এ সুখের নেই কোনো সীমানা
jugantor
পাঠক বাড়ি রসের হাঁড়ি
এ সুখের নেই কোনো সীমানা

  ওমর ফারুক  

১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক.

সকালে বউকে নিয়ে বের হয়েছি। ব্যাংকে জরুরি কাজ। বউ খুশি, আমিও খুশি। অনেকদিন পর এক সঙ্গে দু’জন রিকশায় চড়ে কোথাও যাচ্ছি। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে...!

রিকশায় উঠেই বউ আবহাওয়া অফিসের মতো আচরণ শুরু করল। আবহাওয়া অফিস যেমন ঝড়-বৃষ্টির আগে পূর্বাভাস দেয়, সতর্কবাণী দেয়-বউও সতর্ক বাণী দিল। বলল, ‘শোনো ফারুক, যে ব্যাংকে যাচ্ছো ওই ব্যাংকের প্রতিটা স্টাফ কিন্তু আমার পরিচিত। আমাকে খুব ভালোভাবে চেনে। ওই ব্যাংকের অডিট কিন্তু আমিই করি। সো নো বদমাইশি! কোনো অশালীন আচরণ করবা না। আর যদি কোনো অঘটন করে ধরা খাও তাহলে আমি কিন্তু তোমার পরিচয় দিব না, এই বলে দিলাম!’

‘আরে জান, আমার ওপর ভরসা রাখো। কোনো অঘটন ঘটবে না। এ ব্যাংকে কোনো সুন্দরী মেয়ে নাই।’

রিকশা চলছে, থামছে। অন্য সময় জ্যামে বসে বিরক্ত হই। কিন্তু আজ কোনো বিরক্তি আসছে না। মনে হচ্ছে আমরা দু’জন আলাদিনের চাদরে করে ভেসে ভেসে কারওয়ান বাজারের নির্দিষ্ট সেই ব্যাংকে যাচ্ছি। আমি বউকে জড়িয়ে ধরে গান শুরু করলাম-এ সুখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...!

হঠাৎ বউ ধমক দিয়ে কলল, ‘এমন উলটা পালটা গান আমার সামনে গাইবা না।’

‘কী উলটা পালটা গান গাইলাম, জান।’

‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’

‘কেন, কারওয়ান বাজার!’

‘তো কাওরান বাজার গেলেই তো তুমি তোমার পথে আমি আমার পথে। এ সুখের সীমানাতো কারওয়ান বাজার পর্যন্ত! আর তুমি গাইতেছ-এ সুখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...! যত্তোসব ফালতু কথা!’

দুই.

রিকশা কারওয়ান বাজার চলে এসেছে। আমরা ব্যাংকে ঢুকলাম। আমি একটা ফর্ম পূরণ করলাম, জমা দিলাম। উদ্দেশ্য সফল। বউকে বললাম, ‘চলো যাই।’ বউ বলল, ‘চলো।’ কিন্তু তার চেহারা দেখে মনে হলো তার ভেতর হতাশার ছাপ। আমি তার চেহারায় একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখতে পেলাম। ব্যাংক থেকে বের হয়ে বউ দুইশত টাকার একটা কচকচে নোট বের করে বলল, ‘এটা রাখো।’

‘নাহ, টাকা লাগবে না। আছে তো ভাড়া।’

‘ভাড়ার জন্য দিই নাই। আগে টাকাটা ধরো, তারপর বলছি।’

আমি টাকা নিলাম। তারপর বললাম, ‘কী করব এ টাকা দিয়ে?’

‘কারওয়ান বাজারের ভেতরে ঢুকবা। যেখানে থালা-বাটি বিক্রি করে ওই মার্কেটে।’

‘তারপর?’

‘একটা থালা কিনবা।’

‘থালা দিয়ে কী করব?’

বউ কিছুক্ষণ দেখল আমাকে। তারপর বলল, ‘তোমার ব্যাংক স্টেটমেন্টের যে অবস্থা দেখলাম, তোমর উচিত একটা থালা কিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসে পড়া। ভালো ইনকাম হবে। এবার বুঝেছ?’

‘কী বলো এসব?’

‘হুম ঠিকই বলি, তোমার যে চেহারা সুরত! থালা নিয়ে বসলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভালোই ভারী হবে।’

আমি গান শুরু করলাম আবার-এ দুঃখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...ও!

