বিখ্যাতদের মজার ঘটনা

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোস্তাক শরীফ

ফার্দিনান্দ ফচ (১৮৫১-১৯২৯)। ফরাসি সমরবিদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন।

ভেতরের খবর

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধের ভেতরের খবরের জন্য সাংবাদিকরা প্রায়ই মার্শাল ফচের গাড়িচালক পিয়েরের দ্বারস্থ হতো। তাদের আগ্রহের বিষয় ছিল একটাই- যুদ্ধ কখন শেষ হবে বলে মার্শাল মনে করেন। পিয়েরে তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মার্শাল এ সম্বন্ধে কিছু বললেই তাদের জানাবে। অবশেষে একদিন সে সাংবাদিকদের বলল, ‘আজ সকালে মার্শাল মুখ খুলেছেন!’ সাংবাদিকরা সবাই খাতা-কলম নিয়ে আগ্রহী মুখে পিয়েরের পাশে ভিড় জমাল।

পিয়েরে বলল, ‘মার্শাল বলেছেন, পিয়েরে, তোমার কী মনে হয়, যুদ্ধ কবে শেষ হবে?’

বাতাস

এক আমেরিকান একবার ফরাসিদের ভদ্রতাকে ‘মেকি’ আখ্যা দিয়ে মার্শাল ফচকে বলল, ‘এর পুরোটাই আসলে বানানো। এর মধ্যে বাতাস ছাড়া আর কিছুই নেই।’

মার্শাল একটুও রাগ না করে মুচকি হেসে বললেন, ‘গাড়ির টায়ারের মধ্যেও বাতাস ছাড়া আর কিছুই নেই, কিন্তু ওটা না থাকলে কি গাড়ি চালাতে পারতেন?’

শর্ত

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল মার্শাল ফচের কাছে এল যুদ্ধবিরতির শর্ত ঠিক করতে। মার্শাল টেবিলের ওপর থেকে এক টুকরো কাগজ নিয়ে প্রতিনিধি দলের নেতার হাতে দিলেন।

ভদ্রলোক কাগজে চোখ বুলিয়ে আহত গলায় বললেন, ‘আমার মনে হয় কোথাও ভুল হচ্ছে আপনাদের। এখানে যেসব শর্তের কথা লেখা আছে কোনো সভ্য জাতি সেগুলো আরেকটি জাতির ওপর আরোপ করতে পারে না!’

‘খুব খুশি হলাম আপনার কথায়,’ মার্শাল ফচ বললেন। ‘কিন্তু এসব শর্ত তো আমাদের নয়। কিছুদিন আগে আমাদের লিঁলে শহর অবরোধ করার পর আপনাদের জার্মান কমাণ্ডারই আত্মসমপনের এসব শর্ত দিয়েছিলেন।’

শাশুড়ি

একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে গিয়েছিলেন মার্শাল ফচ। তাকে নিয়ে যাওয়া হল কলোরাডোর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে। সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে গেলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর এক কর্নেল যিনি চোস্ত ফরাসি ভাষা জানতেন। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ঘুরে দেখার এক পর্যায়ে ক্যানিয়নের গভীর গিরিখাতের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন মার্শাল ফচ। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। তারপর গিরিখাত থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কর্নেলের দিকে তাকিয়ে মার্শাল বিড়বিড় করে বললেন, ‘কারও শাশুড়িকে ফেলে দেয়ার জন্য কী চমৎকার গর্ত!’

বার্নাড ডি ফন্টেনেল (১৬৫৭-১৭৫৭)। ফরাসি লেখক ও দার্শনিক। তার বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখি নিউটন ও দেকার্তের তত্ত্বের প্রসারে ভূমিকা রেখেছিল।

ভদ্রলোক

একদিন ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুইয়ের সঙ্গে আলাপ করছিলেন ডি ফন্টেনেল। একপর্যায়ে রাজা বললেন, সমাজে আর ভদ্রলোকের অস্তিত্ব আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। ডি ফন্টেনেল মৃদু হেসে বললেন, ‘এখনও সমাজে অসংখ্য ভদ্রলোক আছে মহামান্য। তবে রাজাদের সঙ্গ তাদের প্রয়োজন হয় না।’

মৃত্যু

ডি ফন্টেনেল প্রায় একশ’ বছর বেঁচেছিলেন। তখন তিনি বয়োবৃদ্ধ। সমবয়সী এক বন্ধু একদিন আক্ষেপ করে বললেন, ‘মুত্যু মনে হয় আমাদের কথা ভুলে গেছে, কী বল বার্নার্ড?’

‘শ্শ্...। ব্যাটা শুনে যাবে!’ ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে ফিসফিস করে বললেন ডি ফন্টেনেল।