দ্বীন ও তাবলিগ নিয়ে হাফেজ্জী হুজুরের নসিহত
jugantor
দ্বীন ও তাবলিগ নিয়ে হাফেজ্জী হুজুরের নসিহত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘এলাহী বহক্বে বনী ফাতেমা + কেবর কওলে ঈমান কুনাম ফাতেমা আগার দা’ওয়াতম রদ কুনি ওয়ার কবুল + মান ও দস্তে দামানে আলে রাসূল’

অর্থ : মাওলাগো নবীকন্যা ফাতেমার কলিজার টুকরাদের উসিলায় তাওহিদের কালেমা যেন হয় আমার শেষ কথা। এ মোনাজাত মঞ্জুর কর কিংবা নামঞ্জুর, সে তোমার মর্জি মাওলা। আমি দু’হাতে আঁকড়ে ধরেছি নবী পরিবারের নাজাত রজ্জু।

হে মুমিন ভাইগণ! আল-বেদা। আসসালামু আলাইকুম। মুহিব্বীন ও সাধারণ মুমিন ভাইগণের খিদমতে কিছু অসিয়ত-

* দ্বীনি মাদ্রাসা ও কোরআনি মক্তব বেশি বেশি কায়েম করার এরাদায় থাকবেন এবং দেশে নাদিয়া ও নুরানি ট্রেনিং নামে যে মোবারক আমল চালু হয়েছে তা দেশের প্রত্যেক বস্তিতে মসজিদ ও মাদ্রাসায় এমনকি প্রত্যেক ঘরে ঘরে জারি করবেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুয়াল্লিম মারফত প্রত্যেক বস্তিতে শিশুদের দ্বীনি তালিম এবং কোরআন শরিফের সহি তালিমের ব্যবস্থা করে আগামী বংশধরদের দ্বীন ও ইমানের হিফাজত করবেন।

এবং কু আনফুসুকুম ওয়া আহলিকুম নারান অর্থ : তোমরা নিজকে এবং নিজ পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। এ নির্দেশের ওপর আমল করে দুনিয়া আখেরাতের কামিয়াবি হাসিল করার চেষ্টা করবেন। এ কাজ খুবই সুব্যবস্থাপনার সঙ্গে করতে হবে। যেন যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে দেশের প্রত্যেক বস্তিতে একটি করে কোরআনি মক্তব বা নুরানি প্রাইমারি কায়েম হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন। যেন এ কাজ সরকার আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়ে এর যাবতীয় ব্যয় আমাদের হাতে ন্যস্ত করেন। কেন না, ইলমে দ্বীনের সঙ্গে সম্পর্কহীন সরকার কোনোক্রমেই ইলমে দ্বীন প্রচারের খিদমত সুষ্ঠুভাবে করার যোগ্য হতে পারে না।

সরকার এ প্রস্তাবেসম্মত হলে উত্তম। না হলে সব কালেমা জানা মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা সামাল দেবেন এবং সব মুমিন মুসলমান সম্মিলিতভাবে দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের জানি, মালি সাহায্য করে আল্লাহর কাছে পুরস্কারের যোগ্য হবেন।

* তাবলিগ জামাতে শরিক হয়ে মুরব্বিগণের হিদায়াত মোতাবেক এ কাজকে আগে বাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। তবে তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীল ভাইগণের খিদমতে অধমের একটি মাশওয়ারা এই যে, তাবলিগি কাজে আপনারা যখন দেশের দূরদূরান্তের বস্তিগুলোয় যাবেন তখন তাবলিগি কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে এ ফিকির ও মেহনত অবশ্যই করবেন- যেন প্রত্যেক বস্তিতে একটি নুরানি প্রাইমারি কায়েম হয়ে যায়। এ প্রাইমারি নিসাবের মূল কাজ হবে বিশুদ্ধ কোরআন শিক্ষা করা।

ইমান ও আকিদা শুদ্ধ করা। জরুরি মাসায়েল ও ইসলামী জিন্দেগি শিক্ষা দেয়া। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের পঞ্চম শ্রেণী মানের শিক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে মোট শিক্ষাবর্ষ পাঁচ বছরের বেশি হবে না।

যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ মুয়াল্লিম দিয়ে শিক্ষা কর্মসূচি শুরু করা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ এর ফলাফল খুবই আশাপ্রদ হবে। প্রচলিত ইংরেজি পদ্ধতির স্কুলগুলো থেকে বেরিয়ে কোমলমতি মুসলিম শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব নুরানি প্রাইমারিতে ভর্তি হতে শুরু করবে।

পর্যায়ক্রমে দেশের গ্রামে ও বস্তিতে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এমন মোবারক দিন ইনশাআল্লাহ আমরা দেখতে পাব যেদিন মুসলমানের শতকরা আশি ভাগ শিশু কোরআনি শিক্ষা ও ইসলামী জিন্দেগির সঙ্গে পরিচিত হয়ে আগামী জীবনে অটুট ও মজবুত ইমানের অধিকারী হবে।

এ মজবুত বুনিয়াদের ওপর যখন ইমানের মেহনত হবে তখন ইমানের উঁচু ইমারত আরও মজবুত হবে। ফলে তাবলিগি মেহনত যেমন ব্যাপকতা লাভ করবে তেমনি পূর্ণাঙ্গতাও লাভ করবে।

