয়ে এখন ঝগড়া শুরু কইরো না প্লিজ।’

প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বললাম, ‘আমি ঝগড়া করি? তোমাকে কতবার বলব আমি ঝগড়াঝাটি একদম পছন্দ করি না।’ টানা এক ঘণ্টা বিশ মিনিট ঝগড়া করে ইফতিকে বোঝালাম, আমি আসলে সত্যিই ঝগড়াঝাটি পছন্দ করি না। কিন্তু বুঝলাম না, ইফতি আমার কথাগুলো শুনে সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেল কেন! আমি ইফতিকে ধাক্কা দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে করতে বললাম, ‘এই শোনো, আমি তো আসলে ঝগড়া করা পছন্দ করি না। কী হলো তোমার!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন