ঘুষ খাইলে হুঁশ থাকে না

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  লেখা : এমদাদ হোসেন শরীফ, আঁকা : শফিক হীরা

স্যার, কইলেন ঈদ-পরবর্তী একটা কোলাকুলি দিতে। তাই বাস থেইকা নাইমা আসলাম, আবার টাকা কিসের?

আরে বোকা, সবার সামনে ঘুষ নেয়া যায় বল? তাই তোকে ইশারায় বোঝালাম কোলাকুলির ভান ধরে আমার পকেটে টাকা দিয়ে যা।

কী ব্যাপার এখনও তুমি ঘুমাচ্ছো? আজ না তোমাকে অফিস থেকে সংবর্ধনা দিবে বললা?

গত মাসে ঘুষ নেয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে ধরা খাওয়ায় তিনি সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। এ সংবর্ধনা নিয়ে বাসায় ফিরলে পাড়ায় মুখ দেখানো যাবে বলো?

টেবিলের নিচের পা দানিতে কিন্তু ড্রয়ার হয় না স্যার। এরপরও আপনি কেন পা দানি বানাতে চাচ্ছেন একটু কী

জানতে পারি?

টেবিলের নিচে হাতে হাতে ঘুষ নেয়া আগের মতো নিরাপদ না! তাই যে যে ঘুষ দিতে চাইবে পা দানির ড্রয়ারে রেখেই চলে যাবে।

কী হয়েছে ভাবী সাহেবা, গতকাল

না ওনাকে চেকআপ করে

দেখলাম সুস্থ আছে?

ডাক্তার সাহেব, অফিসে সিসি ক্যামেরা বসানোয় আজ সারাদিন ঘুষ নিতে পারেননি তাই টেনশনে বেহুঁশ হয়ে গেছেন আমার স্বামী।

হাসান সাহেব, এসব অপ্রয়োজনীয় ফাইল স্তূপ করে রাখায় আপনার ডেস্কের সৌন্দর্যহানি ঘটছে।

হে হে হে...এসব রাখার উদ্দেশ্য হল, গ্রাহক এলে যাতে ঘুষের কথা বলা না লাগে। তারা নিজেরাই ফাইলের স্তূপ দেখে বুঝে নিবে ঘুষ ছাড়া এখানে ফাইল সই হয় না।

আমাদের মতো এত বড় সেবাধর্মী অফিসে ‘গুজব’ পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দিলে পাবলিক কী আর সেবা নিতে আসবে?

‘গুজব’ পদ পাবলিকদের জন্য করা হচ্ছে না, করা হচ্ছে আপনাদের জন্য। আপনাদের ঘুষ খেতে দেখলে ‘গুজব কর্মকর্তা’ টেবিলে টেবিলে গিয়ে গুজব ছড়াবে স্যার, ঘুষ খাবেন না, ম্যাজিস্ট্রেট আসছে।