১৯ বছরে ইসলাম ও জীবন

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আল ফাতাহ মামুন

১৯ বছরে ইসলাম ও জীবন

নতুন শতাব্দী। নতুন সূর্য। মিডিয়ার আকাশে উঁকি দিয়েছে নতুন কাগজ। সালের ১ ফেব্রুয়ারি সত্যের সন্ধানে নির্ভীক পথচলা শুরু হয় দৈনিক যুগান্তরের। অল্প সময়ে পাঠকের অন্তরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যুগান্তরের আলো।

সব কালো মুছে দিয়ে ভালোর আলো ছড়াতে যুগান্তরের ফিচার পাতা ‘ইসলাম ও জীবনে’র অবদান শুরু থেকেই ছিল অনন্য-অনবদ্য। এখন পর্যন্ত ধর্মপ্রমাণ মুসলমানের হৃদয়জুড়ে ভালোবাসার আসনটি দখল করে আছে ইসলাম ও জীবন পাতা।

তখনও ধর্মীয় প্রকাশনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। বিজ্ঞানের আলো জ্বলেনি মুসলামনের আত্মায়। মাদ্রাসাগুলো ছিল পত্রিকাবিরোধী। সাহিত্য ভাবনা এবং লেখালেখিকে দেখা হতো বাঁকা চোখে। মাতৃভাষা চর্চার মাঠ তখনও ফাঁকাই ছিল মাদ্রাসা পড়–য়াদের জায়গাটুকু।

ঠিক এমন সময়েই যুগান্তরের আকাশে ইসলাম ও জীবন উঁকিয়ে দেয় ‘থাকব না কো বদ্ধ ঘরের’ সবক নিয়ে। দেখব এবার জগৎটাকে- এই ব্রত নিয়ে মাদ্রাসা পড়–য়া এবং ধর্মভাবুকদের মনের দুয়ারে কড়া নাড়ে হাফেজ্জী হুজুরের (রহ.) স্নেহধন্য কলম সাধক ও সুফি লেখক হাফেজ আহমাদ উল্লাহ। তার নিবিড় যত্নে ইসলাম ও জীবন পাতা মন কেড়ে নেয় কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের।

দেশের এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত থেকে শত শত পাঠকের অনুভূতি আসতে থাকে হলুদ খামে ভরে। পাঠকদের অধিকাংশই জানাত- এমন একটি পাতাই তারা খুঁজছিল মনে মনে। যেখানে থাকবে ধর্ম-বিজ্ঞান-মুসলিম বিশ্বের সব খবরাখবর। থাকবে আধ্যাত্মিকতা এবং আধুনিতার অপরূপ মিশেল।

শুরুতেই ইসলাম ও জীবন কতটা জনপ্রিয় ছিল তা বোঝা যায় মাত্র ছয় মাস পর বিভাগীয় সম্পাদকের এক টুকরা লেখা থেকে। ২৫ আগস্ট দু’হাজার সংখ্যায় ইসলাম ও জীবনের সম্পাদক লেখেন- ‘প্রিয় পাঠক! সালাম নিন।

গত সপ্তাহে সাড়ে পাঁচশ পত্র পেয়েছিলাম। আপনাদের প্রতিটি পত্রে লুকিয়ে থাকে গ্রাম বাংলার সবুজ আর বহমান নদীর কলকল সুর।’ মাত্র এক সপ্তাহে সাড়ে পাঁচশ চিঠি জমা পড়েছে! ভাবতে পারেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ কীভাবে লুফে নিয়েছিল ইসলাম ও জীবনকে!

শুধু চিঠির খামেই সীমাবদ্ধ ছিল না পাঠকের ভালোবাসা। বিভাগীয় সম্পদাকের আহ্বানে পাঠকের মনের আকাশে ডানা মেলে লেখক হওয়ার স্বপ্ন পাখি। মাদ্রাসার চার দেয়ালে বন্দি ছেলেটিও লুকিয়ে লুকিয়ে ভাঙা বানানে পাঠিয়ে দেয় প্রথম লেখাটি।

একদিন ভয়ে ভয়ে ইসলাম ও জীবন খুলে দেখে সম্পাদকের কলমের নিড়ানি পেয়ে ভাঙা বানানের লেখাটি ফুটে আছে সবুজ চারা-বৃক্ষের মতো। সেই চারা আজ সাহিত্যের বাগানে মহিরুহ হয়ে ছায়া দিচ্ছে হাজারো নতুন চারাকে। যুগান্তরের লেখক আজ মাদ্রাসাগুলোতে সাহিত্যের শিক্ষক। ইসলামের পাতার কন্ট্রিবিউটর আজ জাতীয় দৈনিকের বিভাগীয় সম্পাদক।

অনলাইন পত্রিকার প্রধান সম্পাদককও কেউ কেউ। শাকের হোসাইন শিবলী, হুমায়ূন আইয়ুব, রোকন রাইয়ান, শরীফ মুহাম্মাদ, মুফতি আহসান শরিফ, আলী হাসান তৈয়বসহ হালের বহু আলেম সাংবাদিক এ পাতার চারা-বৃক্ষ ছিলেন।

ইসলামকে যুগোপযোগী ও আধুনিক ধর্ম হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থাপনে ইসলাম ও জীবন পাতা এখনও অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে এ দেশের মুসলমানদের পরিচয় ইসলাম ও জীবন পাতাই করিয়ে দিয়েছে। খতিবদের আধুনিকায়ন, ধর্মীয় সেক্টরের সমস্যা-সম্ভাবনা এবং বিশ্ব ইজতেমাকে মিডিয়ার চোখে-ক্যামেরার লেন্সে যুগান্তরই প্রথম বন্দি করেছে। ১৯ বছরে পা রেখেছে যুগান্তর। পাঠকের দোয়া ও ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে যুগ যুগান্তরের যুগান্তর। এগিয়ে যাবে ইসলাম ও জীবন- এই প্রার্থনাই করছি আল্লাহর দরবারে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

E-mail : [email protected]