একটি সফটওয়্যার ও দুইটি গল্প

  তাসলিমা নীলু ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একবার ‘আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়’ নামক একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের গল্প লেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্য একটি সফটওয়্যার দেয়া হল। সফটওয়্যারটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটিকে বিশেষ কিছু তথ্য দিলে সেই তথ্যগুলো ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি একটি গল্প লিখে দেয়।

সব ছাত্রী সফটওয়্যারটি নিয়ে বাসায় গেল। রিপা নামক এক ছাত্রী বাসায় গিয়ে তার নানাকে সফটওয়্যারটি দেখাল ও বলল, দু’জনে মিলে আলাদা আলাদা দুটি গল্প লেখা যাক। গল্প লেখার সফটওয়্যারটি তথ্যগুলো দিতে বলল, সেগুলো হচ্ছে- নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বয়স, প্রিয় প্রাণী, প্রিয় রঙ, প্রিয় অনুষ্ঠান, প্রিয় ফল ও প্রিয় খাবার। রিপা ও তার নানা দু’জনই আলাদাভাবে তথ্যগুলো দেয়ার পর সফটওয়্যারটি আলাদা দুটি গল্প লিখে দিল। রিপা তথ্য দেয়ার পরে সফটওয়্যারটি যে গল্পটি লিখল সেটি হচ্ছে এই রকম-

অনেক দিন আগে ঢাকায় রিপা নামক একজন ৯ বছর বয়স্ক বালিকা বসবাস করত। সে আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। একদিন রিপা স্কুল থেকে ফেরার সময় দেখল একটি কমলা রঙের বিড়াল দেয়ালের ওপর বসে আছে। রিপা হাত ইশারা করে ডাকতেই বিড়ালটি লাফ দিয়ে দেয়াল থেকে নেমে এলো। রিপার ব্যাগে কিছু আপেল ছিল। সে আপেলগুলো বের করে বিড়ালটিকে খেতে দিল। সে ঠিক করল যে, বিড়ালটি বাসায় নিয়ে যাবে ও এটাকে পুষবে। বাসায় পৌঁছাবার পর রিপা বিড়ালটিকে কোলে তুলে রান্নাঘরে তার মাকে দেখাতে নিয়ে গেল। তার মা বেগম মুনা তখন রান্নাঘরে তার মেয়ে রিপার প্রিয় খাবার পোলাও রান্না করছিলেন। রিপা বিড়ালটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে তার মাকে দেখালো ও বলল যে সে বিড়ালটি পুষতে চায়। তার মা বেগম মুনা বললেন, বিড়ালটি খুবই নোংরা ও বিড়ালটি পুষতে হলে রিপাকে এটির যত্ন নিতে হবে। রিপা বিড়ালটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এর সারা শরীর ধুয়ে দিল ও কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিল। দুপুরের খাবার খেয়ে রিপা বিড়ালটির সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলা করল বিকাল হলে টিভি দেখতে বসল। প্রতিদিন বিকালে টিভিতে রিপার প্রিয় অনুষ্ঠান ‘টম অ্যান্ড জেরী’ প্রচার করা হয়। বিকালে ‘টম অ্যান্ড জেরী’ দেখার পর রিপা আবিষ্কার করল যে, বিড়ালটি তার ঘরে নেই। কিছুক্ষণ খোঁজার পর সে দেখতে পেল যে, বিড়ালটি পাশের ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর রিপার বাবা জনাব আহসান অফিস থেকে বাসায় আসলেন। তিনি দেখলেন তার মেয়ে রিপা সোফার ওপর একটি বিড়াল কোলে নিয়ে বসে আছে ও টিভি দেখছে। তিনি বিড়ালটিকে দেখে অবাক হলেন এবং রিপার কাছে জানতে চাইলেন, বিড়ালটিকে রিপা কোথায় পেয়েছে? রিপা তার পিতা জনাব আহসানকে বিড়ালটি পাওয়ার ইতিহাস বলল ও জানালো যে সে বিড়ালটিকে তার পোষা প্রাণী হিসেবে বাসায় রাখতে চায়। জনাব আহসান বিড়ালটি খুব বেশি খাবার খাবে না চিন্তা করে রিপাকে বিড়ালটি পোষার অনুমতি দিলেন। এতে রিপা খুব খুশি হয়ে উঠল ও তার বাবা জনাব আহসানকে ধন্যবাদ জানালো। (সমাপ্ত)

