ফেসবুকে নাম নিয়ে তামাশা

  মোহাম্মদ আখতার হোসেন আজাদ ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুকে নাম নিয়ে তামাশা

মানুষকে মন্দ নামে, পশুর নামে ডাকা বা তার নাম বিকৃত করে অপমানসূচক বা অশ্লীলভাবে সম্বোধন করা আমাদের অধিক লক্ষণীয়। এটি যে কবিরা গুনাহ তা ভুলেই গেছি।

বর্তমান ইসলামিক নামগুলো হাসি-তামাশার খোরাক হয়ে উঠেছে। আমরা মুসলিম হয়েও অজ্ঞতাবশত এসব করছি। কিছু উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হয়ে যাবে। টিভি-রেডিওতে ‘প্রাণ ম্যাঙ্গো ক্যান্ডি’র কল্যাণে এই নামটিকে মজা হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে।

যাদের নাম মোখলেস তারাও বিপাকে পড়েন। অথচ মোখলেস শব্দটি ‘এখলাস’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করা। মফিজ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ সফলকাম হওয়া।

সাধারণত পরকাল বুঝাতেই শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ম্যাজিক টুথ পাউডারের বিজ্ঞাপন দেখে আমরা এ নামটিকে নিয়ে ঠাট্টা করে থাকি। পরকালের সফলতা নিয়েই আমরা যদি ঠাট্টা করি তবে কি আমরা পরকালে সফলতা লাভ করতে পারব?

আজকের সমাজে আবুল একটি অন্যতম ঠাট্টামূলক নাম। আমরা কি এই নামের মাহাত্ম্য জানি! আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপনাম ছিল আবুল কাশেম যার অর্থ হল কাশেমের পিতা।

একবার ভেবে দেখা উচিত আমরা কী নিয়ে রঙ্গ ব্যঙ্গ করছি! সর্বাধিক মজা করা হয় কুদ্দুস নামটি নিয়ে। অথচ এটি আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম যার অর্থ মহাপবিত্র। কেউ যদি কেবল কুদ্দুস বলে তাহলে তার গুনাহ হবে। কারণ এটি আল্লাহর সিফাতি নাম। বলতে হবে আব্দুল কুদ্দুস। আমরা আল্লাহর নাম নিয়েও তামাশা করছি!

মমিন নাম নিয়েও যথেষ্ট ব্যঙ্গ হয় আমাদের সমাজে। কিন্তু এর শুদ্ধ উচ্চারণ হবে মুমিন। একজন পূর্ণাঙ্গ ইমানদার ব্যক্তিকেই মুমিন বলে।

অথচ আমরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘কস কি মমিন’ বলে নামটিকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে থাকি। আল্লাহতায়ালা সূরা হুজরাতের ১১ নং আয়াতে বলেছেন : হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষকে উপহাস না করে কেননা সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে কেননা সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। কেউ ইমান আনার পর তাদের মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এমন কাজ করার পর তওবা না করে তারাই জালিম।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ও এমনটি অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। যেমন- প্রসিদ্ধ সাহাবি আবু হোরায়রা (রা.)-এর প্রকৃত নাম আবদুর রহমান। এভাবে লম্বা হাত জনৈক সাহাবিকে যুল ইয়াদায়ন বলা হতো যার অর্থ লম্বা হাত মানুষ। কৌতুকবশত কারও উপহাস করলে তার মনে কষ্টের আশঙ্কা থাকলে তাও নিষিদ্ধ।

নির্মল এবং মনে কষ্ট না লাগে শুধু এমন কৌতুকই ধর্মে জায়েজ। জিহ্বার হিফাজত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো মনে করে সে-ই প্রকৃত হিজরতকারী। (বুখারি ও মুসলিম)।

আবার মানুষকে পশুর সঙ্গে সম্বোধন করে ডাকাও হারাম। কোনো মানুষকে গাধা, গরু, ভেড়া, ছাগল, কুকুর, শুয়োর, পাঁঠা ইত্যাদি বলে ডাকা অপরাধ। প্রথমত এটি মিথ্যা কারণ সে তো মানুষই। দ্বিতীয়ত এতে অপরের দিলে কষ্ট লাগে। সবচেয়ে উত্তম নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের নামগুলো আল্লাহর কাছে প্রিয় হচ্ছে- আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)। এ নাম দুটো আল্লাহর প্রিয় হওয়ার কারণ হল এতে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। পবিত্র আল কোরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা আছে।

এর থেকে পছন্দসই যে কোনো একটি নাম নবজাতকের নামে রাখা যেতে পারে। কিছু কিছু নাম রাখা হারাম। যেমন- আল্লাহর নাম নয় এমন কোনো নামের সঙ্গে গোলাম বা আব্দ (বান্দা) শব্দটিকে সম্বন্ধ করে নাম রাখা হারাম।

যেমন- আব্দুল ওজ্জা (ওজ্জার উপাসক), আব্দুস শামস (সূর্যের উপাসক), আব্দুল কামার (চন্দ্রের উপাসক), আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস), আব্দুল কালাম (কথার দাস), আব্দুন নবী (নবীর দাস), গোলাম নবী বা গোলাম মোস্তফা ইত্যাদি।

হে আল্লাহ আমাদের চলার তাওফিক দান করুন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×