সর্বভূতে দয়া করো
jugantor
মাফ করবেন
সর্বভূতে দয়া করো

  আশরাফুল আলম পিনটু  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এখন আর আমরা কেউ ভূত বিশ্বাস করি না। না করলেও ভূতের গল্প বলি। শুনতেও ভালোবাসি। ছোটবেলায় কত রকমের ভূতের গল্প শুনেছি আর ভয়ে শিউরে উঠেছি। গেছোভূত, মেছোভূত, কন্দকাটা ভূত, রক্তখেকো ভূত, সিন্দাবাদের ভূত-সবই ছিল ভয়ংকর ধরনের ভূত। সেসব ভূত এখন আর নেই। এখন ভূতের কাহিনি লেখকরা বিষয়টাকে হালকা করে ফেলেছেন। ভূত নিয়ে ভয়ের নয়, হাসির গল্প লেখা হয় এখন। গল্পের ভূতেরা এখন বোকাটে আর ভীষণ ভীতু। আজকাল ছোট ছেলেমেয়েরা ভূতের গল্প শুনলেও শেষে বলে-ইহ, ভূত বলে কিছু নেই।

আমার ভূতের ভয় ছিল ভীষণ। ছেলেবেলায় কী যেন এক অনুষ্ঠান হচ্ছিল বাড়িতে। একজন পাকা চুলের লোক এসেছিলেন। ছিপছিপে লম্বা। ধবধবে ফরশা। পোশাক আর আচরণেও কেতাদুরস্ত। বাবা সবার সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে একটি কথা বারবার উল্লেখ করছিলেন, ‘উনি ভূতপূর্ব প্রিন্সিপাল’। কলেজের নামও বলেছিলেন। আমার তা মনে নেই। আর থাকবেই বা কী করে? মাথায় তো ঘুরছিল ‘ভূতপূর্ব’-এর ভূত। বুড়ো মানুষটা আমাকে কত ডাকলেন, বাবাও সাধ্যসাধনা কম করলেন না। কিন্তু আমি কী আর কাছে ঘেঁষি! অনুষ্ঠান শেষে তিনি চলে গেলে বাবা আমাকে বললেন, তিনি তোমাকে কাছে ডাকলেন, গেলে না কেন? কত বড় মাপের মানুষ জানো?

আমার জানাজানির দরকার নেই। যা জানার ছিল তা জানতে বললাম, বাবা, তিনি কি সত্যি আগে ভূত ছিলেন, এখন মানুষ হয়েছেন?

বাবা তো অবাক, ভূত ছিলেন কে বলল?

‘কেন, তুমিই তো বললে উনি ভূতপূর্ব প্রিন্সিপাল! আমার কথা শুনে বাবা সেদিন খুব হেসেছিলেন। হা হা হা।

ভূত শুধু গল্পেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন কথা কিংবা কাজেও মিলেমিশে আছে। চারপাশে ভূতের ভোজবাজি চলছে অহরহ। ভূত আর ভূত। চাঁদাবাজ ভূত। সন্ত্রাসী ভূত। ঘুসখেকো ভূত। দুর্নীতির ভূত। মজুতদার ভূত। তাদের ভৌতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের ভূত-ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তবে আমরা কেউ ভূতের বেগার খাটতে চাই না। অবাঞ্ছিত আত্মীয়স্বজনকে অভিহিত করি পাঁচভূত আর বারোভূত নামে। দুর্বুদ্ধির ভূত চাপে কারও কারও ঘাড়ে। কেউ আবার ভূত দিয়েই ভূত ছাড়াতে চেষ্টা করেন। কাজে কেউ অবাধ্য হলে বা উলটাপালটা করলে বলি ভূতে ধরেছে। মেরে ভূত ছোটানোর হুমকিতেও যখন কাজ হয় না তখন মেরে ভূত বানানো ছাড়া উপায় কী! সুখে থাকতে অনেককে ভূতে কিলায়। ভূত ছাড়াতে গুনিনরা সর্ষে পড়া ব্যবহার করেন। কিন্তু সর্ষেতেও নাকি ভূত থাকে! তাহলে কী উপায়?