রিপার নানা তথ্য দেয়ার পরে সফটওয়্যারটি যে গল্পটি লিখল সেটি হচ্ছে এ রকম-

অনেক দিন আগে ঢাকায় শরীফ নামক একজন ৮৫ বছর বয়স্ক বালিকা বসবাস করত। সে আধুনিক শিক্ষা বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। একদিন শরীফ স্কুল থেকে ফেরার সময় দেখল একটি সবুজ রঙয়ের হাতি দেয়ালের উপরে বসে আছে। শরীফ হাত ইশারা করে ডাকতেই হাতিটি লাফ দিয়ে দেয়াল থেকে নেমে এলো। শরীফের ব্যাগে কিছু আঙুর ছিল। সে আঙুরগুলো বের করে হাতিটিকে খেতে দিল। সে ঠিক করল যে হাতিটি বাসায় নিয়ে যাবে ও এটাকে পুষবে। বাসায় পৌঁছাবার পরে শরীফ হাতিটিকে কোলে তুলে রান্নাঘরে তার মাকে দেখাতে নিয়ে গেল। তার মা মরহুম মাজেদা তখন রান্নাঘরে তার মেয়ে শরীফের প্রিয় খাবার চা রান্না করছিলেন। শরীফ হাতিটি কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে তার মাকে দেখাল ও বলল যে সে হাতিটি পুষতে চায়। তার মা মরহুম মাজেদা বললেন, হাতিটি খুবই নোংরা ও হাতিটি পুষতে হলে শরীফকে এটির যতœ নিতে হবে। শরীফ হাতিটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে এর সারা শরীর ধুয়ে দিল ও কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে দিল। দুপুরের খাবার খেয়ে শরীফ হাতিটির সাথে কিছুক্ষণ খেলা করলো ও বিকেল হলে টিভি দেখতে বসল। প্রতিদিন বিকেলে টিভিতে শরীফের প্রিয় অনুষ্ঠান ‘রাতের সংবাদ’ প্রচার করা হয়। বিকেলে ‘রাতের সংবাদ’ দেখার পর শরীফ আবিষ্কার করল যে, হাতিটি তার ঘরে নেই। কিছুক্ষণ খোঁজার পর সে দেখতে পেল যে, হাতিটি পাশের ঘরে খাটের নিচে লুকিয়ে আছে।

কিছুক্ষণ পরে শরীফের বাবা মরহুম নাসিম অফিস থেকে বাসায় আসলেন। তিনি দেখলেন যে তার মেয়ে শরীফ সোফার উপর একটি হাতি কোলে নিয়ে বসে আছে ও টিভি দেখছে। তিনি হাতিটিকে দেখে অবাক হলেন এবং শরীফের কাছে জানতে চাইলেন যে, হাতিটিকে শরীফ কোথায় পেয়েছে? শরীফ তার পিতা মরহুম নাসিমকে হাতিটি পাওয়ার ইতিহাস বলল ও জানাল যে সে হাতিটিকে তার পোষা প্রাণী হিসেবে বাসায় রাখতে চায়। মরহুম নাসিম হাতিটি খুব বেশি খাবার খাবে না চিন্তা করে শরীফকে হাতিটি পোষার অনুমতি দিলেন। এতে শরীফ খুব খুশি হয়ে উঠলো ও তার বাবা মরহুম নাসিমকে ধন্যবাদ জানাল। (সমাপ্ত)

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter