ধোঁকা
jugantor
ধোঁকা

  জান্নাতুল ইভা  

২৪ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টিউশনে যাওয়ার জন্য রেডি হবো এমন সময় আন্টি কল দিয়ে বললেন, ‘আজকে একটু তাড়াতাড়ি এসো, সবাই মিলে শপিংয়ে যাবো। তুমি না আসা পর্যন্ত কীভাবে যাই বলো। তুমি তো আমার ঘরের মেয়ের মতোই।’

শপিংয়ের কথা শুনলেই মনটা একদম ফুরফুরে হয়ে যায়। আন্টির কথা শুনে মনের মধ্যে লাড্ডু ফুটে উঠলো। আমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবে। রাস্তায় যেতে যেতে ভাবছি কী রকমের মধ্যে ড্রেস নিলে ভালো হবে। বেশ কনফিউশনে পড়ে গেলাম।

আন্টি হঠাৎ ভালো হয়ে গেলো কীভাবে! মাস ফুরিয়ে আরেক মাসের অর্ধেক না যেতে যিনি বেতন দেন না, যার কাছ থেকে কোনো ঈদেই বোনাস পাইনি-সে নাকি আমায় নিয়ে শপিংয়ে যাবে! যাই হোক আন্টি তো নিজেই বললেন আমাকে যেতে। মনে হচ্ছে এবার আয়ান পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে বলে হয়তো আন্টি আমাকে যোগ্য টিচার হিসাবে গিফট দিতে চাইছে।

বাহ! এবারের ঈদে তাহলে বোনাস হিসাবে আন্টি শপিং করে দেবে। দেরি করে বেতন দিত বলে আন্টিকে মনে মনে এতদিন কত কী না বলেছি। ছিঃ ছিঃ আমার একদমই ঠিক হয়নি।

ভাবতে ভাবতে দেখি আন্টি আবার কল দিয়েছেন।

‘কোথায় তুমি!’

‘এইতো কাছেই আন্টি, আর দুই মিনিট লাগবে।’

ফোন কেটে ভাবছি কী কিনব এবার! শাড়ি নিলে কেমন হয়! একটা গ্রিন কালারের মধ্যে শাড়িই নিই তাহলে। ভাবতে ভাবতে স্টুডেন্টের বাসায় চলে এলাম। আন্টি ঘরের চাবিটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘একটু শপিংয়ে যাবো ওদের নিয়ে। বাসা একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আজকাল তো চোর-ডাকাতের অভাব নেই। খালি বাসা রেখে যেতে কেমন যেন ভয় লাগছিলো। তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভরসা করতে পারি না। তুমি তো আমাদের ঘরের মেয়েই হয়ে গেছো এতদিনে। আমরা আসা পর্যন্ত একটু বাসায় থেকো। ভালো না লাগলে বসে বসে টিভি দেখো কেমন!’

আন্টি আমার হাতে চাবির ছড়াটা ধরিয়ে দিয়ে শপিংয়ে চলে গেলেন। আর আমি চুপচাপ ধপাস করে সোফায় বসে পড়লাম।

ধোঁকা

 জান্নাতুল ইভা 
২৪ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টিউশনে যাওয়ার জন্য রেডি হবো এমন সময় আন্টি কল দিয়ে বললেন, ‘আজকে একটু তাড়াতাড়ি এসো, সবাই মিলে শপিংয়ে যাবো। তুমি না আসা পর্যন্ত কীভাবে যাই বলো। তুমি তো আমার ঘরের মেয়ের মতোই।’

শপিংয়ের কথা শুনলেই মনটা একদম ফুরফুরে হয়ে যায়। আন্টির কথা শুনে মনের মধ্যে লাড্ডু ফুটে উঠলো। আমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবে। রাস্তায় যেতে যেতে ভাবছি কী রকমের মধ্যে ড্রেস নিলে ভালো হবে। বেশ কনফিউশনে পড়ে গেলাম।

আন্টি হঠাৎ ভালো হয়ে গেলো কীভাবে! মাস ফুরিয়ে আরেক মাসের অর্ধেক না যেতে যিনি বেতন দেন না, যার কাছ থেকে কোনো ঈদেই বোনাস পাইনি-সে নাকি আমায় নিয়ে শপিংয়ে যাবে! যাই হোক আন্টি তো নিজেই বললেন আমাকে যেতে। মনে হচ্ছে এবার আয়ান পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে বলে হয়তো আন্টি আমাকে যোগ্য টিচার হিসাবে গিফট দিতে চাইছে।

বাহ! এবারের ঈদে তাহলে বোনাস হিসাবে আন্টি শপিং করে দেবে। দেরি করে বেতন দিত বলে আন্টিকে মনে মনে এতদিন কত কী না বলেছি। ছিঃ ছিঃ আমার একদমই ঠিক হয়নি।

ভাবতে ভাবতে দেখি আন্টি আবার কল দিয়েছেন।

‘কোথায় তুমি!’

‘এইতো কাছেই আন্টি, আর দুই মিনিট লাগবে।’

ফোন কেটে ভাবছি কী কিনব এবার! শাড়ি নিলে কেমন হয়! একটা গ্রিন কালারের মধ্যে শাড়িই নিই তাহলে। ভাবতে ভাবতে স্টুডেন্টের বাসায় চলে এলাম। আন্টি ঘরের চাবিটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘একটু শপিংয়ে যাবো ওদের নিয়ে। বাসা একদম ফাঁকা হয়ে যাবে। আজকাল তো চোর-ডাকাতের অভাব নেই। খালি বাসা রেখে যেতে কেমন যেন ভয় লাগছিলো। তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভরসা করতে পারি না। তুমি তো আমাদের ঘরের মেয়েই হয়ে গেছো এতদিনে। আমরা আসা পর্যন্ত একটু বাসায় থেকো। ভালো না লাগলে বসে বসে টিভি দেখো কেমন!’

আন্টি আমার হাতে চাবির ছড়াটা ধরিয়ে দিয়ে শপিংয়ে চলে গেলেন। আর আমি চুপচাপ ধপাস করে সোফায় বসে পড়লাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন