নুরে মোস্তফার আলোকে গাউসুল আজম মিলনমেলা

  মুহাম্মদ রাশেদ হায়দার মহিউদ্দিন ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব সৃষ্টির অনিন্দ্য সুন্দর রূপ রহস্যের নেপথ্যে যা রয়েছে তা হল- খোদায়ী নুরের প্রেমরূপ শিল্পায়ন। জ্ঞানের গভীরে সুন্দরের নিবিড়ে নুরে মোহাম্মদির অপরূপ আয়োজন, ধূলির ধরণি থেকে আরশে আজমের মহাসফরে এ নুরেরই প্রয়োজন। স্রষ্টার সৃষ্টির প্রেমের সেতুবন্ধ সূচিত হয় প্রিয় রাসূলের নুরে পাকের মায়াবী সংযোগে, তৌহিদী রেসালাতের মর্মবোধ লুকানো এ নুরেরই অনুরাগে। ইমাম কুস্তালানী (রহ.) রচিত ‘আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ’তে উল্লেখ আছে- হজরত জাবের (রা.) প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সর্বপ্রথম সৃষ্ট বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে নবীজি ইরশাদ করেন, ‘হে জাবের! নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা সব বস্তুর আগে তোমার নবীর নুরকে আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ এ নুরের আকর্ষণে আকর্ষিত হচ্ছে সৃষ্টির সর্বত্র, এ নুরের পরশে খোদায়ী প্রেমের জয়গানে হয় কলব পবিত্র।

নবীজির আপাদমস্তক ছিল নুরে জাহেরার অলঙ্কারে অলঙ্কৃত আর অভ্যন্তরভাগ ছিল নুরে বাতেনায় সমাদৃত। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নবীজিকে কাছে পেয়ে দু’ধরনের নুরের সুধাই আস্বাদন করেছেন। নবীজির সেই স্বর্ণালি যুগের পর নুরে জাহেরার অমৃত সুধার আস্বাদন পাওয়ার সুযোগ না হলেও রয়েছে নুরে বাতেন কলবে নিয়ে খোদার গোপন অস্তিত্ব অনুভবের বিরল সুযোগ। এ নুর আমানত থাকে সেই বান্দাদের সিনা মোবারকে; যাদের রুহানি শিরায় প্রবাহিত হয় নবীজির রক্ত মোবারক, অধিষ্ঠিত থাকেন গাউসিয়তের মকামে, পৃথিবীতে যাদের পরিচয় হয়- কুতবুল আকতাব তথা গাউসুল আজম উপাধিতে। একবিংশ শতাব্দীর মাহেন্দ্রক্ষণে খোদার ইচ্ছায় নবীর দয়ায় চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়ার পাক জমিনে আমরা পেয়েছি এমন একজন কালজয়ী রাহবারকে যিনি সিনা-ব-সিনা তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে সেই নুর বিতরণ করে যাচ্ছেন, পুরুষদের সামনাসামনি বসিয়ে তাওয়াজ্জুহ-বিল-হাজেরের মাধ্যমে আর মহিলাদের শরিয়তের বিধিবিধান মেনে পর্র্দার যথাযথ আইন অনুসরণ করে তাওয়াজ্জুহ-বিল-গায়েবের মাধ্যমে। যেখানে মহিলাদের আসতে হয় না গাউসুল আজমের সামনে, গাউসুল আজমকেও যেতে হয় না মহিলাদের সামনে।

নবীজির এ নুর তাওয়াজ্জুহ্র মাধ্যমে কলবে নিলে ঠাণ্ডা, গরম, ভারী বা কম্পন যে কোনো এক অবস্থা অনুভব হলে কলব যে আল্লাহর স্মরণে মশগুল হয় তার প্রমাণ বহন করে। আর যে পদ্ধতিতে এ নুর অনুভব করা যায় তার নাম হল- মোরাকাবা বা আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকা। নবীজির কাছে নুরে কোরআন নাজিল হলে এ অনুভূতির সঞ্চার হতো। এ নুর গ্রহণকারী ব্যক্তির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উপলব্ধির কারণে বিশেষ কিছু বাহ্যিক পরিবর্তন হয়। মিশকাত শরিফের ৪৪৬নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত হাদিস শরিফের ভাষ্য মতে- এ নূর গ্রহণকারী ব্যক্তি (১) দুনিয়ার অনিয়ম মায়ামোহ থেকে দূরে সরে যায়; (২) পরকালের দিকে অগ্রসর হয়; (৩) মৃত্যুর আগেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

নবীজির এ নূর অশান্ত হৃদয়কে করে শান্ত, দিশাহারা জীবনকে করে প্রেমময় প্রশান্ত। আল্লাহর ভয়ে হয় ভীত, আশেকে রাসূল রূপে হয় স্বীকৃত। তাকওয়াও তাওয়াক্কুলে করে জীবন অতিবাহিত, নবীকে দেখার লাগি দু’নয়নে হয় অশ্রু প্রবাহিত। অতীতের পাপের জন্য হয় অনুতাপে জর্জরিত, ইনসানিয়তের অনুভূতি হয় হৃদয়ে জাগ্রত। এভাবেই পরকালের প্রস্তুতিকে করে আরও শাণিত, নুরে মোহাম্মদীর রওশনে হয় আঁধার জীবন আলোকিত। যে আলোতে মিলে সিরাতুল মোস্তাকিমের ঠিকানা, লা মকানের অভিযাত্রার হয় শুভ সূচনা। পরিশেষে হয় আলোকিত মানুষ হওয়ার উপাখ্যান রচনা। তখন লাখ লাখ আলোকিত মানুষ তথা ইনসানে কামেল সৃষ্টির মহারূপকার কাগতিয়া আলীয়া গাউসুল আজম দরবার শরিফের মহান মোর্শেদ হজরত গাউসুল আজমের দরবারে ছুটে আসেন। যার কালজয়ী দর্শনে নুরে মোহাম্মদীর আহ্বানে পথহারা মানবতা পেয়ে যায় সুপথের সন্ধান, মারেফাতের ইলম তথা অমূল্য ইহসান। যার পথ ধরে বইবে শান্তির সুবাতাস চির অমলিন, ধূসর এ ধরণি হবে নুরে মোহাম্মদীর রূপে রঙিন, হৃদয়ে হৃদয়ে বইবে শান্তি সীমাহীন আনন্দ ঢেউ। এভাবে বদলে যাবে ব্যক্তি, বদলে যাবে দেশ, সম্প্রীতির বাহুডরে বাঁধা পড়বে সামাজিক পরিবেশ, অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠবে প্রিয় স্বদেশ।

আরাধ্য শান্তির পয়গাম নিয়ে নুরে মোহাম্মদীর বাস্তব উপলব্ধির প্রত্যয়কে সামনে নিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি, চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক গাউসুল আজম কনফারেন্স। আসুন শামিল হই গাউসিয়তের প্রেম মঞ্জিলে, যেখানে খোদাকে পাওয়ার নবীকে দেখার স্বপ্ন এঁকে দেয়া হয় নিভৃতে নিরবে, রুহানি রহস্যজগৎ চোখে পড়বে ভালোবাসার দৃষ্টি মেলে। তখন দূর হবে দুনিয়ার মোহ, কলবে মিলবে জান্নাতি শান্তি সুষমা, জীবনে বইবে প্রেম নুরের প্রবাহ, হৃদয়ে দুলবে হেদায়েতের আলো।

email : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×