পাঠক বাড়ি রসের হাঁড়ি

এ সুখের নেই কোনো সীমানা

 ওমর ফারুক 
১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক.

সকালে বউকে নিয়ে বের হয়েছি। ব্যাংকে জরুরি কাজ। বউ খুশি, আমিও খুশি। অনেকদিন পর এক সঙ্গে দু’জন রিকশায় চড়ে কোথাও যাচ্ছি। আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে...!

রিকশায় উঠেই বউ আবহাওয়া অফিসের মতো আচরণ শুরু করল। আবহাওয়া অফিস যেমন ঝড়-বৃষ্টির আগে পূর্বাভাস দেয়, সতর্কবাণী দেয়-বউও সতর্ক বাণী দিল। বলল, ‘শোনো ফারুক, যে ব্যাংকে যাচ্ছো ওই ব্যাংকের প্রতিটা স্টাফ কিন্তু আমার পরিচিত। আমাকে খুব ভালোভাবে চেনে। ওই ব্যাংকের অডিট কিন্তু আমিই করি। সো নো বদমাইশি! কোনো অশালীন আচরণ করবা না। আর যদি কোনো অঘটন করে ধরা খাও তাহলে আমি কিন্তু তোমার পরিচয় দিব না, এই বলে দিলাম!’

‘আরে জান, আমার ওপর ভরসা রাখো। কোনো অঘটন ঘটবে না। এ ব্যাংকে কোনো সুন্দরী মেয়ে নাই।’

রিকশা চলছে, থামছে। অন্য সময় জ্যামে বসে বিরক্ত হই। কিন্তু আজ কোনো বিরক্তি আসছে না। মনে হচ্ছে আমরা দু’জন আলাদিনের চাদরে করে ভেসে ভেসে কারওয়ান বাজারের নির্দিষ্ট সেই ব্যাংকে যাচ্ছি। আমি বউকে জড়িয়ে ধরে গান শুরু করলাম-এ সুখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...!

হঠাৎ বউ ধমক দিয়ে কলল, ‘এমন উলটা পালটা গান আমার সামনে গাইবা না।’

‘কী উলটা পালটা গান গাইলাম, জান।’

‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’

‘কেন, কারওয়ান বাজার!’

‘তো কাওরান বাজার গেলেই তো তুমি তোমার পথে আমি আমার পথে। এ সুখের সীমানাতো কারওয়ান বাজার পর্যন্ত! আর তুমি গাইতেছ-এ সুখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...! যত্তোসব ফালতু কথা!’

দুই.

রিকশা কারওয়ান বাজার চলে এসেছে। আমরা ব্যাংকে ঢুকলাম। আমি একটা ফর্ম পূরণ করলাম, জমা দিলাম। উদ্দেশ্য সফল। বউকে বললাম, ‘চলো যাই।’ বউ বলল, ‘চলো।’ কিন্তু তার চেহারা দেখে মনে হলো তার ভেতর হতাশার ছাপ। আমি তার চেহারায় একাধিক প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখতে পেলাম। ব্যাংক থেকে বের হয়ে বউ দুইশত টাকার একটা কচকচে নোট বের করে বলল, ‘এটা রাখো।’

‘নাহ, টাকা লাগবে না। আছে তো ভাড়া।’

‘ভাড়ার জন্য দিই নাই। আগে টাকাটা ধরো, তারপর বলছি।’

আমি টাকা নিলাম। তারপর বললাম, ‘কী করব এ টাকা দিয়ে?’

‘কারওয়ান বাজারের ভেতরে ঢুকবা। যেখানে থালা-বাটি বিক্রি করে ওই মার্কেটে।’

‘তারপর?’

‘একটা থালা কিনবা।’

‘থালা দিয়ে কী করব?’

বউ কিছুক্ষণ দেখল আমাকে। তারপর বলল, ‘তোমার ব্যাংক স্টেটমেন্টের যে অবস্থা দেখলাম, তোমর উচিত একটা থালা কিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসে পড়া। ভালো ইনকাম হবে। এবার বুঝেছ?’

‘কী বলো এসব?’

‘হুম ঠিকই বলি, তোমার যে চেহারা সুরত! থালা নিয়ে বসলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভালোই ভারী হবে।’

আমি গান শুরু করলাম আবার-এ দুঃখের নেই কোনো সীমানা ও...ও...ও...ও!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন