ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফ্যাক্টস

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের সমন্বয় সাধনের উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হয় ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ, সংক্ষেপে সিআর। অনেকে এদের ‘অবৈতনিক কামলা’ও বলে থাকেন। মশারির ফাঁক গলে মশা প্রবেশ করলে একজন ব্যক্তি ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে যতটা অসহায় বোধ করেন, এরা তাদের চেয়েও অনেক বেশি অসহায়। তবে এই অসহায়ত্ব ও কঠোর পরিশ্রমের মাঝেও ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভদের রয়েছে বিশেষ কিছু গুণাবলী। ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভদের সেসব গুণাবলী ও দক্ষতা সম্পর্কে জানাচ্ছেন মেহেদী হাসান গালিব

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

* সিআরদের প্রায়শই স্যারদের বিভিন্ন নোট, বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ, অফিসের বিভিন্ন নোটিশের ছবি তুলে তা ক্লাসের সবাইকে ফেসবুক কিংবা হোয়াটসএপে পাঠাতে হয়। আর এ ছবি তুলতে তুলতে সিআররা হয়ে ওঠে একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার। সেজন্যই প্রচলিত আছে, ‘প্রত্যেক সিআরই ফটোগ্রাফার, কিন্তু প্রত্যেক ফটোগ্রাফার সিআর নন।’

* সিআরদের অন্যতম একটি দায়িত্ব হল বিভিন্ন ক্লাবের রেজিস্ট্রেশন ফি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের চাঁদা সংগ্রহ এবং সেসবের হিসাব-নিকাশ। মাঝে মাঝে তারা এ কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে তাদের দেখলে কোনো শিক্ষার্থী বলে মনে হয় না, মনে হয় লোকাল বাসের হেল্পার।

* বিয়ের পর প্রতি রাতে স্বামীর মশারি টাঙানোর মতোই যে বিরক্তিকর কাজটি সিআরদের নিয়মিত করে যেতে হয় তা হল স্যারদের অনুরোধ করে ক্লাস টেস্ট পেছানো। এক্ষেত্রে ক্লাসের অনেকেই মাঝে মাঝে এমন আবদার করে বসে যে তারা হয়তো মনে করে সিআরদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির সমপরিমাণ ক্ষমতা।

* জরুরি কোনো মিটিং আছে? ‘সিআর, ক্লাসের সবাইকে কল দাও।’ বৃষ্টির কারণে ক্লাস স্থগিত? ‘সিআর, তাড়াতাড়ি সবাইকে কল দিয়ে জানিয়ে দাও।’ এরকম আরও নানা কারণে সিআরদের অসংখ্য ফোনকল করতে হয়। এক্ষেত্রে সিআররা চাইলেই তাদের সিভিতে কলসেন্টারে চাকরির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে পারে।

* ‘সিআর, ক্লাস টেস্টটা পেছানো যায় না?’, ‘মাত্র দুইদিন পিছাইলি?’, ‘সিআর, মার্কারে কালি নাই ক্যান?’, ‘সিআর, স্যার এখনও আসছেন না ক্যান?’- এরকম আরও অসংখ্য আবদার, অভিযোগ মুখ বুজে মাথা নিচু করে মেনে নেয় যে প্রাণী, সে হল সিআর। ঠিক এ কারণেই বিয়ের বাজারে সিআরদের চাহিদা থাকে একেবারে তুঙ্গে।