কী আর করা! মনীষীর সেই অমর বাণীটিই আমাদের সান্ত্বনা- সর্বভূতে দয়া করো।

মাফ করবেন

সর্বভূতে দয়া করো

 আশরাফুল আলম পিনটু 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এখন আর আমরা কেউ ভূত বিশ্বাস করি না। না করলেও ভূতের গল্প বলি। শুনতেও ভালোবাসি। ছোটবেলায় কত রকমের ভূতের গল্প শুনেছি আর ভয়ে শিউরে উঠেছি। গেছোভূত, মেছোভূত, কন্দকাটা ভূত, রক্তখেকো ভূত, সিন্দাবাদের ভূত-সবই ছিল ভয়ংকর ধরনের ভূত। সেসব ভূত এখন আর নেই। এখন ভূতের কাহিনি লেখকরা বিষয়টাকে হালকা করে ফেলেছেন। ভূত নিয়ে ভয়ের নয়, হাসির গল্প লেখা হয় এখন। গল্পের ভূতেরা এখন বোকাটে আর ভীষণ ভীতু। আজকাল ছোট ছেলেমেয়েরা ভূতের গল্প শুনলেও শেষে বলে-ইহ, ভূত বলে কিছু নেই।

আমার ভূতের ভয় ছিল ভীষণ। ছেলেবেলায় কী যেন এক অনুষ্ঠান হচ্ছিল বাড়িতে। একজন পাকা চুলের লোক এসেছিলেন। ছিপছিপে লম্বা। ধবধবে ফরশা। পোশাক আর আচরণেও কেতাদুরস্ত। বাবা সবার সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে একটি কথা বারবার উল্লেখ করছিলেন, ‘উনি ভূতপূর্ব প্রিন্সিপাল’। কলেজের নামও বলেছিলেন। আমার তা মনে নেই। আর থাকবেই বা কী করে? মাথায় তো ঘুরছিল ‘ভূতপূর্ব’-এর ভূত। বুড়ো মানুষটা আমাকে কত ডাকলেন, বাবাও সাধ্যসাধনা কম করলেন না। কিন্তু আমি কী আর কাছে ঘেঁষি! অনুষ্ঠান শেষে তিনি চলে গেলে বাবা আমাকে বললেন, তিনি তোমাকে কাছে ডাকলেন, গেলে না কেন? কত বড় মাপের মানুষ জানো?

আমার জানাজানির দরকার নেই। যা জানার ছিল তা জানতে বললাম, বাবা, তিনি কি সত্যি আগে ভূত ছিলেন, এখন মানুষ হয়েছেন?

বাবা তো অবাক, ভূত ছিলেন কে বলল?

‘কেন, তুমিই তো বললে উনি ভূতপূর্ব প্রিন্সিপাল! আমার কথা শুনে বাবা সেদিন খুব হেসেছিলেন। হা হা হা।

ভূত শুধু গল্পেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন কথা কিংবা কাজেও মিলেমিশে আছে। চারপাশে ভূতের ভোজবাজি চলছে অহরহ। ভূত আর ভূত। চাঁদাবাজ ভূত। সন্ত্রাসী ভূত। ঘুসখেকো ভূত। দুর্নীতির ভূত। মজুতদার ভূত। তাদের ভৌতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের ভূত-ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তবে আমরা কেউ ভূতের বেগার খাটতে চাই না। অবাঞ্ছিত আত্মীয়স্বজনকে অভিহিত করি পাঁচভূত আর বারোভূত নামে। দুর্বুদ্ধির ভূত চাপে কারও কারও ঘাড়ে। কেউ আবার ভূত দিয়েই ভূত ছাড়াতে চেষ্টা করেন। কাজে কেউ অবাধ্য হলে বা উলটাপালটা করলে বলি ভূতে ধরেছে। মেরে ভূত ছোটানোর হুমকিতেও যখন কাজ হয় না তখন মেরে ভূত বানানো ছাড়া উপায় কী! সুখে থাকতে অনেককে ভূতে কিলায়। ভূত ছাড়াতে গুনিনরা সর্ষে পড়া ব্যবহার করেন। কিন্তু সর্ষেতেও নাকি ভূত থাকে! তাহলে কী উপায়?

কী আর করা! মনীষীর সেই অমর বাণীটিই আমাদের সান্ত্বনা- সর্বভূতে দয়া করো।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন