আদম হাওয়ার বিচ্ছেদ

  আহমাদ উল্লাহ ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদম হাওয়ার বিচ্ছেদ

নবী (সা.)-এর মূল্যবান উপদেশ শুনতে শুনতে হজরত আলী বিনয়ী সুরে জিজ্ঞেস করলেন- হে উম্মতের নবী। কোরআনে বলা হয়েছে আদম তার মাবুদের কিছু শব্দ শিখল। শব্দগুলো কী ছিল বলবেন কী?

নবীজি মৃদু হেসে বলতে লাগলেন জেনে নাও হে আলী, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি হাওয়াকে জেদ্দায় আর আদমকে হিন্দুস্থানে নামিয়ে দিলেন। তারা দু’জন বেহেশতের বাগানে সুখে জীবনযাপন করছিলেন।

ইবলিস তাদের ধোঁকা দিয়েছিল সাপ আর ময়ূরের মাধ্যমে। বেহেশতের বাগানে সাপ এবং ময়ূর ছিল এক উত্তম সৃষ্টি। সে সময় সাপের ছিল উটের পায়ের মতো চার পা। ইবলিস তাকে ব্যবহার করে আদমকে ধোঁকা দিল। এ ঘটনায় আল্লাহ সাপের প্রতি ভীষণ রেগে গেলেন। সাপের চার পা খসিয়ে দিয়ে তাকে শাস্তি দিলেন। তাকে বললেন যাও।

আজ থেকে তুমি মাটি খেয়ে জীবন কাটাবে। মাটিতে বুক ঘেঁষে হেঁটে জীবনযাপন করবে। আর তোমার প্রতি যে করুণা দেখাবে, তাকে আমি করুণা করব না। এরপর আল্লাহ ময়ূরের প্রতি রেগে গেলেন।

ময়ূরই ইবলিসকে সেই বৃক্ষ চিনিয়ে দিয়েছিল, যে বৃক্ষের ফল খেয়ে মাবুদের আদেশ অমান্য করেছে আদম-হাওয়া। শাস্তি হিসেবে ময়ূরের মিষ্টি কণ্ঠ বিশ্রি আওয়াজে পরিণত করে দিলেন। আর তার সুন্দর সুশ্রী পা দুটিকে পলকেই বানিয়ে দিলেন বিশ্রী।

এরপর কী হল জান? একশ বছর একনাগাড়ে হিন্দুস্থানে একাকী জীবনযাপন করলেন আদম। এ সময় তিনি মাথা নত করে হাত দুটি মাথায় রেখে ভুলের জন্য শুধু কেঁদে বেড়াতেন।

একদিন আল্লাহর কী দয়া হল, জিবরাইলকে ডেকে তিনি আদমের কাছে পাঠালেন। জিবরাইল আদমকে ডেকে বললেন- হে আদম সালাম গ্রহণ করুন আপনার আল্লাহর। আপনাকে তিনি বলতে বলেছেন, হে আদম আমি তোমাকে আমার কুদরতি হাতে সৃষ্টি করিনি?

আমার আত্মা থেকে কী তোমার আত্মায় রূহ ফুঁকে দেইনি। আমার ফেরেশতাদের কি তোমাকে সিজদা করতে বলিনি? আমার দাসী হাওয়াকে কি তোমার স্ত্রী বানিয়ে দেইনি? তোমাকে কি আমার বেহেশত-বাগানে থাকতে দেইনি?

হে আদম, এখন কেন তোমার এত কান্না? যদি ক্ষমা পেতে চাও এখনই ক্ষমার বাক্য উচ্চারণ কর। পবিত্র তুমি। কোনো উপাস্য নেই তুমি ছাড়া। খুবই মন্দকাজ করেছি আমি। অত্যাচার করেছি নিজের প্রতি। হে উপাস্য আমার। তওবা কবুল করে নাও ওগো। তুমি যে তওবা কবুলকারী। হে আমার দয়াময় মাবুদ।

হিজরির চতুর্থ শতকে লেখা আবু মুহাম্মদ হাসান হাররানির আরবি গ্রন্থ তুহাফুল উকুল। সে সময় অনেক খেটে-খুটে আহলে বাইত বিরোধীদের রক্তচক্ষু এড়িয়ে এ গ্রন্থে তিনি নবী পরিবারের উপদেশগুলো জড়ো করেছেন। শুধু যুগান্তর পাঠকের জন্য দুর্লভ এসব উপদেশ একটু একটু করে উপস্থাপন করছেন ব্যতিক্রমী লেখক ও কোরআন ভাবুক। হ [চলবে]

লেখক : সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×