হাফেজ্জী হুজুর রচনা সমগ্র থেকে

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

দ্বীন ও তাবলিগ নিয়ে হাফেজ্জী হুজুরের নসিহত

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘এলাহী বহক্বে বনী ফাতেমা + কেবর কওলে ঈমান কুনাম ফাতেমা আগার দা’ওয়াতম রদ কুনি ওয়ার কবুল + মান ও দস্তে দামানে আলে রাসূল’

অর্থ : মাওলাগো নবীকন্যা ফাতেমার কলিজার টুকরাদের উসিলায় তাওহিদের কালেমা যেন হয় আমার শেষ কথা। এ মোনাজাত মঞ্জুর কর কিংবা নামঞ্জুর, সে তোমার মর্জি মাওলা। আমি দু’হাতে আঁকড়ে ধরেছি নবী পরিবারের নাজাত রজ্জু।

হে মুমিন ভাইগণ! আল-বেদা। আসসালামু আলাইকুম। মুহিব্বীন ও সাধারণ মুমিন ভাইগণের খিদমতে কিছু অসিয়ত-

* দ্বীনি মাদ্রাসা ও কোরআনি মক্তব বেশি বেশি কায়েম করার এরাদায় থাকবেন এবং দেশে নাদিয়া ও নুরানি ট্রেনিং নামে যে মোবারক আমল চালু হয়েছে তা দেশের প্রত্যেক বস্তিতে মসজিদ ও মাদ্রাসায় এমনকি প্রত্যেক ঘরে ঘরে জারি করবেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুয়াল্লিম মারফত প্রত্যেক বস্তিতে শিশুদের দ্বীনি তালিম এবং কোরআন শরিফের সহি তালিমের ব্যবস্থা করে আগামী বংশধরদের দ্বীন ও ইমানের হিফাজত করবেন।

এবং কু আনফুসুকুম ওয়া আহলিকুম নারান অর্থ : তোমরা নিজকে এবং নিজ পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। এ নির্দেশের ওপর আমল করে দুনিয়া আখেরাতের কামিয়াবি হাসিল করার চেষ্টা করবেন। এ কাজ খুবই সুব্যবস্থাপনার সঙ্গে করতে হবে। যেন যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে দেশের প্রত্যেক বস্তিতে একটি করে কোরআনি মক্তব বা নুরানি প্রাইমারি কায়েম হয়ে যায়।

এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন। যেন এ কাজ সরকার আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়ে এর যাবতীয় ব্যয় আমাদের হাতে ন্যস্ত করেন। কেন না, ইলমে দ্বীনের সঙ্গে সম্পর্কহীন সরকার কোনোক্রমেই ইলমে দ্বীন প্রচারের খিদমত সুষ্ঠুভাবে করার যোগ্য হতে পারে না।

সরকার এ প্রস্তাবেসম্মত হলে উত্তম। না হলে সব কালেমা জানা মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা সামাল দেবেন এবং সব মুমিন মুসলমান সম্মিলিতভাবে দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের জানি, মালি সাহায্য করে আল্লাহর কাছে পুরস্কারের যোগ্য হবেন।

* তাবলিগ জামাতে শরিক হয়ে মুরব্বিগণের হিদায়াত মোতাবেক এ কাজকে আগে বাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। তবে তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীল ভাইগণের খিদমতে অধমের একটি মাশওয়ারা এই যে, তাবলিগি কাজে আপনারা যখন দেশের দূরদূরান্তের বস্তিগুলোয় যাবেন তখন তাবলিগি কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে এ ফিকির ও মেহনত অবশ্যই করবেন- যেন প্রত্যেক বস্তিতে একটি নুরানি প্রাইমারি কায়েম হয়ে যায়। এ প্রাইমারি নিসাবের মূল কাজ হবে বিশুদ্ধ কোরআন শিক্ষা করা।

ইমান ও আকিদা শুদ্ধ করা। জরুরি মাসায়েল ও ইসলামী জিন্দেগি শিক্ষা দেয়া। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের পঞ্চম শ্রেণী মানের শিক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে মোট শিক্ষাবর্ষ পাঁচ বছরের বেশি হবে না।

যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ মুয়াল্লিম দিয়ে শিক্ষা কর্মসূচি শুরু করা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ এর ফলাফল খুবই আশাপ্রদ হবে। প্রচলিত ইংরেজি পদ্ধতির স্কুলগুলো থেকে বেরিয়ে কোমলমতি মুসলিম শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব নুরানি প্রাইমারিতে ভর্তি হতে শুরু করবে।

পর্যায়ক্রমে দেশের গ্রামে ও বস্তিতে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এমন মোবারক দিন ইনশাআল্লাহ আমরা দেখতে পাব যেদিন মুসলমানের শতকরা আশি ভাগ শিশু কোরআনি শিক্ষা ও ইসলামী জিন্দেগির সঙ্গে পরিচিত হয়ে আগামী জীবনে অটুট ও মজবুত ইমানের অধিকারী হবে।

এ মজবুত বুনিয়াদের ওপর যখন ইমানের মেহনত হবে তখন ইমানের উঁচু ইমারত আরও মজবুত হবে। ফলে তাবলিগি মেহনত যেমন ব্যাপকতা লাভ করবে তেমনি পূর্ণাঙ্গতাও লাভ করবে।

হাফেজ্জী হুজুর রচনা সমগ্র থেকে

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন