ইজতেমার বয়ান লাইভে দেখতে চাই

  আহনাফ আবদুল কাদির ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব ইজতেমার বয়ানের মিম্বার। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব ইজতেমার বয়ানের মিম্বার। ছবি: সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে মানুষের মন ও মগজ, রুচি ও চাহিদা। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সময়ের গতি আরও গাতিময় হয়ে উঠছে। যাপিত জীবন চলছে দ্রুততায়। জীবনের তাল, লয়, আর হিসাব-নিকাশে পরিবর্তন আসছে প্রতিনিয়ত। এ পরিবর্তীত জীবনধারায় মানুষ যাতে স্রষ্টাকে ভুলে গিয়ে সৃষ্টির পূজারি না হয়; বরং সৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে স্রষ্টাকে খুঁজে পায় সেই নির্দেশনাই ধর্ম দিচ্ছে।

তাই যুগে যুগে সময়ের চাহিদা ও মানুষের মননের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন অসংখ্য পথপ্রদর্শক- নবী ও রাসূল। যারা সবাই ছিলেন যুগবিখ্যাত জ্ঞানী। সমকালীন বিদ্যায় পারদর্শী। আল্লাহতায়ালা তাদের ঐশী বাণীর মাধ্যমে শিখিয়েছেন যুগ সমস্যার সমাধান। তারা তাদের দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে ব্যবহার করেছেন সময়োপযোগী সব উপকরণ।

যুগের পরিক্রমায় সর্বশেষ ঐশী বাহক হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বাধুনিক জ্ঞানের ভাণ্ডার পবিত্র কোরআনুল কারিম নিয়ে এসেছেন আমাদের কাছে। যার বৈশিষ্ট্য সম্পর্র্কে বলা হয়েছে, ‘মা র্ফারাতনা ফিল কিতাবি মিন শাই- কোনো কিছুই এই বইয়ে আমি বাকি রাখিনি’। ‘ইয়াসিন। ওয়াল কোরআনিল হাকিম- বিজ্ঞানময় কোরআনের শপথ’। অথচ সবকিছুর বর্ণনা যেই কোরআনে রয়েছে, যেই গ্রন্থকে বিজ্ঞানময় গ্রন্থ বলা হয়েছে আমরা কিনা সেই গ্রন্থকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিরোধী মনে করছি! কালজয়ী সেই গ্রন্থকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানকে উপেক্ষা করতে চাইছি! অথচ পবিত্র কোরআনুল কারিম আমাদের সামনে বিজ্ঞানের এমন জ্ঞান উন্মুক্ত করে দিতে চায় যা সব অবাস্তব কল্পকাহিনীকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিতে পারে এবং সব দুষ্ট প্রযুক্তি ও নষ্ট মিডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। ইন্টারনেটের যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আজকের এই যুগে বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনগোষ্ঠী বিজ্ঞান, মিডিয়া ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের শাশ্বত বাণী প্রচার-প্রচারণা ও গবেষণায় মগ্ন হলে তবেই ফিরে পেতে পারে ইতিহাসের সোনালি আসন।

এ যুগে ইসলামের দাওয়াত ও তাবলিগ বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে প্রতিটি অশান্ত হৃদয়ে, প্রতিটি জনপদে। ইসলামকে যুগোপযোগীভাবে উপস্থাপনে কৌশলগত প্রদক্ষেপ গ্রহণ ও সব ধরনের উগ্রতা ও অনৈতিকতাকে প্রতিরোধ করে সুন্দরতম পন্থা ধারণ করাই কোরআনের নীতি। ‘ডাকো! তোমার রবের পথে যুগোপযোগী কৌশলে, দরদি উপদেশ দিয়ে। আর বিরোধীদের মোকাবেলায় সুন্দরতম উপায় অবলম্বন কর’ (সূরা নাহল : ১২৫)।

যদিও এতদিনে বহু দেরি হয়ে গেছে তবু আশার বাণী হচ্ছে আজ এই সত্য কোরআন গবেষক ও মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরা কিছুটা উপলব্ধি করতে শিখেছে। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথীর মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ইন্টারনেটের মোকাবেলা করতে হবে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই। কম্পিউটারের মোকাবেলায় কম্পিউটার আর কলমের মোকাবেলায় ব্যবহার করতে হবে কলম। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিশ্বের নেতৃত্ব আবারও মুসলিম উম্মাহকেই দিতে হবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা ধর্মপরায়ণ এক যুব প্রজন্ম তৈরি করতে চাই। যারা আধুনিক, গণতন্ত্র ধারণকারী ও গণতান্ত্রিক। যারা নাস্তিক নয়; জাতির নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে যারা বুকে লালন করবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব এখন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মুসলিম বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী স্কলার্সদের সময়োপযোগী ব্যাখ্যা ও পবিত্র হজসহ সব ধর্মীয় সম্মেলনের দৃশ্য এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সব ধর্মের মানুষের কাছে। যার ফলশ্রুতিতে পুরো বিশ্বে ইসলামের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামের সৌন্দর্যকে দেখার সুযোগ পেয়ে মানুষ আত্মসমর্পণ করছে স্রষ্টার কাছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামের কালজয়ী দাওয়াত ছড়িয়ে দিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশেও প্রতি বছর আয়োজিত হয় বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্বের প্রতিটি জনপদ থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ হাজির হয় ঐতিহাসিক তুরাগের ইজতেমা মাঠে। দরদি কণ্ঠে চলে দ্বীনের দায়ীদের বয়ান। সেই বয়ান থেকে ইমানের পথিকরা খুঁজে নেয় ইমানের প্রাণচঞ্চল সজীবতা।

কিন্তু দুখের বিষয় হচ্ছে, ইজতেমার এ কালেমার দাওয়াতে আজও লাগেনি প্রযুক্তির ছোঁয়া। শুধু মাইকের আওয়াজ যতদূর যায় ততদূরই শোনা যায় ইজতেমার বয়ান। ইজতেমায় না আসা শতকোটি মানুষের কাছে ইমানজাগানিয়া শান্তির বার্তা পৌঁছানোর কোনো ব্যবস্থা আজও নেই বললেই চলে। নেই বয়ানের লাইভ ব্রডকাস্টিং ব্যবস্থা, বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং, সিডি-ভিসিডির সুবিধা ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা। ফলে শান্তির বার্তা অশান্ত পৃথিবীর গণ্ডি পেরোতে পারেননি আজও। ইমানের বীজ থেকে যাচ্ছে বীজই। সেই বীজ থেকে অঙ্কুরিত হচ্ছে না ফুলে-ফলে সুশোভিত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ইমানদীপ্ত গাছের। আল্লাহতায়ালা আমাদের দ্বীনের সহি বুঝ দান করুন।

লেখক : ধর্মীয় শিক্ষক, মহুয়ামায়া হানাফিয়া উচ্চবিদ্যালয়, চাঁদপুর

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×