অভিযোগ বাকসো

আমাদের অভিযোগের শেষ নেই। কত কত অভিযোগ! আমরা সামান্যতেই একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করি। তেমনই কিছু বাস্তব অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছেন মাসুদ রানা আশিক

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাবা-সন্তান

সন্তান : বাবাটা যে কি না! সারাদিন খালি উপদেশ আর উপদেশ। এত উপদেশ শুনতে কি ভালো লাগে! অথচ আমার বন্ধু সাব্বিরের বাবাটা কত কিউট! সাব্বিরকে কথায় কথায় উপদেশ তো দেয়-ই না বরং রোজ পকেট খরচের জন্য মোটা অংকের টাকা দেয়।

বাবা : আমার ছেলেটা একটা গাধা! একটা উল্লুক! একটা ওরাংওটাং! অকর্মার ঢেঁকি! মাঝে মাঝে তো সন্দেহই হয়- এটা আমার পোলা তো? সারাদিন কেবল টইটই করে ঘুরে বেড়ানো। একটা যদি কথা শুনত।

স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রী : আমার স্বামীটা একেবারে নিরামিষ। কোথাও ঘুরতে যাওয়া পছন্দ করে না। রসও নেই মনে। আমাকে নিয়ে একটু ঘুরতে গেলে কি এমন ক্ষতি হয়? আমি বলেই সংসার করছি। অন্য কেউ হলে সংসারে লাথি মেরে চলে যেত!

স্বামী : মেয়েরা সবাই এমন। খালি ঘুরতে যাওয়া। এত ঘোরাঘুরির কোনো মানে হয়! শুধু সময় নষ্ট। অর্থও নষ্ট বৈকি। সংসার চালাতে যে পায়ের ঘাম মাথায় উঠছে এ বিষয়ে তাদের কোনো নজর নেই।

প্রেমিক-প্রেমিকা

প্রেমিকা : আমি একটা রোবটের সঙ্গে প্রেম করছি। মোবাইলে কথা বলতে অনিহা। মার্কেটে যেতে অনিহা। আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতেও অনিহা। আর ভালো লাগে না।

প্রেমিক : রাবিশ, যাচ্ছেতাই! প্রেমিকার সঙ্গে মোবাইলে এত কী কথা বলব! প্রতিদিনই তো একই কথা। নতুন কিছু নেই। আমি আকারবিহীন বেকার মানুষ। মার্কেটে যাওয়া, ঘোরাঘুরি করার এত টাকা আমি কোথায় পাব? এমনিতেই বড় ভাই, বাবার পকেট কাটতে কাটতে চোর উপাধি পেয়ে গেছি!

রিকশাওয়ালা-যাত্রী

যাত্রী : রিকশাওয়ালারা সব বাটপার! রোদ বেশি, ভাড়া বেশি। বৃষ্টি পড়ছে, ভাড়া বেশি। শীত পড়ছে, ভাড়া বেশি। রাত বেশি, ভাড়া বেশি। রাস্তায় জ্যাম, ভাড়া বেশি। এত লোভ, এই জন্যই তো রিকশাওয়ালাদের কোনো উন্নতি হয় না।

রিকশাওয়ালা : যাত্রীরা সব কেমন যেন। দুই টাকা ভাড়া বেশি চাইলেই দোষ। একটা বিড়ি খেয়ে যে ১২ টাকা খরচ করছে সেটা কিছুই না। আমরা গরির বলে কোনো মূল্যই নেই।

ছাত্র-শিক্ষক

ছাত্র : এত পড়া আর ভালো লাগে না। টিচাররাও ইদানীং খুব ক্রেজি হয়ে গেছে। এত পড়া দেয়ার কোনো মানে হয়। হোমওয়ার্ক করো, এটা করো, ওটা করো। খুব বোরিং!

শিক্ষক : নাহ, কী যে যন্ত্রণায় পড়েছি! ছাত্র পড়ানো আর গরু চরানো একই কথা। গরুও কথা শোনে না, ছাত্ররাও কথা শোনে না। ডানে বললে বামে যায়, বামে বললে ডানে যায়। ওদের সঠিক লাইনে আনতে কী করণীয় বুঝতেই পারছি না! মাঝে মাঝে মনে হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে পাড়ার মোড়ে ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter