মোসাহেব নির্বাচন
jugantor
চিরায়ত রস
মোসাহেব নির্বাচন

  বিনোদন ডেস্ক  

০৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগেকার জমিদাররা মোসাহেব রাখতেন। এক জমিদার গোপালকে বললেন, ‘অনেকেই তো মোসাহেবগিরি করার জন্য আসছে, কে যে উপযুক্ত হবে বুঝতে পারছি না। তুমি আমার জন্য একজন যোগ্য মোসাহেব নির্বাচন করে দাও তো গোপাল।’

বিচক্ষণ গোপাল জমিদারকে বললেন, ‘ঠিক আছে, যারা মোসাহেবগিরি করতে এসেছে তাদের এক এক করে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, দেখি উপযুক্ত মোসাহেব নির্বাচন করে দিতে পারি কিনা।’

প্রথমেই যে এলো, গোপাল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওহে, তুমি মোসাহেবগিরি করতে পারবে তো?’

‘আজ্ঞে পারব।’

‘আমার তো মনে হয় তুমি পারবে না।’

‘নিয়োগ দিয়ে দেখুন না মশাই, ঠিকই পারব।’

শুনে গোপাল ওকে বেরিয়ে যেতে বললেন। গোপালের নির্দেশে এবার দ্বিতীয় ব্যক্তি ঘরে ঢুকল। গোপাল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হে, মোসাহেবগিরি করতে পারবে তো?’

‘কেন পারব না? আমার বাপ-দাদা সবাই যে মোসাহেব ছিলেন।’

‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সব কাজ করতে হবে, পারবে তো?’

‘পারব।’

‘আমার মনে হয় তুমি পারবে না।’

‘আপনি মনে হয় আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। কাজটা দিয়েই দেখুন না, পারি কি না।’

গোপাল দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও বিদায় করে দিলেন। তারপর ডাকলেন তৃতীয় ব্যক্তিকে। তৃতীয় ব্যক্তি ঘরে ঢোকার পর গাপাল তার কাছে জানতে চাইলেন, ‘তুমি জমিদারের মোসাহেব হতে পারবে তো?’

‘আপনার কী মনে হয়?’

‘মনে তো হয় তুমি পারবে।’

‘তাহলে মনে হয় পারব হুজুর।’

‘নাহ, কাজটা কঠিন আছে, মনে হয় পারবে না।’

‘আমারও ঠিক আপনার মতোই মনে হচ্ছে। পারব বলে মনে হচ্ছে না।’

‘আবার পারতেও তো পারো, নাকি?’

‘ঠিকই বলেছেন, পৃথিবীতে কত অসাধ্যই তো সাধন হয়। পারতেও তো পারি।’

‘সূর্য যে পূর্ব দিকে অস্ত যায়, এটা মানো তো?’

‘মানি মানে, একশ বার মানি!’

এ পর্যন্ত শুনে গোপাল তৃতীয় ব্যক্তিকেই মোসাহেব নির্বাচন করলেন। গোপালের পাশে বসে মোসাহেব নির্বাচন প্রক্রিয়া দেখছিলেন জমিদার। উপযুক্ত মোসাহেব পেয়ে গোপালের বুদ্ধির তারিফ না করে পারলেন না তিনি।

চিরায়ত রস

মোসাহেব নির্বাচন

 বিনোদন ডেস্ক 
০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগেকার জমিদাররা মোসাহেব রাখতেন। এক জমিদার গোপালকে বললেন, ‘অনেকেই তো মোসাহেবগিরি করার জন্য আসছে, কে যে উপযুক্ত হবে বুঝতে পারছি না। তুমি আমার জন্য একজন যোগ্য মোসাহেব নির্বাচন করে দাও তো গোপাল।’

বিচক্ষণ গোপাল জমিদারকে বললেন, ‘ঠিক আছে, যারা মোসাহেবগিরি করতে এসেছে তাদের এক এক করে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন, দেখি উপযুক্ত মোসাহেব নির্বাচন করে দিতে পারি কিনা।’

প্রথমেই যে এলো, গোপাল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ওহে, তুমি মোসাহেবগিরি করতে পারবে তো?’

‘আজ্ঞে পারব।’

‘আমার তো মনে হয় তুমি পারবে না।’

‘নিয়োগ দিয়ে দেখুন না মশাই, ঠিকই পারব।’

শুনে গোপাল ওকে বেরিয়ে যেতে বললেন। গোপালের নির্দেশে এবার দ্বিতীয় ব্যক্তি ঘরে ঢুকল। গোপাল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হে, মোসাহেবগিরি করতে পারবে তো?’

‘কেন পারব না? আমার বাপ-দাদা সবাই যে মোসাহেব ছিলেন।’

‘জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত সব কাজ করতে হবে, পারবে তো?’

‘পারব।’

‘আমার মনে হয় তুমি পারবে না।’

‘আপনি মনে হয় আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। কাজটা দিয়েই দেখুন না, পারি কি না।’

গোপাল দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও বিদায় করে দিলেন। তারপর ডাকলেন তৃতীয় ব্যক্তিকে। তৃতীয় ব্যক্তি ঘরে ঢোকার পর গাপাল তার কাছে জানতে চাইলেন, ‘তুমি জমিদারের মোসাহেব হতে পারবে তো?’

‘আপনার কী মনে হয়?’

‘মনে তো হয় তুমি পারবে।’

‘তাহলে মনে হয় পারব হুজুর।’

‘নাহ, কাজটা কঠিন আছে, মনে হয় পারবে না।’

‘আমারও ঠিক আপনার মতোই মনে হচ্ছে। পারব বলে মনে হচ্ছে না।’

‘আবার পারতেও তো পারো, নাকি?’

‘ঠিকই বলেছেন, পৃথিবীতে কত অসাধ্যই তো সাধন হয়। পারতেও তো পারি।’

‘সূর্য যে পূর্ব দিকে অস্ত যায়, এটা মানো তো?’

‘মানি মানে, একশ বার মানি!’

এ পর্যন্ত শুনে গোপাল তৃতীয় ব্যক্তিকেই মোসাহেব নির্বাচন করলেন। গোপালের পাশে বসে মোসাহেব নির্বাচন প্রক্রিয়া দেখছিলেন জমিদার। উপযুক্ত মোসাহেব পেয়ে গোপালের বুদ্ধির তারিফ না করে পারলেন না তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন