জবানে দরুদ নয়নে রাসূল

  সৈয়দ হুমায়ুন কবীর ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহ পাক তার রহমত ও করুণায় রাসূল (সা.)কে নিজের সঙ্গে এমনভাবে সম্পৃক্ত রেখেছেন যে- ‘রাসূলের আনুগত্য করলে আল্লাহর আনুগত্য হয় (৪:৮০ দ্রষ্টব্য)।’ আল্লাহ পাক রাসূল (সা.) কে মানুষের সামনে দাঁড় করিয়েছেন আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র উসিলা হিসেবে। আল্লাহ পাক নিজের জ্ঞান-চক্ষু রাসূল (সা.) কে দান করেছেন (৬:১০৪)। যিনি রাসূল (সা.) কে দেখেছেন তিনি আল্লাহর জ্ঞান-চক্ষু দুটিই দেখেছেন- তিনি সম্পূর্ণ কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছেন। যিনি সুযোগ পেয়েও রাসূল (সা.) কে দেখেনি আল্লাহর জ্ঞান এবং চক্ষু কোনোটাই দেখেনি। ইহকাল ও পরকালে অন্ধ তিনি। রাসূল পাক আল্লাহর প্রতি এমনইভাবে আনুগত্যশীল যে আল্লাহ পাক সন্তুষ্টির সঙ্গে তাঁর ফেরেশতাকুল নিয়ে নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠান।

্ইমানদার মুমিনদের আল্লাহপাক নবী করিম (সা.)-এর ওপর দরুদ ও আদবের সঙ্গে সালাম পাঠাতে হুকুম করেছেন (৩৩:৫৬ দ্রষ্টব্য)। রাসূল পাকের সঙ্গে আল্লাহতায়ালার দরুদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক রহমত, বরকত, শান্তি ধারা প্রবাহমান। নবী করিম (সা.)-এর ওপর আনুগত্যের সঙ্গে যারা দরুদ সালাম পাঠাবে তারাই ইমানদার মুমিন হবে। ইমানদার মুমিন হওয়ার অন্য কোনো উপায় বা কায়দা নেই। নবীর ওপর দরুদ সালাম পাঠকারী একমাত্র ইমানদার মুমিনদের ওপর আল্লাহ পাক তার ফেরেশতাকুলসহ দরুদ পাঠান (৩৩:৪৩ দেখে নিন)। মুমিন হলে নবী করিম (সা.)-এর ওপর দরুদ সালাম পাঠাতে হবেই। নবী (সা.) জীবিত না মৃত এটা ভাবা যাবে না। এ হাদিস থেকে রাসূলে পাকের ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব বোঝা যায়-

হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিন আমার প্রতি বেশি দরুদ পাঠ করবে। কেননা, জুমার দিন আমার কাছে দরুদ পৌঁছানো হয়, ফেরেশতারা তা পৌঁছিয়ে দেন। যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পাঠ করে, তা থেকে সে বিরত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার সামনে পেশ হতে থাকে। রাবি বলেন, আমি বললাম : ইন্তেকালের পরও? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, ইন্তেকালের পরও। আল্লাহর নবী জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেয়া হয়। -ইবনে মাজাহ থেকে নেয়া।

হাদিসে রাসূল (সা.) ও আহলাল বাইতের ওপর দরুদ সালাম পাঠাতে হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, কাব ইবনে উজরা (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন এক হাদিস হাদিয়া দেব না, যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে শুনেছি? আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন, আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের ওপর আমরা কি দরুদ পড়ব? কেননা আপনার ওপর সালাম পাঠের পদ্ধতি তো আল্লাহ নিজেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন এখন আহলে বাইতের ওপর দরুদ পাঠের তরিকাও বলে দিন। তিনি বললেন, তোমরা পড়- হে আল্লাহ মোহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ কর যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরের প্রতি রহমত বর্ষণ করেছ। হে আল্লাহ মোহাম্মদ (সা.) ও তাঁর বংশধরের ওপর বরকত দান কর যেভাবে ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর বংশধরের প্রতি বরকত দান করেছ।

রাসূল প্রেমের ও আওলাদে রাসূল প্রেমের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে দরুদ পাঠ করা। আল্লাহ পাক নবী এবং নবী বংশধরদের সমগ্র সৃষ্টিগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। দরুদ পাঠে নবী এবং নবী বংশধর আওলাদে রাসূলদের শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। আল্লাহ প্রদত্ত রাসূল (সা.) ও আওলাদে রাসূলদের শ্রেষ্ঠত্ব মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে তাদের সঙ্গে ভালোবাসা মহব্বত আনুগত্যশীলতার সম্পর্ক রাখতে হবে। হে আল্লাহ মোহাম্মদ (সা.) ও তার বংশধরের ওপর রহমত ও বরকত দান কর।

লেখক : প্রাবন্ধিক

টেপেরবাড়ী দরবার শরিফ, ধামরাই, ঢাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×