‘কওমি জননীকে আলেমদের অভিনন্দন’ লেখাটি নিয়ে কথা

  আহমাদ জামিল ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৎ সাহস আসলে কী? এটাকে এতদিন জানতাম জন্মগত বা জ্ঞানগত বিষয় বলেই। কিন্তু চিন্তাবিদ আহমদ ছফার মতে, ‘অনেক দূরবর্তী সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে দেখতে পারার ক্ষমতার নাম হল সৎ সাহস’। তার মানে ভবিষ্যৎকে যিনি দেখতে পান বা এই ক্ষমতা যার আছে তিনিই সাহসী। গত সংখ্যায় ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতায় ‘কওমি জননীকে আলেমদের অভিনন্দন’ শিরোনামে যে সময়োপযোগী লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে, এটিকে লেখক ও প্রকাশকের সৎ সাহসই বলতে হয়। পুরো লেখাটি উপলব্ধির সঙ্গে পড়লে সচেতন মানুষ মাত্রই স্বীকার করবেন যে, লেখাটিতে আসলেই বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। কারণ কোনো অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হওয়া ছাড়া এতটুকু স্বীকার করতেই হবে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেই কওমি আলেমদের উপকার করেছেন। এর সঙ্গে তার রাজনৈতিক স্বার্থ কতটুকু জড়িত সে বিতর্ক এড়িয়ে তার ভালো কাজের মূল্যায়ন অবশ্যই করতে হবে। এতটুকু প্রাপ্তি একজন মানুষ পেতেই পারেন। তা না হলে এটি হবে অকৃতজ্ঞতা। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে বান্দার শুকরিয়া আদায় করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়াও আদায় করে না। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করেই দেশের আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শুকরানা মাহফিলের মাধ্যমে সংবর্ধনা দিয়েছেন। তাকে ভূষিত করেছেন ‘কওমি জননী’ উপাধীতে। লেখক মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসিন লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে বাধ্য করেননি তাকে কওমি জননী উপাধি দিতে। কওমি সন্তানদের শিক্ষা কার্যক্রমের স্বীকৃতি এ দেশে ছিল না। বিশেষত সরকারের কোনো স্তরে ছিল না। অস্বীকৃতির বঞ্চনা আর সীমাহীন কষ্ট তাড়িয়ে বেড়িয়েছে কতকাল। নিজেদের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচিত্র শাখায় যে কওমিওয়ালারা বিচরণ করতে চেয়েছেন, কত ঘাটের পানি যে তাদের খেতে হয়েছে তার হিসাব ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। এ রকম ঠিকানাবিহীন নিরাশ্রয় অবস্থান থেকে যিনি স্বীকৃতির ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন। দেশ মাতৃকার এ কূলহীন সন্তানদের দেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন যিনি, যাদের অনুকূলে সংসদের আইন পাস করিয়েছেন, তিনি তো আসলে মায়ের পবিত্র দায়িত্ব পালন করেছেন। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কওমি পড়–য়াদের মা- কওমি জননী।’ এ কথাটুকুর সঙ্গে যিনি ভিন্নমত পোষণ করবেন, তার ইনসাফপছন্দি নিয়ে আমার আপত্তি আছে। প্রসঙ্গত একটি কথা উল্লেখ করতেই হয় যে, বঙ্গদেশের কিছু ধর্মীয় নেতা সবসময় পিছিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। যুগে যুগে তাদের অদূরদর্শী কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই এ দেশে ধর্মের এমন বেহাল অবস্থা। আধুনিক সমাজের সামনে এখনও ইসলামকে আমরা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারিনি। মসজিদের জুমার বয়ান থেকে সাধারণ মানুষ পায় না কোনো নির্দেশনা। বাংলা ভাষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়েও রয়েছে নানা ফতোয়া। এতসব হতাশার মাঝেও তরুণ সমাজের বাঁধভাঙার অভিপ্রায় আশার আলো দেখায়। আমরা স্বপ্ন দেখি সুন্দর আগামীর। বাস্তবতা উপলব্ধি করে যারা ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীনের এ আবেদনটি লাখো তরুণের হৃদয়ের আকুতি, আমরা আবারও সে আকুতি করছি, ‘কওমি মাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে করজোড়ে বলছি, কওমি মেধাবীদের কাজে লাগান। সব প্রতিযোগিতায় তারা শুধু ভালোই করবে না, সেরাদেরও ছাপিয়ে যাবে। যে কোনো সেক্টরে সুযোগ দিয়ে দেখুন। দেশ নিয়ে তাদের বুকে অনেক স্বপ্ন দানা বেঁধে আছে। শুধু নিতে নয়, দেশকে অনেক কিছু দিতে চায় তারা। সে স্বপ্ন বাস্তব জগতে যাতে পাখা মেলতে পারে সে ব্যবস্থাটা অন্তত করে দিন আপনি।’ সবশেষে আগামীতে এমন যুগোপযোগী আরও লেখা প্রকাশের আবেদন জানিয়ে লেখক ও প্রকাশক উভয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক

ইমেইল : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×