নয়নাভিরাম বাইতুল আমান জামে মসজিদে

  জিনাত সুলতানা ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার এক অপূর্ব নান্দনিক স্থাপত্যের নিদর্শন বাইতুল আমান জামে মসজিদ। এর অপূর্ব নির্মাণ সৌকর্য আর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন না এমন কেউ আছেন বলে মনে হয় না। প্রথম দেখায় আমি হতবাক, মুগ্ধ এবং অভিভূত হয়েছি। গতানুগতিক, আটপৌরে এক বিকালে মসজিদটি যখন দেখতে বেরিয়েছিলাম জানা ছিল না কী বিপুল বিস্ময় অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য। সড়কপথে শহর ছেড়ে অতিসাধারণ ঘরবাড়ি, বাজারঘাট, দোকানপাট পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাই। গাড়ি থেকে নামতেই মুগ্ধতা আর বিস্ময়ের ঘোর লেগেছে চোখে। গ্রামীণ পরিবেশে দিগন্ত বিস্তৃত সুনীল আকাশের পটভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত মসজিদগুলোর অনুকরণে তৈরি বাইতুল আমান জামে মসজিদ দেখে একেবারে বাকরুদ্ধ হয়েছি। আমি জানাচ্ছি মসজিদটির কথা।

বরিশাল শহর থেকে ২২ কিমি. দক্ষিণ-পশ্চিমে বরিশাল-বানারীপাড়া রোডের পাশে উজিরপুল থানার গুটিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে রয়েছে বাইতুল আমান জামে মসজিদ। গুটিয়া মসজিদ নামেই যা পরিচিত। মসজিদটি নির্মাণ করেছেন উজিরপুরের গুটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সানটু। তিনি ২০০৩ সালে মসজিদটির তৈরি শুরু করেন। ২০০৬ সালে নির্মাণ শেষে মসজিদটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এটি অন্যতম বৃহৎ একটি জামে মসজিদ। মসজিদটির বাইরে একটি স্তম্ভ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে মুসলমানদের কাছে পবিত্র এমন বেশ কিছু জায়গা যেমন- আরাফার ময়দান, নবীজির জন্মস্থান, মা হাওয়ার কবরস্থান, খলিফাদের কবরস্থান, কাবা শরিফ, মসজিদে রহমত, জাবালে রহমত, জাবালে নূর প্রভৃতির মাটি। মসজিদ কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠেছে ১৪ একর জমির ওপর। বর্তমানে এখানে মসজিদের সঙ্গে ঈদগাহ, এতিমখানা, কবরখানা, রেস্টহাউস, পুকুর, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিং এরিয়া, ফুলবাগান, নার্সারি প্রভৃতি রয়েছে। কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথে ঢুকেই বাম দিকে ১৯৩ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট বিশাল মিনারসহ ২০ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। গোলাপি, সাদা, ক্রিম ও হলুদ রঙে তৈরি মসজিদটির সৌন্দর্য এক কথায় অপূর্ব। মসজিদের সামনে ফিরোজা এবং নীল রঙের মিশেলে টাইলস নির্মিত ২টি ফোয়ারা। মসজিদের প্রবেশপথের সামনে, ভেতরে চার কোণার চার গম্বুজের নিচে এবং উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোয় শোভা পাচ্ছে আল কোরআনের বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি। মাঝখানে কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে বৃত্তাকারে সূরা আর রহমানের ক্যালিগ্রাফি। সুদৃশ্য দরজা, মহামূল্যবান ঝাড়বাতি, সিরামিক, গ্লাস, মার্বেল এবং গ্রানাইট পাথরে সজ্জিত মসজিদের অভ্যন্তর ভাগ। মসজিদের ভেতর ৪০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং বাইরের অংশে আরও ৫০০০ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন। মহিলাদের জন্যও পৃথক অংশে আছে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। এ ছাড়া সুবিশাল ঈদগাহ ময়দানটিতে একসঙ্গে ২০,০০০ লোকের ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদটির ৪ পাশ, প্রবেশপথ ছাড়া সামনের পুরো অংশ, দুই পাশ এবং পেছনের পুরোটাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে পরিখা। যা নিরাপত্তার পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। মসজিদের সামনেই শান্ত, স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ এক মনোরম পুকুর। পুকুরটিতে মধ্য দুপুরে পুরো মসজিদটির ছায়া প্রতিফলিত হয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করে। মোজাইক করা পুকুরের ওজুর ঘাটটি পুকুরটিতে যোগ করেছে এক অন্যরকম আভিজাত্য আর সৌন্দর্য। একই সাইজের ২টি কাঠবাদাম গাছ ঘাটটিকে ছায়াময়, মায়াময় করে জড়িয়ে আছে যেন।

মসজিদের উত্তর পাশে আছে ২ তলা একটি ভবন। এখানে কমপ্লেক্সের অফিস, এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা। পূর্ব দক্ষিণ কোণে কবরখানা। পেছনের অংশে হেলিপ্যাড এবং বাগান। কমপ্লেক্সজুড়েই অপরূপ সবুজের ছোঁয়া। প্রায় একই উচ্চতার সারিবাঁধা নানা গাছ, পরিখায় রাজহাঁসের দুরন্ত বিচরণ। এত গেল দিনের ছবি। অসংখ্য আলোকমালায় সজ্জিত হয়ে রাতের বাইতুল আমান যেন আরও নয়নাভিরাম। তাই এখানে গেলে আসর এবং মাগরিবের ওয়াক্তকে সামনে রেখে যেতে পারেন বিকালের দিকে।

নামাজ তো পড়বেনই। একই সঙ্গে দিন এবং রাতের মসজিদের শোভা উপভোগ করতে পারবেন পাঠক।

লেখক : রন্ধনশিল্পী

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×